এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (এনসিসি)-এর জন্য পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু-সহনশীল নগর পরিষেবা উন্নয়নে ১১ কোটি ৫৮ লাখ মার্কিন ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে।
গতকাল শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে ম্যানিলায় অবস্থিত এডিবির সদর দফতর থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এডিবি জানায়, ‘নারায়ণগঞ্জ সবুজ ও স্থিতিস্থাপক নগর উন্নয়ন প্রকল্প’ শীর্ষক এই উদ্যোগের মাধ্যমে শহরের পানীয় জলের সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত করা হবে। একই সঙ্গে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং সবুজ গণপরিসর সম্প্রসারণ করা হবে। প্রকল্পটি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্পটির মাধ্যমে অন্তত ৪ লাখ বাসিন্দা সরাসরি উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি এটি ঢাকার যানজট কমাতে সরকারের প্রচেষ্টাকে সহায়তা করবে এবং দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নগর উন্নয়ন কেন্দ্র হিসেবে নারায়ণগঞ্জে সুশাসন ও সেবা প্রদান ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
বাংলাদেশে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলেন, নারায়ণগঞ্জ বাংলাদেশের নগর রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। দ্রুত নগরায়ণের সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়ছে, তাই নগর পরিষেবা শক্তিশালী করা এখন উন্নয়ন ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও বলেন, নির্ভরযোগ্য পানি সরবরাহ, সহনশীল পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সবুজ পরিসরে বিনিয়োগ এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
প্রকল্পের আওতায় ২৩০ কিলোমিটার পাইপলাইন নেটওয়ার্ক প্রতিস্থাপন ও সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি মিটারযুক্ত গৃহস্থালি সংযোগ স্থাপন এবং জেলা মিটারযুক্ত এলাকা ব্যবস্থা চালু করা হবে। এর মাধ্যমে অ-রাজস্ব জলের পরিমাণ ২০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা হবে, যা জল সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতা ও নির্ভরযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে।
এছাড়া প্রকল্পে সুপারভাইজরি কন্ট্রোল অ্যান্ড ডেটা অ্যাকুইজিশন প্রযুক্তি চালু করা হবে। অনলাইন বিলিং ও রাজস্ব আদায় ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করা হবে।
এনসিসির পানি সরবরাহ সক্ষমতাও বাড়বে বলে জানানো হয়েছে। নতুন টিউবওয়েল স্থাপন, বিদ্যমান জল শোধনাগার পুনর্বাসন এবং পুরোনো কূপ আধুনিকায়নের মাধ্যমে দৈনিক পানি সরবরাহ ১১ কোটি ৩০ লাখ লিটার থেকে বেড়ে ১৬ কোটি ২০ লাখ লিটারে উন্নীত হবে।
জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় প্রকল্পের আওতায় ভূপৃষ্ঠের জলের অংশ ৫১ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বন্যার ঝুঁকি কমানো ও ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ বাড়াতে পুরো শহরে প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান ব্যবহার করে ২২ কিলোমিটার নিষ্কাশন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

