মূল্যস্ফীতির চাপ ও সীমিত আয়ের করদাতাদের স্বস্তি দিতে বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। বর্তমান ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে এই সীমা বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
আজ বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাক্-বাজেট আলোচনায় এ প্রস্তাব তুলে ধরেন ডিসিসিআই নেতারা। আলোচনায় ঢাকা ও সিলেট জেলার বিভিন্ন চেম্বারের প্রতিনিধিরাও নিজেদের মতামত ও প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এ সময় প্রস্তাবগুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার আশ্বাস দেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
ডিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে প্রস্তাব উপস্থাপন করেন এ বি এম লুৎফুল হাদি। তিনি নন-লিস্টেড কোম্পানির করহার ২৫ শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানান। পাশাপাশি বাণিজ্যিক আমদানির ক্ষেত্রে বর্তমানে আরোপিত সাড়ে ৭ শতাংশ আগাম কর কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
অন্যদিকে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রির (বিসিআই) পক্ষ থেকে প্রস্তাব তুলে ধরেন সংগঠনটির সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ। তিনি বলেন, দেশের শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি কমছে। ফলে শুধু পোশাক খাতের ওপর নির্ভর করে কর্মসংস্থান বাড়ানো সম্ভব নয়, অন্যান্য খাতেও গুরুত্ব দিতে হবে।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর কর ও শুল্ক চাপের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, বড় কোম্পানিগুলো যেখানে প্লাস্টিকের কাঁচামাল আমদানিতে মাত্র ১ শতাংশ শুল্ক দেয়, সেখানে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে অগ্রিম কর, আগাম আয়কর ও মূসক মিলিয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত করভার বহন করতে হয়। এ বৈষম্য পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মত দেন।
এ ছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য আলাদা কর কাঠামো চালুর প্রস্তাব দেন বিসিআই সভাপতি। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ১ কোটি টাকার ব্যবসার জন্য বছরে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার মতো একটি সহজ ও নির্ধারিত কর কাঠামো চালু করা যেতে পারে।
সভায় সিলেট ও নারায়ণগঞ্জ চেম্বারের প্রতিনিধিরাও বিভিন্ন খাতভিত্তিক প্রস্তাব তুলে ধরেন। সব প্রস্তাব পর্যালোচনা করে যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে বলে জানান এনবিআর চেয়ারম্যান।

