দেশের অর্থনৈতিক ইউনিট বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি অংশ পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ের। নতুন অর্থনৈতিক শুমারি-২০২৪-এর ন্যাশনাল রিপোর্ট অনুযায়ী, মোট ৪০.১৯ শতাংশ অর্থনৈতিক ইউনিট এই খাতে অন্তর্ভুক্ত। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পরিবহন ও মজুত খাত, যেখানে ইউনিটের সংখ্যা ২২.২২ শতাংশ। উৎপাদন খাতের ইউনিটের পরিমাণ ৯.৫৭ শতাংশ, এবং আবাসন ও খাদ্যসেবা খাতের ৮.১১ শতাংশ ইউনিট রয়েছে।
রিপোর্টটি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি। সভাপতিত্ব করেন বিবিএসের মহাপরিচালক মো. ফরহাদ সিদ্দিক, বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব আলেয়া আক্তার এবং পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, “পূর্ববর্তী সরকারের সময় তথ্য নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন ছিল। তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করতে হবে। মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য সঠিক তথ্য অপরিহার্য।”
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২৪ সালের ১০ থেকে ২৬ ডিসেম্বর দেশের চতুর্থ অর্থনৈতিক শুমারি পরিচালনা করা হয়। ২৯ জানুয়ারি শুমারির প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্ল্যাসিফিকেশন (বিএসআইসি) এবং বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রোডাক্ট ক্ল্যাসিফিকেশন (বিসিপিসি) অনুযায়ী তথ্য যাচাই-বাছাই, বিশ্লেষণ ও শিল্প ক্যাটেগরিতে বিন্যস্ত করে চূড়ান্ত ন্যাশনাল রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়।
ইউনিট সংখ্যা বেড়েছে ৪৯.৬৮ শতাংশ:
২০২৪ সালে দেশের মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ, যা ২০১৩ সালের তুলনায় ৪৯.৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পল্লী ও শহর উভয় এলাকায় অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়েছে। পল্লী অঞ্চলে ৭৩ লাখ ৮৬ হাজার, শহরে ৪৩ লাখ ১৭ হাজার ইউনিট রয়েছে।
সর্বাধিক ইউনিট ঢাকা বিভাগে:
মোট ইউনিটের ৫৩.৫৭ শতাংশ স্থায়ী প্রতিষ্ঠান। সর্বাধিক ইউনিট রয়েছে ঢাকা বিভাগে (২৭.০৮%), সবচেয়ে কম সিলেট বিভাগে (৪.৬৭%)। চট্টগ্রামে ১৭.৫১%, রাজশাহীতে ১৪.৩৬%, খুলনায় ১২.৭৩%, রংপুরে ১১.৪১%, ময়মনসিংহে ৬.৬৩%, বরিশালে ৫.৬১% ইউনিট রয়েছে।
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক মালিকানার প্রাধান্য:
স্থায়ী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক মালিকানার ইউনিট সর্বাধিক, ৮৭.৩৬ শতাংশ। অন্য প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে অলাভজনক ৬.৩৯%, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ২.২২%, প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি ১.৮২%, অংশীদারিত্বভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ১.৪৪%।
সেবা খাতের প্রাধান্য: দেশের অর্থনৈতিক ইউনিটের ৯০.০২ শতাংশই সেবা খাতে, শিল্প খাতের ইউনিটের সংখ্যা ৯.৮৯ শতাংশ।
মাইক্রো ও কুটির শিল্পে বেশি ইউনিট: মোট ইউনিটের মধ্যে ৫৬.৬৭ শতাংশ মাইক্রো শিল্প, ৩৮.৭৪ শতাংশ কুটির শিল্প। ক্ষুদ্র শিল্প ৪.২০%, মাঝারি শিল্প ০.৩১%, এবং বৃহৎ শিল্প ০.০৮%।
প্রধান সমস্যা: মূলধনের অভাব:
শুমারিতে প্রায় ৮৬% উদ্যোক্তা উল্লেখ করেছেন, ব্যবসা পরিচালনার প্রধান সমস্যা হলো মূলধনের অভাব। এছাড়া ঋণ প্রাপ্তি জটিলতা, দক্ষ শ্রমশক্তির অভাব, কাঁচামাল কম, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, পণ্য বিপণনের সমস্যা, পর্যাপ্ত অবকাঠামো না থাকা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সরকার সহজে ব্যবসা পরিচালনার জন্য বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে অগ্রাধিকার নিয়েছে।”

