Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice সোম, এপ্রিল 13, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » আগামী পাঁচ বছরে ঋণ পরিশোধ করতে হবে ২৬ বিলিয়ন ডলার
    অর্থনীতি

    আগামী পাঁচ বছরে ঋণ পরিশোধ করতে হবে ২৬ বিলিয়ন ডলার

    মনিরুজ্জামানUpdated:এপ্রিল 13, 2026এপ্রিল 13, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    আগামী পাঁচ বছরে ২৬ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপের মুখে পড়ছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বাড়ছে দেশের সামগ্রিক আর্থিক চাপ, যা বিদ্যমান রাজস্ব সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।

    অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছর থেকে ২০৩০ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশকে প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করতে হবে। ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান এই চাপকে আরও বেশি গুরুত্বের সঙ্গে সামনে আনে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশ মোট প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করেছে। কিন্তু সেই পরিমাণের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের সমান অর্থ এখন মাত্র আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই পরিশোধ করতে হবে।

    এমন সময়ে এই ঋণ পরিশোধের চাপ তৈরি হচ্ছে, যখন দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। সমমানের অর্থনীতিগুলোর তুলনায় এটি সবচেয়ে কম পর্যায়ের মধ্যে একটি। ফলে সরকারের পক্ষে নতুন ব্যয় সামাল দেওয়া এবং অর্থনৈতিক ধাক্কা মোকাবিলা করার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ছে।

    এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একাধিক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চাপ। কোভিড-১৯ মহামারি, ইউক্রেন যুদ্ধ, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা—সব মিলিয়ে রাজস্ব আদায়, রপ্তানি আয় এবং প্রবাসী আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এতে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। ইআরডি’র আরেকটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক ঋণ দাঁড়িয়েছে ৭৭.২৮ বিলিয়ন ডলার। এক বছর আগে এই অঙ্ক ছিল ৬৮.৮২ বিলিয়ন ডলার।

    ঋণ পরিশোধের ধারা অনুযায়ী, গত অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে। চলতি অর্থবছরে এটি বেড়ে ৪.৭৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা আরও বেড়ে ৪.৮৭ বিলিয়ন ডলার হবে এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ৫.৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে এই বাড়তি ঋণ পরিশোধের চাপ সরকারি অর্থব্যবস্থার ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করবে। তাদের মতে, নতুন ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হওয়ায় আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী, এই ঋণঝুঁকি মোকাবিলায় রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, প্রবাসী আয় বাড়ানো, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং রাজস্ব কাঠামো শক্তিশালী করা এখন জরুরি অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

    ঋণের চাপ বাড়ার কারণ কী?

    ঋণের চাপ কেন বাড়ছে, এর পেছনে একাধিক কাঠামোগত ও সময়গত কারণ কাজ করছে। সরকারের বড় অবকাঠামো প্রকল্প, ঋণের পরিশোধ শুরু হওয়া এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব—সব মিলিয়ে এই চাপ দ্রুত বাড়ছে।

    অর্থমন্ত্রীর আসন্ন ওয়াশিংটন সফরকে সামনে রেখে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। সেখানে তারা বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে নতুন বাজেট সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর ঋণের কিস্তি ছাড় নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন। এর উদ্দেশ্য হলো দেশের চলমান রাজস্ব চাপ কিছুটা কমানো।

    ইআরডি জানিয়েছে, এই প্রতিবেদনের হিসাব ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত নেওয়া বৈদেশিক ঋণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরে নেওয়া নতুন ঋণ এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কর্মকর্তাদের মতে, বৈদেশিক ঋণের বড় অংশ গেছে একাধিক মেগা প্রকল্পে। এর মধ্যে রয়েছে ১১.৩ বিলিয়ন ডলারের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পদ্মা রেল সংযোগ, কর্ণফুলী টানেল, ঢাকা মেট্রোরেল, সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং প্রকল্প, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ এবং যমুনা রেলওয়ে সেতু।

    এই প্রকল্পগুলোর অনেকগুলোর গ্রেস পিরিয়ড ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে বা শেষ হওয়ার পথে। ফলে ঋণের আসল পরিশোধ শুরু হয়েছে। এতে করে ধীরে ধীরে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ছে। বিশেষভাবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের ঋণের আসল পরিশোধ ২০২৮ সাল থেকে শুরু হবে। তখন বছরে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি পরিশোধ করতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কোভিড-পরবর্তী সময়ে নেওয়া বাজেট সহায়তা ঋণগুলোর কিস্তি পরিশোধও শুরু হয়েছে, যা সামগ্রিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

    কর্মকর্তারা আরও বলছেন, শুধু ঋণ নয়, প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতিও একটি বড় সমস্যা। অনেক প্রকল্প সময়মতো শেষ না হওয়ায় অর্থনৈতিক সুফল আসছে দেরিতে। আবার কিছু প্রকল্প সম্পন্ন হলেও ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনাগত জটিলতায় সেগুলো পুরোপুরি কাজে আসছে না।

    উদাহরণ হিসেবে রূপপুর প্রকল্পের কথা বলা হয়, যেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন দুই বছর আগেই শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। অন্যদিকে ২০২৪ সালে চীনের ৪৬৭.৮৪ মিলিয়ন ডলার অর্থায়নে সম্পন্ন সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং প্রকল্প এখনো চালু হয়নি। একইভাবে জাপানের প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়নে বাস্তবায়িত ঢাকা বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পও অপারেটর নিয়োগে বিলম্বের কারণে এখনো কার্যকরভাবে চালু হয়নি।

    ২০২৯-৩০ অর্থবছরে সর্বোচ্চ চাপ:

    প্রতিবেদনের নতুন তথ্য অনুযায়ী, আগামী বছরগুলোতে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ আরও ঘনীভূত হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে এই চাপ দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছানোর পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে।

    অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)-এর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে (চলতি অর্থবছরসহ) বাংলাদেশকে মোট ২৫.৯৯ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এর মধ্যে ১৮.৩৮ বিলিয়ন ডলার আসল এবং ৭.৬ বিলিয়ন ডলার সুদ বাবদ পরিশোধ করতে হবে। আরও দীর্ঘ সময় বিবেচনায় নিলে চিত্র আরও বড় হয়ে ওঠে। ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে ২০৩৪-৩৫ অর্থবছর পর্যন্ত সময়কালে মোট ঋণ পরিশোধের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৫১.৩৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বিদ্যমান ঋণের ভিত্তিতে ২০২৯-৩০ অর্থবছরকে সর্বোচ্চ চাপের বছর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই বছরে প্রায় ৫.৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করতে হবে। তবে প্রতিবেদনে একটি তুলনামূলক সক্ষমতার দিকও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, ২০২০-২১ থেকে ২০২৫ অর্থবছর পর্যন্ত সময়ে গড়ে মাসিক প্রায় ২.০৩ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। এই গড় রেমিট্যান্স প্রবাহ বিবেচনায় নিলে সর্বোচ্চ চাপের বছরেও তিন মাসের কম সময়ের রেমিট্যান্স দিয়েই বার্ষিক বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ সম্ভব হতে পারে।

    ইআরডি’র সর্বশেষ বিশ্লেষণ বলছে, বিদ্যমান বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে বাংলাদেশের সময় লাগবে কয়েক দশক। একই সঙ্গে ঋণ ও রাজস্বের মধ্যকার সম্পর্ক ধীরে ধীরে চাপের দিকে যাচ্ছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

    অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত নেওয়া ঋণের ভিত্তিতে বর্তমান বৈদেশিক ঋণ পুরোপুরি পরিশোধ করতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৭ বছর সময় লাগবে। যদি এই সময়ের মধ্যে নতুন কোনো ঋণ না নেওয়া হয়, তাহলে ২০৬২-৬৩ অর্থবছরের মধ্যে বিদ্যমান ঋণ পরিশোধ শেষ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে বোঝা যায়, বর্তমান ঋণ দায় দীর্ঘ সময় ধরে অর্থনীতির ওপর চাপ হিসেবে থাকবে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নিট বৈদেশিক ঋণ ছিল ৫.৮৩ বিলিয়ন ডলার। কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি বছর এই ঋণের পরিমাণ গড়ে ৮ থেকে ৯ বিলিয়ন ডলার হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    ঋণ ও অর্থনীতির অনুপাত বিশ্লেষণ করে ইআরডি জানিয়েছে, জিডিপির তুলনায় বৈদেশিক ঋণের অনুপাত এখনো আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের নিচে রয়েছে, তবে এটি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে এই অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১৮.৯৯ শতাংশ, যা আগের বছর ছিল ১৭.০৩ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে আন্তর্জাতিকভাবে ৪০ শতাংশকে সতর্কসীমা ধরা হয়।

    একই সময়ে রাজস্ব আয়ের তুলনায় ঋণের অনুপাতও বেড়ে ১৬.৫৩ শতাংশ থেকে ১৬.৯২ শতাংশে পৌঁছেছে। এটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর নির্ধারিত ১৮ শতাংশ সীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। ইআরডি সতর্ক করে বলেছে, রাজস্ব আয় বাড়াতে না পারলে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে বাংলাদেশের বর্তমান তুলনামূলক “স্বস্তিকর অবস্থান” ভবিষ্যতে হারিয়ে যেতে পারে।

    তবে প্রতিবেদনে কিছু ইতিবাচক দিকও উঠে এসেছে। পণ্য ও সেবা রপ্তানি এবং প্রবাসী আয়ের তুলনায় বৈদেশিক ঋণের অনুপাত কিছুটা কমেছে। এটি ১১০.০৯ শতাংশ থেকে কমে ১০৫.৮৭ শতাংশে নেমেছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নির্ধারিত ১৮০ শতাংশ সীমার তুলনায় অনেক নিচে রয়েছে। ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি না বাড়লে বাংলাদেশের অর্থনীতি আগামী দিনগুলোতে আরও চাপের মুখে পড়তে পারে।

    ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন এই পরিস্থিতিকে বাংলাদেশের জন্য “অনিবার্য বাস্তবতা” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স তাল মিলিয়ে না বাড়লে অর্থনীতি চাপের মুখে পড়তে পারে।”

    তার মতে, আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঋণ ঝুঁকি ‘নিম্ন’ থেকে ‘মধ্যম’ পর্যায়ে যাওয়ার মূল কারণ জিডিপির তুলনায় ঋণের অনুপাত নয়, বরং রাজস্ব ও রপ্তানির তুলনায় ঋণের অবনতি। তিনি সতর্ক করে বলেন, দুর্বল রাজস্ব আহরণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ ইতোমধ্যে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

    জাহিদ হোসেন বিশেষভাবে জ্বালানি খাতে ঋণনির্ভর প্রকল্প নির্বাচনে কঠোর যাচাইয়ের আহ্বান জানান। তার মতে, গ্যাস সংকট কমানো, শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি এবং রপ্তানি সহায়তার বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে প্রকল্প নির্বাচন করা উচিত।

    তিনি আরও বলেন, ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে শুধু পরিমাণ নয়, বরং ভবিষ্যৎ রপ্তানি আয় ও রাজস্ব সক্ষমতার ভিত্তিতে পরিশোধযোগ্যতা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। বাংলাদেশ এখনো খেলাপি হয়নি উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন, বৈশ্বিক মন্দা, এলডিসি উত্তরণের চাপ এবং ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির মধ্যে এই অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। “ঋণ পুনঃতফসিল বা পরিশোধে বিলম্ব হলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে এবং ভবিষ্যতে ঋণের খরচ বাড়বে,” তিনি যোগ করেন।

    অন্যদিকে ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক মুস্তফা কে মুজেরী বলেছেন, বাড়তি ঋণ পরিশোধ ও নতুন ঋণ গ্রহণের মধ্যবর্তী চাপের কারণে অর্থনীতি এখন একটি সংকটময় অবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, ঋণের সঠিক ব্যবস্থাপনা না হলে পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এজন্য তিনি চারটি ক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন—রপ্তানি সম্প্রসারণ, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি।

    তার মতে, শুধু তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কৃষিপণ্য, চামড়াজাত পণ্য এবং হালকা প্রকৌশল খাতে বৈচিত্র্য আনা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, প্রবাসী আয় এখনো অর্থনীতির একটি প্রধান ভিত্তি। তাই বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো সহজ ও আকর্ষণীয় করার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

    মুস্তফা কে মুজেরী সতর্ক করেন, বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৭ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যে সীমিত, যা একটি কাঠামোগত দুর্বলতা। এই সীমিত রাজস্ব ভিত্তি দিয়ে বড় আকারের ঋণ পরিশোধ এবং উন্নয়ন ব্যয় একসঙ্গে বহন করা কঠিন। তিনি কর ব্যবস্থার সংস্কার, কর ফাঁকি রোধ এবং করের আওতা সম্প্রসারণের ওপর জোর দেন।

    সবশেষে তিনি বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা দেশের ঋণ পরিশোধ সক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ছাড়া শিল্প উৎপাদন সচল রাখা সম্ভব নয়, যা রপ্তানি আয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অর্থনীতি

    বৈশ্বিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ

    এপ্রিল 13, 2026
    অর্থনীতি

    সরকারি ঋণচাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় আবারও বেড়েছে ট্রেজারি বিলের সুদহার

    এপ্রিল 13, 2026
    মতামত

    অর্থনীতির টালমাটাল সময়ে ভারসাম্যপূর্ণ বাজেটের প্রত্যাশা

    এপ্রিল 13, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ক্রেতারা ভারত-চীন ছাড়ছে, বাংলাদেশ পাচ্ছে অর্ডার

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025

    বরিশালের উন্নয়ন বঞ্চনা: শিল্প, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে নেই অগ্রগতি

    মতামত এপ্রিল 22, 2025

    টেকসই বিনিয়োগে শীর্ষে থাকতে চায় পূবালী ব্যাংক

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsAppp

    01339-517418

    Copyright © 2025 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.