Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice রবি, এপ্রিল 19, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » আকাশছোঁয়া দামে উৎপাদনহীন কারখানার শেয়ার কিনছে কারা?
    অর্থনীতি

    আকাশছোঁয়া দামে উৎপাদনহীন কারখানার শেয়ার কিনছে কারা?

    মনিরুজ্জামানএপ্রিল 19, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন ও কার্যক্রম বন্ধ থাকা বিভিন্ন কোম্পানির একটি তালিকা প্রকাশ করে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। ওই উদ্যোগের উদ্দেশ্য ছিল গুজবনির্ভর লেনদেন কমানো, বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করা এবং বাজারে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করা।

    কিন্তু বাস্তবে সেই পদক্ষেপ উল্টো প্রভাব ফেলেছে বলে দেখা যাচ্ছে। তালিকা প্রকাশের পর বন্ধ থাকা প্রায় প্রতিটি কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। কিছু ক্ষেত্রে দাম দ্বিগুণ এমনকি তিনগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। এতে বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়।

    ডিএসইর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ৩০টি বন্ধ কোম্পানির তালিকা প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে ২৯টি কোম্পানির শেয়ারের দাম গত ছয় মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কিছু শেয়ারের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি দাঁড়ায় প্রায় ৩৭৭ শতাংশ পর্যন্ত। এরপর আবার ধীরে ধীরে দরপতন শুরু হলে উচ্চ দামে শেয়ার কিনে রাখা সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ে যান।

    শেয়ারবাজারের অতীত ঘটনাগুলোর প্রসঙ্গ টেনে বিশ্লেষকরা বলছেন, এর আগেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা “বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন” (বিএসইসি)-এর সাবেক নেতৃত্বের সময়ে কার্যক্রম বন্ধ থাকা বা দুর্বল কোম্পানির শেয়ারে হঠাৎ অস্বাভাবিক উত্থান দেখা গিয়েছিল। সেই সময় বিতর্কিত এক শেয়ার ব্যবসায়ী আবুল খায়ের (হিরু)–কে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগও ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, তার প্রভাব ও প্ররোচনায় অনেক সাধারণ বিনিয়োগকারী দুর্বল কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করে বড় ক্ষতির মুখে পড়েন। সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাতেও একই ধরনের চক্র সক্রিয় থাকতে পারে কি না, তা নিয়ে বাজারে প্রশ্ন উঠেছে।

    বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যেসব কোম্পানির বাস্তব কার্যক্রম নেই, সেসব শেয়ারে বিনিয়োগ করা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তারা মনে করেন, গুজব, অনুমান এবং কারসাজির প্রভাবে অনেকেই ভুল সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যার ফল ভোগ করতে হচ্ছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের।

    এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেটের (বিআইসিএম) নির্বাহী প্রেসিডেন্ট ওয়াজিদ হাসান শাহ বলেন, শেয়ারবাজারে টেকসই বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে বিনিয়োগ শিক্ষা অত্যন্ত জরুরি। তার মতে, অনেক বিনিয়োগকারী দ্রুত মুনাফার প্রত্যাশায় ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারের দিকে ঝুঁকে পড়েন, যা বাস্তবসম্মত নয়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি শ্রেণি উচ্চ মুনাফা তুলে নেয়, আর ক্ষতির বোঝা পড়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওপর।

    তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকা কোম্পানিগুলোকে তালিকাচ্যুত করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এর আগে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, যথাযথ সুরক্ষা ছাড়া তালিকাচ্যুত করলে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

    একই বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন মনে করেন, বন্ধ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই। তার মতে, এসব কোম্পানির মৌলিক কোনো কার্যক্রম না থাকা সত্ত্বেও শেয়ারদর বৃদ্ধি স্পষ্টতই কারসাজির ইঙ্গিত দেয়। তাই নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

    তিনি আরও বলেন, বহু বছর ধরে বন্ধ থাকা এবং কোনো ধরনের লভ্যাংশ না দেওয়া কোম্পানিগুলো কেন এখনো শেয়ারবাজারে লেনদেনের সুযোগ পাচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তার মতে, এসব শেয়ার বাজারে চালু রাখা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে এবং বাজার ব্যবস্থার ওপর আস্থা কমিয়ে দিচ্ছে।

    উৎপাদন নেই, তবুও শেয়ারদরে উল্লম্ফন

    গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন ও কার্যক্রম বন্ধ থাকা ৩০টি কোম্পানির একটি তালিকা প্রকাশ করে। শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা আনা, গুজবনির্ভর লেনদেন কমানো এবং বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করার উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

    এই তালিকায় থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স, অ্যারামিট সিমেন্ট, আজিজ পাইপস, বারাকা পাওয়ার, দুলামিয়া কটন, এমারেল্ড অয়েল, ফ্যামিলি টেক্স (বিডি), জিবিবি পাওয়ার, জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশনস, খুলনা পাওয়ার কোম্পানি, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, মেঘনা পিইটি ইন্ডাস্ট্রিজ, মেট্রো স্পিনিং মিলস, মিথুন নিটিং, নিউ লাইন ক্লথিংস, নর্দার্ন জুট, নুরানি ডায়িং, প্রাইম টেক্সটাইল, আরএসআরএম, রেজেন্ট টেক্সটাইল, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকস, তুং হাই নিটিং অ্যান্ড ডায়িং, রহিমা ফুড কর্পোরেশন, হামিদ ফ্যাব্রিক্স, ইয়াকিন পলিমার, জাহিন স্পিনিং মিলস এবং রাষ্ট্রায়ত্ত দুটি প্রতিষ্ঠান—শ্যাম্পুর সুগার মিলস ও উসমানিয়া গ্লাস শিট ফ্যাক্টরিজ।

    এই ৩০টি কোম্পানির মধ্যে কেবল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জিবিবি পাওয়ার তাদের ব্যবসায়িক অগ্রগতি সম্পর্কে স্টক এক্সচেঞ্জে তথ্য দিয়েছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা “বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড” (বিপিডিবি)-এর সঙ্গে ১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে চুক্তি করেছে এবং এর ফলে তাদের কিছু উৎপাদন কার্যক্রম সচল রয়েছে। তবে বাকি ২৯টি কোম্পানির ক্ষেত্রে উৎপাদন বা কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি।

    তবুও বাজারের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তালিকা প্রকাশের পর পরবর্তী ছয় মাসে প্রায় সবগুলো বন্ধ কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। কিছু ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি ছিল বহু গুণ। সবচেয়ে বেশি দরবৃদ্ধি দেখা যায় ফ্যামিলি টেক্স (বিডি)-এর ক্ষেত্রে। এই সময়ে শেয়ারদর ৯০ পয়সা থেকে বেড়ে ৪ টাকা ৩০ পয়সায় ওঠে, যা প্রায় ৩৭৭ শতাংশ বৃদ্ধি। একই সময়ে অ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্সের শেয়ারদর ১ টাকা ৪০ পয়সা থেকে বেড়ে ৪ টাকা ৫০ পয়সায় পৌঁছায়, যা প্রায় ২২১ শতাংশ বৃদ্ধি। তুং হাই নিটিং অ্যান্ড ডায়িংয়ের শেয়ারদরও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৪ টাকা ২০ পয়সায় ওঠে, প্রায় ২৫০ শতাংশ বৃদ্ধি।

    এছাড়া হামিদ ফ্যাব্রিক্সের শেয়ারদর বেড়েছে ১২৬ শতাংশ। নিউ লাইন ক্লথিংস, নুরানি ডায়িং এবং সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারদরও ১০০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাইম টেক্সটাইলের শেয়ারদর ৮৩ শতাংশ এবং মেঘনা পিইটি ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারদর ৬৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। তালিকার অন্যান্য কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরও গড়ে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। তবে এই ঊর্ধ্বগতির ধারা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। গত প্রায় এক মাস ধরে এসব শেয়ারে ধারাবাহিক দরপতন চলছে। এতে উচ্চ দামে শেয়ার কিনে রাখা বিনিয়োগকারীরা এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছেন।

    বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদন বন্ধ থাকা কোম্পানির শেয়ারে এমন অস্বাভাবিক ওঠানামা শেয়ারবাজারে জল্পনা ও অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে। উৎপাদন বন্ধ থাকা কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম যখন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে আকাশছোঁয়া পর্যায়ে পৌঁছায়, তখনই বাজারে আরেকটি চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে—একটি শ্রেণি বাড়তি দামে শেয়ার বিক্রি করে ধীরে ধীরে বাজার থেকে বেরিয়ে গেছে। লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণেও সেই ইঙ্গিত মিলেছে। একই সময়ে একাধিক কোম্পানিতে কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পরিমাণ শেয়ার হাতবদল হয়েছে।

    বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই সময়ের মধ্যে ফ্যামিলি টেক্স (বিডি)-এর শেয়ারে সবচেয়ে দ্রুত দামের উত্থান ঘটে ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ মার্চের মধ্যে। মাত্র ১৫ কার্যদিবসে শেয়ারটির দাম ১ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বেড়ে ৪ টাকা ৩০ পয়সায় পৌঁছায়। এই সময়েই কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেনও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। ৫ মার্চ একদিনেই ১ কোটি ৩৬ লাখের বেশি শেয়ার হাতবদল হয়, আর ১৬ মার্চ লেনদেন হয় ১ কোটি ২৬ লাখের বেশি শেয়ার—যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

    একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে অ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্সেও। ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২২ মার্চের মধ্যে শেয়ারটির দাম ২ টাকা ২০ পয়সা থেকে বেড়ে ৪ টাকা ৫০ পয়সায় ওঠে। এই সময়ে ৩ মার্চ ও ১৬ মার্চ দুই দিনে ৬৪ লাখের বেশি করে শেয়ার লেনদেন হয়, যা দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

    তুং হাই নিটিং অ্যান্ড ডায়িংয়ের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ মার্চের মধ্যে মাত্র ১৫ কার্যদিবসে শেয়ারটির দাম ২ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ৪ টাকা ২০ পয়সায় ওঠে। এই সময়ে ৫ মার্চে ১৮ লাখ ৫০ হাজারের বেশি এবং ১৬ মার্চে প্রায় ১৫ লাখ শেয়ার হাতবদল হয়, যা দীর্ঘ সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন হিসেবে চিহ্নিত।

    এই তিনটি কোম্পানি ছাড়াও গত ছয় মাসে উৎপাদন বন্ধ থাকা মোট ২৯টি কোম্পানির প্রায় সবগুলোতেই একই ধরনের অস্বাভাবিক লেনদেন ও দরবৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেছে। ফলে বাজারে শেয়ার মালিকানার বড় অংশ দ্রুত এক হাত থেকে অন্য হাতে চলে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, এই সময়ে একটি সুবিধাভোগী চক্র বড় অঙ্কের মুনাফা তুলে বাজার থেকে বেরিয়ে গেছে, আর ক্ষতির ঝুঁকি বহন করছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

    তবে এই অস্বাভাবিক লেনদেন ও দরবৃদ্ধির ঘটনায় সব কোম্পানির ক্ষেত্রে সমান পর্যবেক্ষণ দেখা যায়নি। গত ছয় মাসে ডিএসই মাত্র দুইটি কোম্পানির কাছে কারণ জানতে চেয়ে চিঠি পাঠায়। এর মধ্যে হামিদ ফ্যাব্রিক্স কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। আর প্রাইম টেক্সটাইল জানায়, এই অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি ও লেনদেনের পেছনে তাদের জানা কোনো কারণ নেই এবং তাদের কাছে কোনো অপ্রকাশিত সংবেদনশীল তথ্যও ছিল না। বাকি অধিকাংশ কোম্পানির ক্ষেত্রে এমন অস্বাভাবিকতা বাজার নজরদারির বাইরে থেকেই ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    এ সময় বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে কোনো সতর্ক বার্তাও প্রকাশ করা হয়নি বলে জানা যায়। ফলে উচ্চ দামে শেয়ার কিনে ফেলা অনেক বিনিয়োগকারী এখন বড় ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন। লেনদেন পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যায়, এসব শেয়ারের বড় অংশই সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হাতবদল হয়েছে। বাজারে গুজব ও দ্রুত মুনাফার আশায় এক শ্রেণির বিনিয়োগকারী এই শেয়ারে প্রবেশ করেন, আর সেই সুযোগে উচ্চ দামে শেয়ার বিক্রি করে বেরিয়ে যান সুবিধাভোগী চক্র।

    এ বিষয়ে ব্রোকারদের সংগঠন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)-এর সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, বিশ্বজুড়েই কিছু বিনিয়োগকারী কম দামের শেয়ারে বেশি ঝুঁকি নিয়ে অংশ নেন, যা অনেকটা জুয়ার মতো আচরণের সঙ্গে তুলনীয়। তার মতে, এসব শেয়ারের সরবরাহ কম থাকায় সহজেই দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়, ফলে জল্পনা আরও বেড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হন সেইসব বিনিয়োগকারী, যারা গুজব বা পরামর্শের ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন।

    তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে ডিএসই ও “বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন”(বিএসইসি) চাইলে লেনদেন স্থগিত, ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন বা একীভূতকরণের মতো পদক্ষেপ নিতে পারত। তার মতে, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তাই বছরের পর বছর বন্ধ থাকা কোম্পানির বিষয়ে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।

    তালিকাচ্যুতির পথে যাচ্ছে কিছু কোম্পানি:

    উৎপাদন বন্ধ থাকা কোম্পানিগুলোর বিষয়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা “বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন”  (বিএসইসি)-এর পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম।

    তিনি বলেন, এসব কোম্পানির কার্যক্রম ও লেনদেন নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। কোনো ধরনের কারসাজি, ইনসাইডার ট্রেডিং বা অনিয়ম পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, কোনো কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করা বা তালিকাচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা মূলত স্টক এক্সচেঞ্জের ওপর নির্ভর করে। উৎপাদন বন্ধ থাকা কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা যাচাই করে যদি মনে হয় সেগুলো আর কার্যকরভাবে বাজারে থাকার উপযোগী নয়, তাহলে স্টক এক্সচেঞ্জই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

    এ বিষয়ে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ” (ডিএসই)-এর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, বন্ধ থাকা কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চাওয়া হয়েছে। কিছু কোম্পানি ইতিবাচক সাড়া দিলেও অনেক প্রতিষ্ঠান কোনো জবাব দেয়নি। তিনি জানান, যেসব কোম্পানির পুনরায় উৎপাদন বা ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করার বাস্তব কোনো সম্ভাবনা নেই, সেগুলো ধাপে ধাপে তালিকাচ্যুত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন কার্যক্রমহীন কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে রেখে দেওয়ার পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। এতে একদিকে বাজারে স্বচ্ছতা বাড়বে, অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের অযথা ঝুঁকিও কমবে।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অর্থনীতি

    কৃষিতে দেড় হাজার কোটি টাকার বাড়তি চাপ

    এপ্রিল 19, 2026
    অর্থনীতি

    ৬ সংস্থা এক করে গঠিত হচ্ছে বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা

    এপ্রিল 19, 2026
    মতামত

    ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ: কেন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রই চূড়ান্তভাবে ক্ষতিগ্রস্ত

    এপ্রিল 19, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ক্রেতারা ভারত-চীন ছাড়ছে, বাংলাদেশ পাচ্ছে অর্ডার

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025

    বরিশালের উন্নয়ন বঞ্চনা: শিল্প, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে নেই অগ্রগতি

    মতামত এপ্রিল 22, 2025

    টেকসই বিনিয়োগে শীর্ষে থাকতে চায় পূবালী ব্যাংক

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsAppp

    01339-517418

    Copyright © 2025 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.