দেশে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি দীর্ঘদিন ধরেই ধীর। এর প্রভাব পড়েছে বিদেশি ঋণ ও অনুদানের প্রবাহেও। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে নতুন ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে অর্থছাড়ের পরিমাণও। তবে বিপরীতে পুরোনো ঋণ পরিশোধে সরকারের ব্যয় বেড়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) রোববার প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশ বিদেশি ঋণ ও অনুদানের নতুন প্রতিশ্রুতি পেয়েছে ২৮১ কোটি ডলারের কিছু কম। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল প্রায় ৪২৬ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রতিশ্রুতি কমেছে প্রায় ৩৪ শতাংশ।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থাগুলো ঋণ হিসেবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রায় ২৬৫ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল প্রায় ৪২৬ কোটি ডলার। অন্যদিকে অনুদান বাবদ প্রতিশ্রুতি এসেছে প্রায় ১৬ কোটি ডলার, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৬ কোটি ডলার।
সরকার সাধারণত উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালনার জন্য বিদেশি ঋণ ও অনুদানের ওপর নির্ভর করে। পাশাপাশি বাজেট সহায়তা হিসেবেও বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নেওয়া হয়।
এদিকে বিদেশি অর্থছাড়ের পরিমাণও কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অর্থছাড় হয়েছে ৪২৪ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৫১৬ কোটি ডলারের বেশি। অর্থাৎ অর্থছাড় কমেছে প্রায় ৯২ কোটি ডলার।
ছাড় হওয়া অর্থের মধ্যে অনুদান হিসেবে এসেছে ৩৮ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪৮ কোটি ডলার। অন্যদিকে ঋণ হিসেবে এসেছে ৩৮৫ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৮১ কোটি ডলার। ফলে ঋণ বাবদ অর্থছাড়েও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।
অন্যদিকে বিদেশি ঋণ পরিশোধে সরকারের ব্যয় আরও বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে পুরোনো ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে ৪৬৫ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৪২৩ কোটি ডলার। দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৪২ হাজার ২৮১ কোটি টাকা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে শুধু সুদ পরিশোধেই ব্যয় হয়েছে ১৬৩ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১৫৬ কোটি ডলারের কিছু বেশি। একই সময়ে মূল ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে প্রায় ৩০২ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২৬৬ কোটি ডলার।
উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে সবচেয়ে বেশি অর্থ ছাড় করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি দিয়েছে প্রায় ৮৪ কোটি ডলার। এরপর রয়েছে রাশিয়া, যারা ছাড় করেছে প্রায় ৮৩ কোটি ডলার। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক দিয়েছে ৭১ কোটি ডলার। এছাড়া চীন ও ভারত যথাক্রমে ৫৩ কোটি ও ২৫ কোটি ডলার ছাড় করেছে। জাপান দিয়েছে ৪২ কোটি ডলার।

