আন্তঃজেলা যোগাযোগ জোরদার করতে মেঘনা নদীর ওপর দুটি বড় সেতু নির্মাণে নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেলে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বরিশাল ও ভোলা জেলার মধ্যে ১০.৮৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি চাঁদপুর ও শরীয়তপুরের মধ্যে মেঘনা নদীর ওপর প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ আরেকটি সেতু গড়ে তোলার প্রস্তাব রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রকল্প দুটি নীতিগত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।
প্রস্তাবিত বরিশাল-ভোলা সেতুটি দৈর্ঘ্যের দিক থেকে যমুনা সেতুর দ্বিগুণেরও বেশি হবে। এটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা, যা পদ্মা সেতুর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। অন্যদিকে শরীয়তপুর-চাঁদপুর সড়কে প্রস্তাবিত সেতুটির দৈর্ঘ্যও যমুনা সেতুর প্রায় দ্বিগুণ এবং এর সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা।
রাজনৈতিক অঙ্গীকারের দিক থেকেও প্রকল্প দুটি গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে যেমন এ সেতুগুলোর উল্লেখ রয়েছে, তেমনি আওয়ামী লীগ সরকারও আগে এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনি ইশতেহারেও নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সেতু বিভাগ প্রকল্প দুটি পিপিপির আওতায় বাস্তবায়নের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে। অনুমোদন মিললে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারী খোঁজার পাশাপাশি বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ ফেরদৌস বলেন, সরকারের আর্থিক চাপ কমাতেই পিপিপি মডেল বেছে নেওয়া হয়েছে। বিশ্বজুড়েই বড় অবকাঠামো প্রকল্পে এ ধরনের অংশীদারত্ব এখন প্রচলিত। তিনি জানান, প্রকল্প দুটি জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং বাস্তবায়নের দাবি দীর্ঘদিনের। তবে এখনো কোনো নির্দিষ্ট বিনিয়োগকারীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়নি।
চাঁদপুর-শরীয়তপুর অংশে বর্তমানে ফেরির মাধ্যমে যানবাহন চলাচল করছে। সেখানে সেতু নির্মিত হলে খুলনা ও বরিশালের সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেটের যোগাযোগ সহজ হবে এবং যাতায়াতের সময় কমে আসবে। সেতু বিভাগ মনে করছে, এ সেতু চালু হলে এসব অঞ্চলের যানবাহনকে আর ঢাকায় প্রবেশ করতে হবে না।
এ ছাড়া বেনাপোল-ভোমড়া স্থলবন্দর এবং মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে চট্টগ্রাম-খুলনা রুটে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরত্ব কমবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩৩ সালের মধ্যে চাঁদপুর-শরীয়তপুর সেতু নির্মাণ শেষ হতে পারে এবং তখন প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার যানবাহন চলাচল করবে।
অন্যদিকে বরিশাল-ভোলা সড়কের তেঁতুলিয়া ও কালাবাদর নদীর ওপর প্রস্তাবিত সেতুর জন্য ২০২০ সালে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হয়। পরে তা পর্যালোচনা করে নতুন প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। সেতু বিভাগ জানিয়েছে, ২০৩২ সালের মধ্যে এ সেতু নির্মাণ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে এবং তখন দৈনিক প্রায় ৫ হাজার ২০০ যানবাহন চলাচল করবে।

