দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) বিকাশে বড় অঙ্কের তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই খাতের জন্য বরাদ্দ ৩০০ কোটি টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
গতকাল রোববার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-এ আয়োজিত এসএমই বৈশাখী মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। মেলা চলবে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত।
মন্ত্রী বলেন, এসএমই ফাউন্ডেশনের প্রস্তাবের ভিত্তিতে বিদ্যমান ৩০০ কোটি টাকার তহবিল বাড়িয়ে ২ হাজার কোটি টাকায় নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের বিকাশ অত্যন্ত জরুরি এবং এই খাতকে এগিয়ে নিতে সরকার সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। উদ্যোক্তাদের বাস্তবসম্মত প্রস্তাব এলে তা বিবেচনায় নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ও শিল্পসচিব মো. ওবায়দুর রহমান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টরা।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের অর্থনীতিতে এমএসএমই খাতের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশে মোট প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থান প্রায় ১৫ শতাংশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনীতির আকারও একই হারে সীমাবদ্ধ। বাকি ৮৫ শতাংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের অন্তর্ভুক্ত, যার বড় অংশই এমএসএমই।
এর আগে এসএমই খাতের অর্থায়ন সহজ করতে ৩০০ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। এই অর্থ প্রায় ১৫টি ব্যাংক ও চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বলেন, পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি এবং বেশি মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্য। সরকার এ ক্ষেত্রে সহায়ক হিসেবে পাশে থাকবে।
মেলা প্রসঙ্গে আয়োজকরা জানান, এখানে ১৫০টির বেশি স্টলে বিভিন্ন খাতের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে হস্ত ও কারুশিল্প, পাটজাত পণ্য, তৈরি পোশাক, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত দ্রব্য, ঐতিহ্যবাহী পণ্য, খাবার, কৃত্রিম গহনা, চামড়াজাত পণ্য এবং লাইফস্টাইল সামগ্রী।
মেলাটি কেবল কেনাবেচার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এতে সাংস্কৃতিক আয়োজনও রয়েছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। পহেলা বৈশাখে বিশেষ আয়োজন শুরু হবে সকাল ৮টা থেকে। বিভিন্ন দিনে নৃত্য, গান ও লোকজ পরিবেশনার আয়োজন রাখা হয়েছে।
দর্শনার্থীদের জন্য মেলায় নাগরদোলা, ফেস পেইন্টিং, কিডস জোন, বেলুন শুটিং, রণপা, লোকজ নৃত্যসহ নানা বিনোদনমূলক ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি ‘টেস্ট অব বাংলাদেশ’ কর্নারে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খাবারের স্বাদ পাওয়া যাবে।
মেলায় প্রবেশের জন্য সাধারণ টিকিটের মূল্য ৩০ টাকা এবং সাত দিনের এক্সপ্রেস টিকিট ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে পার্কিং সুবিধা অন্তর্ভুক্ত।
এসএমই ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের অর্থনীতিতে এই খাতের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-এর ২০২৪ সালের সমীক্ষা বলছে, দেশের মোট শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৯৯ শতাংশই কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের অন্তর্ভুক্ত। শিল্প খাতের প্রায় ৮৫ শতাংশ কর্মসংস্থানও এ খাতেই সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে তিন কোটির বেশি মানুষ কাজ করছেন।
এসএমই ফাউন্ডেশন জানায়, ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে তাদের বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় প্রায় ২১ লাখ উদ্যোক্তা সহায়তা পেয়েছেন, যার ৬০ শতাংশ নারী।

