ভারতের শিল্প-গোষ্ঠী আদানি নতুন করে একটি বড় ধরনের ধাক্কা খেল। যুক্তরাষ্ট্রে ঘুষ ও প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ণয়কারী সংস্থা এসঅ্যান্ডপি আদানি গোষ্ঠীর তিনটি শীর্ষ কোম্পানির ঋণমান কমিয়ে ‘নেতিবাচক’ ঘোষণা করেছে। এতে আদানি গ্রিন এনার্জি, আদানি ইলেকট্রিসিটি এবং আদানি পোর্টস-এর ওপর আর্থিক আস্থার সংকট আরও ঘনীভূত হলো।
ঘুষ-কাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ-
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী এবং আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি ও তার ভাতিজা সাগর আদানির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ২৫ কোটি মার্কিন ডলার ঘুষ-কাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং বিষয়টি গোপন রেখে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছেন। এই অভিযোগ সামনে আসার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগীয় দপ্তর এবং শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি তদন্ত শুরু করেছে।
এই ঘটনার প্রভাবে গত বৃহস্পতিবার আদানি গোষ্ঠীর শেয়ারে ধস নামে। তাদের ১০টি শেয়ার তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের দাম কমে যায় ১০.৪০ শতাংশ থেকে ২২.৬১ শতাংশ পর্যন্ত। ফলে কোম্পানির বাজার মূলধন একদিনে কমে যায় ২.১৯ লাখ কোটি রুপি। যদিও পরের দিন শুক্রবার লেনদেনের শুরুর দিকে পতন অব্যাহত ছিল। দিনের শেষে ছয়টি কোম্পানির শেয়ারের দাম আবার বাড়তে দেখা যায়।
এই শেয়ারদরের হঠাৎ বৃদ্ধিতে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো প্রশ্ন তুলেছে। তাদের দাবি, বিদেশি রাষ্ট্রের এমন গুরুতর অভিযোগের পরও শেয়ারের দর বাড়ছে কীভাবে? কারা এই শেয়ার কিনছে? বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে তারা উল্লেখ করেছে।
ঋণমান হ্রাস ও বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা-
এসঅ্যান্ডপির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, এই কেলেঙ্কারির কারণে আদানি গোষ্ঠীর সামগ্রিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং তাদের পরিচালন ব্যবস্থার ওপর আস্থা আরও কমে যাবে। এর ফলে শেয়ার বা ঋণপত্রের বাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে উঠবে। নতুন বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি পুরনো বিনিয়োগকারীরাও আস্থা হারাতে পারেন। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও ঋণের রাশ টানার কথা ভাবতে পারে, যা মূলধন সংগ্রহের ব্যয় বাড়িয়ে দেবে।
এর আগেও আদানি গোষ্ঠী সমালোচনার মুখে পড়েছে। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের শর্টসেলার হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের একটি প্রতিবেদন তাদের বিরুদ্ধে শেয়ারের কৃত্রিম মূল্য বৃদ্ধি এবং বিদেশে বেআইনি লেনদেনের অভিযোগ তোলে। তখনও আদানি গোষ্ঠী এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছিল। এবারও তারা একই সুরে জানিয়েছে, গোষ্ঠী কখনোই নিয়ম ভঙ্গ করে ব্যবসা করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, আদানি গোষ্ঠীর এই সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে না। শেয়ারের দরের সাম্প্রতিক বৃদ্ধির স্থায়িত্ব নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ঋণ পরিশোধে কতটা আস্থা রাখবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
আদানি গোষ্ঠীর এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান শুধু তাদের নয়, ভারতের সামগ্রিক শিল্পখাতের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

