বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সম্প্রসারণের ধারা বজায় থাকলেও গতি কমার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে মার্চ মাসের সূচকে। সর্বশেষ পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) বলছে, ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে সূচক ২ দশমিক ২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫৩ দশমিক ৫-এ।
মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ঢাকা এবং পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের যৌথ প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। গতলাল বুধবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হয়।
পিএমআই সূচকের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ১০০-এর মধ্যে ৫০-এর বেশি স্কোর অর্থনীতির সম্প্রসারণ নির্দেশ করে। বিপরীতে ৫০-এর নিচে থাকলে তা সংকোচনের ইঙ্গিত দেয়। আর ঠিক ৫০ হলে কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে ধরে নেওয়া হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃষি খাত টানা সপ্তম মাসের মতো সম্প্রসারণ ধরে রেখেছে। তবে মার্চে এর গতি কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে, টানা ১৮ মাস সম্প্রসারণের পর উৎপাদন খাত প্রথমবারের মতো সংকোচনে পড়েছে। নতুন অর্ডার, রপ্তানি, সমাপ্ত পণ্য, আমদানি এবং কর্মসংস্থান—এই সূচকগুলোতে দুর্বলতা দেখা যাওয়ায় এ খাতে পতন নেমে এসেছে।
নির্মাণ খাতেও ধারাবাহিক দুর্বলতা বজায় রয়েছে। টানা দ্বিতীয় মাসের মতো এ খাতে সংকোচন হয়েছে। নতুন ব্যবসা এবং নির্মাণ কার্যক্রম কমে যাওয়াই এর প্রধান কারণ।
তবে পরিষেবা খাতে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত আছে। টানা ১৮ মাস ধরে এই খাত সম্প্রসারণে রয়েছে এবং মার্চে এর প্রবৃদ্ধির গতি সামান্য বেড়েছে।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এম মাসরুর রিয়াজের মতে, মার্চের পিএমআই সূচক সামগ্রিক অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে উৎপাদন খাতের মন্দা পরিস্থিতিই এই ধীরগতির প্রধান কারণ।

