বেসরকারি খাতে স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ আবারও বাড়তে শুরু করেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষে এ ধরনের ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬০ কোটি ডলারে। এর আগে ধারাবাহিকভাবে কমে গত বছরের আগস্টে তা নেমে গিয়েছিল ৯৫৭ কোটি ডলারে, যা ছিল ৫৬ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশি সরবরাহকারীদের কাছ থেকে বাকিতে আমদানি, ব্যাক টু ব্যাক এলসি এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যবস্থার মাধ্যমে এ ঋণ নেওয়া হয়। ডলারের সংকট ও ব্যাংকগুলোর ক্রেডিট লাইন সীমিত হয়ে পড়ায় এক সময় এ ধরনের ঋণ প্রবাহ কমে গিয়েছিল। তবে ডলার বাজারে স্থিতিশীলতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা উন্নতির কারণে আবারও ঋণ প্রবাহ বাড়ছে বলে তারা মনে করছেন।
পরিসংখ্যান বলছে, করোনাভাইরাসের সময় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দেয়। ২০২০ ও ২০২১ সালের মাঝামাঝি সময়ে সেই প্রভাবের মধ্যেই স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। ২০২১ সালের শেষে এ ঋণ দাঁড়ায় ১ হাজার ৫৪৬ কোটি ডলারে, যা এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি।
এর পরের বছর, অর্থাৎ ২০২২ সালে, এই প্রবণতা আরও বাড়ে এবং বছরের শেষ দিকে ঋণের পরিমাণ পৌঁছায় ১ হাজার ৬৪২ কোটি ডলারে, যা ছিল ওই সময়ের সর্বোচ্চ।
তবে ডলার সংকট শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি উল্টো দিকে মোড় নেয়। ঋণ প্রবাহ ধীরে ধীরে কমতে কমতে গত বছরের আগস্টে নেমে আসে ৯৫৭ কোটি ডলারে। এরপর থেকে আবার ধাপে ধাপে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরের শেষে স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ ছিল ১ হাজার ১৯ কোটি ডলার। সেখান থেকে জানুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৪৭ কোটি ডলার এবং ফেব্রুয়ারিতে আরও বেড়ে ১ হাজার ৬০ কোটি ডলারে পৌঁছায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আমদানি চাহিদা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি ফেরার কারণে এ ঋণ আবারও বাড়তে পারে, তবে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার ওপর চাপও বাড়াবে।

