দেশে মাথাপিছু আয় বেড়ে ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আগামী ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয়।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী মাথাপিছু আয় বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে সরকার শুধু এ অর্জনে থেমে থাকতে চায় না, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তুলতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং নতুন খাত উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সৃজনশীল অর্থনীতি ও ক্রীড়া অর্থনীতিকেও সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, কর্মসংস্থান বাড়াতে উৎপাদন, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাতে জোর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে বেসরকারি বিনিয়োগ সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়ন সুবিধা বাড়ানো, নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তা এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কারিগরি প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে বলে জানানো হয়।
এছাড়া বৈধ পথে প্রবাস আয় পাঠানো সহজ করা এবং রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানোর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগের কিছু ইতোমধ্যে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে, আর বাকিগুলো ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে। তার মতে, সমন্বিত এসব পদক্ষেপ ভবিষ্যতে অর্থনীতির ভিত্তি আরও শক্তিশালী করবে এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে।

