মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দীর্ঘদিনের চাপের মধ্যে থাকা দেশের অর্থনীতি নতুন করে আরও গভীর সংকটে পড়েছে। রাজস্ব ঘাটতি, বাড়তি ঋণনির্ভরতা এবং বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি—সব মিলিয়ে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ।
সরকারের আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য এখন কার্যত ভেঙে পড়ার মতো অবস্থায়। রাজস্ব আয়ের বড় অংশই ব্যয় হয়ে যাচ্ছে পরিচালন খাতে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অংশ চলে যাচ্ছে শুধু সুদ পরিশোধে। ফলে উন্নয়ন ব্যয় ও অন্যান্য খাতের জন্য অর্থের চাপ আরও বেড়ে যাচ্ছে।
বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বিশ্ববাজারে দর বৃদ্ধির প্রভাবে চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত এই দুই খাতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকা। এই বাড়তি ব্যয় সামাল দিতেই সরকারকে নতুন করে ঋণ নির্ভরতা বাড়াতে হচ্ছে।
অর্থনীতির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সুদহার কমানো এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর একটি প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। এমনকি সুদহার কমানোর বিষয়ে উদ্যোগ হিসেবে নতুন গভর্নর একটি বৈঠকও আহ্বান করেছিলেন। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর সেই উদ্যোগ আর এগোয়নি। যুদ্ধবিরতি থাকলেও অনিশ্চয়তা কাটেনি। ফলে নীতিনির্ধারকদের ধারণা, নিকট ভবিষ্যতে সুদহার কমার সম্ভাবনাও কম।
তবে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে কিছুটা স্বস্তির খবরও রয়েছে। রেমিট্যান্স প্রবাহে উচ্চ প্রবৃদ্ধির কারণে ডলারের বাজার এখন তুলনামূলক স্থিতিশীল। গত এক মাস ধরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কেনা বন্ধ রেখেছে। এতে ব্যাংকগুলোর কাছে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য জমা হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর প্রাথমিক ধাক্কায় ডলারের দর সামান্য বেড়ে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সায় উঠলেও বর্তমানে তা স্থিতিশীল রয়েছে। একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারে।
অন্যদিকে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে পিছিয়ে আছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে শুল্ক ও কর আদায়ে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭১ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। সরকারের মোট রাজস্ব আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশই আসে এনবিআর থেকে। এনবিআরবহির্ভূত আয়েও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি নেই।
সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ এখন প্রায় ২৩ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিদেশি উৎস থেকে নেওয়া ঋণ ৯ হাজার ৩৪৬ কোটি ডলার, যা টাকায় প্রায় সাড়ে ১১ লাখ কোটি। বাকি অংশ দেশীয় উৎস থেকে নেওয়া হয়েছে। সঞ্চয়পত্র খাতে রয়েছে প্রায় তিন লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা এবং ব্যাংকসহ অন্যান্য উৎসে রয়েছে প্রায় আট লাখ কোটি টাকা। এই বিপুল ঋণের কারণে সরকারের বড় অঙ্কের অর্থ নিয়মিতভাবে সুদ পরিশোধে চলে যাচ্ছে।
চলতি অর্থবছরে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার আগেই সরকার অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ করেছে। ব্যাংক খাত থেকে এক লাখ চার হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্য থাকলেও ৩০ মার্চ পর্যন্ত সরকার নিয়েছে এক লাখ ছয় হাজার ৫১ কোটি টাকা। ফলে ঘাটতি পূরণে বিশেষ নিলামের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহ করতে হয়েছে। এর মধ্যে ১ এপ্রিল পাঁচ হাজার কোটি টাকা এবং ৮ এপ্রিল আরও পাঁচ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ব্যাংক ঋণের চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এর আগে গত অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে এক লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৯৯ হাজার কোটি টাকা করা হয়। শেষ পর্যন্ত সরকার নিয়েছিল ৭২ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত সরকারের ঋণের একটি অংশ সরবরাহ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যার পরিমাণ ৩২ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ ধরনের অর্থায়ন কার্যত নতুন টাকা সৃষ্টি করার মতো, যা বাজারে মূল্যস্ফীতি বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। সব মিলিয়ে মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সরকারের ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩০ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা।
অন্যদিকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ৯ মাসে সরকার নিয়েছে ৭৩ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা। এতে মোট ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ২৬ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকায়। তবে বছরের শুরুতে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন ছিল। গত অক্টোবর পর্যন্ত প্রথম চার মাসে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার চেয়ে পরিশোধ বেশি ছিল ৫০৩ কোটি টাকা।
অর্থনীতিবিদ ও বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, সরকার অনেক আগ থেকেই চাপের মধ্যে রয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি সেই চাপ আরও বাড়িয়েছে। তার মতে, এই সংকট মোকাবিলার প্রধান পথ হলো রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং ভর্তুকি কমানো। এজন্য কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। বিশেষ করে কর প্রশাসন ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা আলাদা করতে হবে। তা না হলে স্বার্থের দ্বন্দ্ব থেকে রাজস্ব আদায় বাড়ানো কঠিন হবে। একই সঙ্গে কর অব্যাহতির সুযোগও কমাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম প্রতি মাসে সমন্বয়ের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এপ্রিল মাসেও দাম সমন্বয় না করে আগের মতোই রাখা হয়েছে। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ অন্যান্য দেশ জ্বালানির দাম সমন্বয় করেছে। এতে কিছু অনিয়ম ও বাজার অস্থিরতার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। তার মতে, বৈশ্বিক বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম ও পরিবহন ব্যয় বাড়ছে, তাই শুধু ব্যয় সাশ্রয়ের মাধ্যমে সংকট সমাধান সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে অর্থনীতির ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। নতুন বৈশ্বিক পরিস্থিতি সেই চাপকে আরও জটিল করে তুলেছে।
জ্বালানি খাতে ৩৯ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত ভর্তুকি বোঝা:
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে, যেখানে নতুন করে বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ চার মাসেই শুধু বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি প্রয়োজন হতে পারে। অথচ এই খাতে চলতি বাজেটে মোট বরাদ্দ রয়েছে ৪২ হাজার কোটি টাকা। ফলে প্রায় পুরো বাজেটই শেষের দিকে এসে চাপের মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই চাপ শুধু বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতেই সীমিত নয়। কৃষি খাতেও ভর্তুকি বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের নতুন কিছু নীতিগত ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কারণে ব্যয়ের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষকদের কৃষিঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম এবং কৃষি কার্ড চালুর উদ্যোগ।
এছাড়া দুর্বল পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে “সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক” গঠনের জন্য চলতি বাজেট থেকেই ২০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব নতুন ব্যয়ের চাপে সরকারের সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে অর্থ বিভাগের ভেতরে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি ধরা হয়েছিল ৩৭ হাজার কোটি টাকা। পরে সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৩৬ হাজার কোটি টাকা করা হয়। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ে। এতে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। ফলে চলতি অর্থবছরের বাকি সময়ে বিদ্যুৎ বিভাগ অতিরিক্ত ২০ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা ভর্তুকির প্রয়োজনের কথা জানিয়েছে। অর্থাৎ, বাস্তব চাহিদা ও বাজেট বরাদ্দের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, গ্যাস খাতে পরিস্থিতিও আরও কঠিন হয়েছে। চলতি বাজেটে গ্যাস (মূলত এলএনজি আমদানি) খাতে বরাদ্দ ছিল ৬ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়ে যাওয়ায় শেষ চার মাসেই অতিরিক্ত প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে।
জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশীয় বাজারে দাম নির্ধারণের নীতি থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে তেলের দাম বেড়ে গেছে। তবে স্থানীয় বাজারে দাম সমন্বয় না করলে এই খাতে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকির প্রয়োজন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।
বৈদেশিক অর্থায়নের সন্ধানে সরকার:
আমদানিনির্ভর জ্বালানি খাতের কারণে চলতি সময়ে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত ব্যয়ের পুরো চাপই বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করতে হবে সরকারকে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যে অতিরিক্ত প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, তা সরাসরি ডলার ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত।
তবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবহার করে এই ব্যয় মেটাতে আগ্রহী নয় সরকার। ফলে বিকল্প হিসেবে এখন বড় পরিসরে বিদেশি ঋণ ও বাজেট সহায়তার দিকে ঝুঁকছে নীতিনির্ধারকেরা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী জুন পর্যন্ত এই খাতে ব্যয় মেটাতে প্রায় ৩১৫ কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে।
এই অর্থ জোগাড়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে সরকার। এর মধ্যে আইএমএফ থেকে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। পাশাপাশি এডিবির কাছে ইতোমধ্যে ২৫ কোটি ডলারের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাংক ও এআইআইবির কাছ থেকেও অতিরিক্ত সহায়তা চাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তবে এ পর্যন্ত আলোচনায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে এখনো পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি, যা সরকারের পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাজেট সহায়তা হিসেবে প্রায় ৩৫০ কোটি ডলার পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু চলতি অর্থবছরের জন্য শুরুতে ১৮০ কোটি ডলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও পরে তা কমিয়ে ১২০ কোটি ডলারে নামানো হয়। এতে বোঝা যাচ্ছে, কাঙ্ক্ষিত বৈদেশিক সহায়তা পাওয়া নিয়েও সরকারকে বাস্তব চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।
অন্যদিকে আইএমএফের চলমান কর্মসূচির আওতায় জুনের আগেই দুই কিস্তির অর্থ পাওয়ার যে সম্ভাবনা ছিল, সেটিও এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। ফলে জ্বালানি আমদানি ব্যয় সামাল দিতে বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা আরও বেড়ে গেছে।

