দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশে স্থিতিশীল কর নীতি প্রবর্তনের এবং ব্যবসায় পরিবেশ উন্নয়নের আহ্বান জানিয়েছে দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে গঠিত বিভিন্ন চেম্বার। ধাপে ধাপে করপোরেট করহার কমানো, ভ্যাট ব্যবস্থাকে সহজ করা এবং বাণিজ্যবাধা দূর করার প্রস্তাবও উত্থাপন করা হয়।
গতকাল রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। অংশ নেন বাংলাদেশে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স (অ্যামচেম), ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (আইবিসিসিআই), বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই) এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন চেম্বার অব কমার্স। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ওমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও ওমেন এন্টাপ্রেনিউরস নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন।
অ্যামচেম বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি কর নিশ্চয়তার গুরুত্ব তুলে ধরে বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে করপোরেট করহার কমানো এবং স্থিতিশীল কর কাঠামো প্রবর্তনের প্রস্তাব দেয়। অ্যামচেমের মতে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনার জন্য ধারাবাহিক ও অনুমানযোগ্য নীতি অপরিহার্য।
চেম্বারের প্রস্তাবে কর কাঠামো সহজ করা, অতিরিক্ত বা দ্বৈত করের বোঝা কমানো, ন্যূনতম করহার যৌক্তিক করা এবং খাতভিত্তিক সমান করনীতি নিশ্চিত করার গুরুত্ব বলা হয়েছে। মিষ্টি ও কোমলপানীয় জাতীয় পণ্যের সম্পূরক শুল্ক কমানোর সুপারিশও করা হয়েছে। অ্যামচেম প্রেসিডেন্ট সৈয়দ এরশাদ আহমেদ বলেন, “এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ভারসাম্যপূর্ণ, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক কর ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। পাশাপাশি টেকসই রাজস্ব আহরণও সম্ভব হবে।” তিনি দেশে নীতি আন্তর্জাতিক চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার পাশাপাশি অগ্রিম কর রুলিং ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দেন।
বাংলাদেশে ইউরোপিয়ান চেম্বারের চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ কর ব্যবস্থাকে পূর্বানুমানযোগ্য করার, উচ্চ শুল্ক সুরক্ষা কমানোর, ভ্যাট সহজ করার এবং বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর করার প্রস্তাব দেন। বিসিসিসিআইর সভাপতি খোরশেদ আলম বিদেশিদের জন্য সম্পত্তিতে করহার কমানোর আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশে কর্মরত অনেক চীনা নাগরিক স্থানীয়ভাবে সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী নয়। তারা সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মতো দেশে বিনিয়োগে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। সিঙ্গাপুরে করহার প্রায় ৭ শতাংশ, অথচ বাংলাদেশে তা ৩৫ শতাংশের বেশি।”
ওমেন চেম্বারের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়, সেবা খাতের ওপর ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে নারীদের জন্য ৪ শতাংশে আনা হোক। ওমেন এন্টাপ্রেনিউরস নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন নারীদের ভ্যাট রিটার্ন মাসিকের পরিবর্তে বার্ষিক ভিত্তিতে করার প্রস্তাব দেন।
সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে রাজস্ব বাড়ানোর চাপ রয়েছে। তবু আসন্ন বাজেটে ব্যবসায়-বান্ধব কর কাঠামো বজায় রাখার চেষ্টা করা হবে। তিনি জানান, পণ্য আমদানিতে বিভিন্ন পর্যায়ে অগ্রিম কর আদায়ের কারণে ব্যবসায়ীদের বড় অঙ্কের মূলধন দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। আগামী অর্থবছর থেকে কোনো ব্যক্তির আয় অনুযায়ী অতিরিক্ত কর কেটে নেওয়া হলে তা সরাসরি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে রিফান্ড করা হবে। ন্যূনতম কর কমানোর পরিবর্তে আড়াই শতাংশে বাড়ানোর কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

