বছর ২০২৪-২৫ তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। এই সময়ে ব্যবসায়িক মুনাফা কোভিড পরবর্তী সময়ের সবচেয়ে কম স্তরে নেমেছে। মূল কারণ হিসেবে দেখা গেছে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, ঋণের ব্যয় বৃদ্ধি, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সীমিত সরকারি ব্যয়।
মুনাফার অবস্থা:
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৫৩টি তালিকাভুক্ত কোম্পানির গড় নেট মুনাফার হার ৫.২৯ শতাংশে নেমেছে। এর আগের বছর এটি ছিল ৭.৮৫ শতাংশ। এর চেয়ে আরও আগের বছরগুলিতে ৬.৭৪ এবং ৯.২৬ শতাংশ ছিল। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমায় এবং বিক্রয় বৃদ্ধির গতি ধীর করে। ফলে উৎপাদন ও পরিচালনার খরচ বাড়ে এবং মুনাফা কমে যায়।
খাতভিত্তিক পারফরম্যান্স:
প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে ১৫৮টি কোম্পানি অন্তর্ভুক্ত। তবে কিছু কোম্পানি—যেমন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহকারী, তেল উৎপাদনকারী—সাময়িক বা অস্বাভাবিক মুনাফার কারণে পরিসংখ্যান থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফুয়েল খাতের কিছু কোম্পানির মুনাফা অত্যধিক হওয়ায় তাদের হিসাব সরাসরি সামগ্রিক মুনাফায় প্রভাব ফেলবে। অন্যান্য খাতের গড় নেট মুনাফা:
- তথ্য প্রযুক্তি খাত: ১২.৭৬%
- চামড়া শিল্প: ১০.৩%
- ঔষধ শিল্প: ৮.৮%
- বিদ্যুৎ খাত: ৭.০৮%
- হোটেল খাত: ৭%
- সিরামিক শিল্প: ৫.২৯%
- প্রকৌশল খাত: ৫%
- খাদ্য ও সংশ্লিষ্ট শিল্প: ৪.৫৩%
- বস্ত্র খাত: ৪.৪%
- সিমেন্ট শিল্প: ০.৯৩%
নির্মাণ খাতের মুনাফা কমার কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া। কাগজ খাতের মুনাফা নেতিবাচক হয়েছে, মূলত বড় কোম্পানির ক্ষতির কারণে।
ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ: কোম্পানিগুলি মুখোমুখি হয়েছে নানা আর্থিক সমস্যার কারণে, যেমন:
- বৈদেশিক মুদ্রার দর বৃদ্ধি
- কাঁচামালের দাম উর্ধ্বগতি
- আমদানি সীমাবদ্ধতা
- ব্যাংক লেনদেনে জটিলতা
- ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি
- ডলারের সীমিত সরবরাহ
এই চ্যালেঞ্জগুলো কাঁচামাল আমদানিতে বাধা সৃষ্টি করেছে, উৎপাদন ও সরবরাহ চেইন বিঘ্নিত হয়েছে এবং আর্থিক ক্ষতি বেড়েছে। শিল্পখাতের বড় ও ছোট প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ ঘাটতি ও অনিয়মিত পাওয়ার সরবরাহে সমস্যায় পড়েছে। ফলে বিকল্প শক্তির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়ে খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে।
নির্বাচনের বছরগুলোতে সাধারণত মুনাফা কমে যায়। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা ব্যবসার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পও গত বছর ধীরগতি পেয়েছে, যা বিভিন্ন খাতকে প্রভাবিত করেছে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অস্থিরতা এবং তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে দেশের মুদ্রার মান আরও দুর্বল হতে পারে। এতে বড় ঋণ থাকা কোম্পানি এবং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি বাড়বে। বিশেষ করে রফতানিমুখী কোম্পানি ছাড়া অন্যান্য খাতের প্রতিষ্ঠান প্রভাব অনুভব করবে।

