বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পে নতুন খাত যুক্ত হতে যাচ্ছে। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে আধুনিক হাইড্রোপনিক্স টেন্ট উৎপাদন কারখানা গড়ে তোলা হচ্ছে, যেখানে প্রায় ৩০.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হচ্ছে। প্রকল্পটি চালু হলে প্রায় ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অর্থনৈতিক অঞ্চল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুতেই প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মার্চ মাসে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হলে প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় ২২ হাজার বর্গমিটার জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে এবং আগামী বছরের মার্চ নাগাদ উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই শিল্প ইউনিটটি শুধু একটি নির্দিষ্ট পণ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এখানে হাইড্রোপনিক্স টেন্টের পাশাপাশি ইভিএ ক্যাবিনেট ম্যাট, কার্টন এবং পলিথিন প্যাকেজিং ফিল্মও উৎপাদন করা হবে। ফলে এটি একটি বহুমুখী উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। প্রতিবছর প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ পিস টেন্ট ও সংশ্লিষ্ট পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব পণ্যের প্রধান বাজার হিসেবে ধরা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও জাপান।
মাটিবিহীন কৃষি প্রযুক্তি—হাইড্রোপনিক্স—বিশ্বজুড়ে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদনে ব্যবহৃত এই প্রযুক্তির জন্য বিশেষ টেন্ট প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এই পণ্য শিল্পায়িতভাবে উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়ায় নতুন বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিনিয়োগ দেশের রপ্তানি কাঠামোয় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নতুন উচ্চমূল্য সংযোজনকারী পণ্যে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
কারখানাটি চালু হলে সরাসরি কর্মসংস্থানের পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে। পরিবহন, আবাসন, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও সেবাখাতে নতুন চাহিদা তৈরি হবে, যা সামগ্রিকভাবে স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙা করবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। লক্ষ্য হচ্ছে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প খাত গড়ে তোলা। এজন্য আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ববাজারে স্মার্ট কৃষি ও প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনের চাহিদা বাড়তে থাকায় এই প্রকল্পকে সময়োপযোগী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জলবায়ু পরিবর্তন ও সীমিত কৃষিজমির বাস্তবতায় হাইড্রোপনিক্স প্রযুক্তি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সব মিলিয়ে, মিরসরাইয়ের এই বিনিয়োগ শুধু একটি নতুন কারখানা নয়—বরং বাংলাদেশের শিল্পায়ন ও রপ্তানি খাতের নতুন সম্ভাবনার সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
