চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে বাংলাদেশের বাজেট ঘাটতি সামান্য কমেছে। তবে একই সময়ে সরকারের ব্যয় আয়কে ছাড়িয়ে যেতে থাকায় চাপ এখনো রয়ে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ২০২৫ থেকে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬৮০ বিলিয়ন টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ৭১৭ বিলিয়ন টাকা অর্থাৎ এবার ঘাটতি প্রায় ৫ শতাংশ কমেছে। এই সময়ে সরকারের মোট আয় হয়েছে ২.৬৯ ট্রিলিয়ন টাকা। এর মধ্যে কর ও করবহির্ভূত—দুই ধরনের আয়ই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩.৩৭ ট্রিলিয়ন টাকা। আয়-ব্যয়ের এই ব্যবধানই তৈরি করেছে ঘাটতি।
তবে ব্যয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ধীরগতি দেখা গেছে উন্নয়ন খাতে। সরকারের প্রধান উন্নয়ন ব্যয় কর্মসূচি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন গত নয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ২১.১৮ শতাংশ। মোট বরাদ্দের তুলনায় এই অগ্রগতি খুবই ধীর বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারি হিসাবে দেখা যায়, জুলাই-জানুয়ারি সময়ে উন্নয়ন ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪২০ বিলিয়ন টাকা। পুরো ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য এডিপির মোট বরাদ্দ ২.৩৯ ট্রিলিয়ন টাকা।
উন্নয়ন কার্যক্রমের এই ধীর গতি নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। তাদের মতে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, ধীরগতির ক্রয় প্রক্রিয়া এবং বছরের শুরুতে প্রকল্প প্রস্তুতির ঘাটতি—এসব কারণে বাস্তবায়ন পিছিয়ে পড়ে। তবে তারা সতর্ক করে বলছেন, সামনে কয়েক মাসে ব্যয় ও ভর্তুকি, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে পরিশোধ বাড়লে বাজেট ঘাটতি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। ঘাটতি পূরণে সরকার প্রধানত দেশীয় উৎসের ওপর নির্ভর করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি এসেছে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে সরকারের নিট ব্যাংক ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৩০ বিলিয়ন টাকা। তবে আগের ঋণের কিছু পরিশোধ করায় সামগ্রিক ব্যাংক-নির্ভর অর্থায়নের চাপ কিছুটা কমেছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, স্বল্পমেয়াদে ব্যাংক ঋণ সরকারের অর্থায়নের চাহিদা মেটাতে সাহায্য করলেও অতিরিক্ত নির্ভরতা ব্যাংকিং ব্যবস্থায় তারল্য সংকট তৈরি করতে পারে। এতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহও কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
চলতি অর্থবছরের বাকি মাসগুলোতে রাজস্ব আদায় ও উন্নয়ন ব্যয়ের গতি কেমন থাকে, সেটিই এখন নজরে থাকবে। কারণ এর ওপর নির্ভর করবে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা এবং প্রবৃদ্ধির গতি, যা বিশ্বব্যাংক ইতোমধ্যে ৩.৯ শতাংশ হিসেবে পূর্বাভাস দিয়েছে।

