আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারীর অবদান আজ অনস্বীকার্য। আশির দশকের শেষভাগ থেকে দেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক খাতে নারীদের অংশগ্রহণ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশের সঙ্গে নারীদের অংশগ্রহণ বহুগুণে বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশের শ্রমবাজারে নারীদের উপস্থিতি এখন উল্লেখযোগ্য মাত্রায় পৌঁছেছে। নারীদের সাফল্য আজ শুধু জাতীয় নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বীকৃত। তারা আজ পোশাক শিল্প, কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা, প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যাংকিং এমনকি সৃজনশীল খাতেও অবদান রাখছেন। যা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে এবং দেশের উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করছে।
এক নজরে অর্থনীতিতে নারীর অবদান: বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রায় প্রতিটি স্তরেই আজ নারীর অংশগ্রহণ ও অবদান স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। তৈরি পোশাক শিল্প থেকে শুরু করে কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাত পর্যন্ত নারীদের অবদান রয়েছে। বাংলাদশের তৈরি পোশাক শিল্পের উন্নয়নে নারীদের অবদান অনস্বীকার্য। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণের হার বাংলাদেশে খাত বেদে ৩৬.৫১% থেকে ৬২% পর্যন্ত রয়েছে। যা এই খাতে নারীর ক্ষমতায়ন ও সাফল্যের প্রতিফলন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২২ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী- তৈরি পোশাক খাতে মোট ৪৩ লাখ ১৬ হাজার শ্রমিক কর্মরত। যার মধ্যে ১৬ লাখ ১৯ হাজার নারী শ্রমিক- যা মোট শ্রমিকের ৩৭.৫১%। অন্যদিকে, রপ্তানি মুখী পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমই এর তথ্য অনুসারে-দেশের পোশাক খাতে ৩৩ লাখ ১৭ হাজার ৩৯৭ জন শ্রমিক কর্মরত, যার মধ্যে ৫২.২৮% নারী। এই অনুপাতের সংখ্যার হিসেবে নারী শ্রমিক রয়েছেন ১৭ লাখ ৩৪ হাজার ৪৫৯ জন। অপরদিকে, নিট (গেঞ্জি-জাতীয় পোশাক উৎপাদন) পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমই এর তথ্য অনুযায়ী- নিট সেক্টরে ১৭ লাখ ২৫৫ জন শ্রমিক রয়েছেন। যার ৬২ শতাংশ অর্থাৎ ১০ লাখ ৫৪ হাজার ১৫৭ জনই নারী। সব মিলিয়ে দেশে তৈরি পোশাক খাতে ৫০ লাখ ১৭ হাজার ৬৫২ জন শ্রমিক রয়েছেন। যার মধ্যে ৫৫.৫৭% অর্থাৎ ২৭ লাখ ৮৮ হাজার ৬১৬ জন নারী শ্রমিক। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, তৈরি পোশাক শিল্পে নারীর অংশগ্রহণ শুধুমাত্র শ্রমশক্তি বৃদ্ধিতে নয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে, আর্থিক প্রবৃদ্ধিতে এবং সমাজের অর্থনৈতিক অবস্থা শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বাংলাদেশের কৃষি খাতে নারীশক্তির অবদান আজ এক বিশেষ স্থান দখল করেছে। দেশের নারী শ্রমশক্তির প্রায় ৬৮ শতাংশই কৃষি, বনায়ন ও মৎস্য খাতে কাজ করছেন। কর্মক্ষম নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণ কৃষিকাজে। যেখানে তারা ফসল উৎপাদন থেকে শুরু করে পশুপালন, মৎস্য চাষ পর্যন্ত নানা কাজে নিযুক্ত রয়েছেন।
বিশ্বের কৃষিপ্রধান দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের কৃষি খাতে নারীদের অংশগ্রহণ সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে। বৈশ্বিক গড় হারের চেয়েও বেশি নারী এখন এই খাতে যুক্ত, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে। নারীদের এই অংশগ্রহণ শুধু দেশের কৃষি উৎপাদন বাড়াচ্ছে না বরং তাদের আর্থিক স্বাধীনতার সুযোগও তৈরি করছে। দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নারীদের এই অবদানকে আরও সুসংহত করতে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং সহজ ঋণ সুবিধার প্রয়োজন। যা তাদেরকে আরও দক্ষ ও আত্মনির্ভর হতে সহায়তা করবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাত আজ দেশজুড়ে বিস্তৃত। দেশে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি শিল্প কারখানাই এসএমই খাতে, যা কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই খাতে নারীদের অংশগ্রহণ এখনও তুলনামূলক কম- শুধুমাত্র ৭.২১%। নারীদের উদ্যোক্তা তৈরিতে অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। ব্যাংকগুলো নারীদের জন্য অর্থায়নের ক্ষেত্রে এখনও খুবই সীমিত ভূমিকা পালন করছে, যা মোট অর্থায়নের মাত্র ২৩%। বাকিটা আসে উচ্চ সুদের বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) ঋণ থেকে। যা অনেক নারীর জন্য আর্থিকভাবে চাপ সৃষ্টি করে। ফলে এই উচ্চ সুদের কারণে অনেক নারী উদ্যোক্তা তাঁদের ব্যবসা সম্প্রসারণে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। এ সমস্যা মোকাবেলা করেও অর্থনীতিতে নারীদের ভূমিকা ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৬৮ লাখ নারী কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতে কাজ করছেন। যা দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাচ্ছে। উৎপাদন ব্যবস্থায়ও নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা তাদের আয়ের পথ খুলে দিচ্ছে এবং সামাজিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে।
নারীর ক্ষমতায়নে সরকারের উদ্যোগ: বাংলাদেশ সরকার নারীদের অর্থনীতির মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে একাধিক কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যার মাধ্যমে নারীদের জন্য নতুন সুযোগের ধার খুলে দিচ্ছে। নারী উন্নয়ন নীতির প্রণয়ন, মেয়েদের শিক্ষা প্রসারে বিনামূল্যে বই বিতরণ, উদ্যোক্তা নারীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ প্রদান এবং মাতৃত্বকালীন সুবিধার মাধ্যমে নারীদের আর্থিক স্বাবলম্বিতার পথে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। এসব উদ্যোগ নারীদের কাজের পরিবেশকে আরও সহজ করেছে এবং কর্মজীবনে স্থিতিশীলতা এনে দিয়েছে। ফলে নারীরা তাদের ক্যারিয়ার ও পরিবার দুটোই সুন্দরভাবে পরিচালনা করতে পারছেন।
নারী উদ্যোক্তা তৈরি ও তাদের ক্ষমতায়ন করতে সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, কর্মশালা এবং ঋণ সুবিধা প্রদান নারীশক্তির অগ্রগতি আরও ত্বরান্বিত করছে।
বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং ই-কমার্সের প্রসার নারীদের উদ্যোক্তা হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন অনেক নারী নিজের উদ্যোগে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে ব্যবসা করছেন, যা তাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সহায়ক। প্রযুক্তি, ব্যাংকিং, সৃজনশীল খাত ও গবেষণা এবং উন্নয়ন খাতেও নারীদের অংশগ্রহণ বেড়ে চলেছে। আজকের নারী একাধারে সাংসারিক কাজ করছেন, নিজে ব্যবসা পরিচালনা করছেন এবং সমাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন যা দেশব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখছে। বাংলাদেশের নারীরা যদি আরও উন্নত প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং অর্থনৈতিক সুযোগ- সুবিধা পায় তবে তারা আরও বৃহত্তর পরিসরে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হবেন। যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলবে।
নারীর অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সম্ভাবনা: বাংলাদেশে নারীরা দেশের অর্থনীতির অমূল্য অংশ হিসেবে কাজ করছেন। তবে তাদের অনেক অবদান এখনও জাতীয় আয়ের পরিমাপের বাহিরে। অর্থনীতিবিদরা দেখিয়েছেন যে, ৪৩ শতাংশেরও বেশি নারী পুরোপুরি গৃহস্থালি কাজের সঙ্গে যুক্ত। এর বিপরীতে পুরুষদের সংখ্যা সেখানে ১ শতাংশেরও কম। গৃহস্থালি কাজ যেমন- সাংসারিক কাজ, পরিবার চালানো, খাবার প্রস্তুত করা, সন্তান লালন-পালন এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম নারীর জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু জাতীয় আয় পরিমাপের (এসএনএ) পদ্ধতিতে এটি স্বীকৃত নয়।
এছাড়া দেশের মোট জাতীয় উৎপাদনে (জিডিপি) নারীর অবদান বর্তমানে ২০ শতাংশ। তবে যদি গৃহস্থালি কাজের শ্রমকে জাতীয় আয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তবে নারীর অবদান জিডিপিতে প্রায় ৪৮ শতাংশে পৌঁছাবে। এটি প্রমাণ করে যে, নারীদের অবদান শুধু সংসারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং দেশের অর্থনীতির ক্ষেত্রেও এক অমূল্য অংশ। গৃহস্থালি কাজকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিমাপ ও স্বীকৃতি দেওয়া হলে, নারীদের পরিশ্রমের প্রকৃত মূল্যায়ন করা হবে। যা তাদের আরও শ্রদ্ধা ও সহায়তা প্রদানকে নিশ্চিত করবে। এটি নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে আরও বাড়িয়ে তুলবে এবং দেশের অর্থনৈতিক নীতিতে নারীদের ভূমিকা আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
তাছাড়া বাংলাদেশে বিদেশগামী নারী কর্মীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, যা দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জনশক্তি,কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য মতে- গত ২০ বছরে বাংলাদেশ থেকে ১১ লাখ ৬২ হাজার ৭৯১ জন নারী শ্রমিক বিভিন্ন দেশে গিয়েছেন। বিদেশে বাংলাদেশি নারীরা পরিচর্যা খাতসহ বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করছেন এবং তাদের পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। যত বেশি নারী দক্ষতা ভিত্তিক কর্মসংস্থানে যুক্ত হবে, ততবেশি রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়বে। দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীদের জন্য আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা গেলে, তারা আরও বড় আকারে বিদেশে কাজ করতে সক্ষম হবে। যা দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নারীদের চ্যালেঞ্জ: বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রগতিতে নারীদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তবে তাদের সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে একসময় নারী শ্রমিকদের সংখ্যা ৮০ শতাংশেরও বেশি ছিল কিন্তু বর্তমানে তা ৫০ শতাংশের কাছাকাছি নেমে এসেছে। এর পেছনে বিভিন্ন কারণ কাজ করছে যার মধ্যে কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, কম মজুরি, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে না পারা অন্যতম।
এছাড়া নারীদের জন্য একের পর এক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে- পুরুষের তুলনায় কম মজুরি, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের চাপ এবং স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি চালানোর দক্ষতার অভাব। উপরন্তু কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, নিপীড়ন এবং পরিবার সামলানোর চাপ নারীদের জন্য আরও কঠিন করে তুলছে। সন্তান লালন-পালন ও গৃহস্থালির কাজের চাপের সঙ্গে এই পরিবেশে কাজ করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ছে।
এছাড়াও, নিরাপত্তা সংকট নারীদের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। অনেক নারী কর্মক্ষেত্রে হয়রানি এবং নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হচ্ছেন। যা তাদের মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ ধরনের পরিস্থিতি তাদের কর্মজীবনে প্রভাব ফেলে এবং স্বাভাবিক কাজের গতিকে বাধাগ্রস্ত করে।
দক্ষতা উন্নয়নের অভাব নারীদের পেশাগত উন্নতির ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, ব্যাংকিং ও আইটি খাতে দক্ষতা না থাকার কারণে অনেক নারী এ ধরনের উচ্চ বেতনের কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই নারীদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য বিশেষ কর্মসূচি প্রয়োজন, যাতে তারা প্রতিযোগিতামূলক খাতে স্থান করে নিতে পারেন।
নারীদের সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ানোর জন্য বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। যদি নারীদের জন্য সমতাভিত্তিক মজুরি নীতি, কর্মক্ষেত্রে নির্বিঘ্নে কাজ করার পরিবেশ, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য কর সুবিধা, আধুনিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং বাস্তবমুখী কাজের অভিজ্ঞতার সুযোগ তৈরি করা হয়, তবে তারা এই প্রতিযোগিতামূলক খাতগুলোর মধ্যে নিজেদের স্থান দখল করে নিতে সক্ষম হবেন। এর মাধ্যমে নারীরা শুধু পেশাগতভাবে উন্নতি লাভ করবেন না বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নতিতেও তাদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে। তাছাড়া গৃহস্থালি কাজকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিমাপ ও স্বীকৃতি দেওয়া হলে, নারীদের পরিশ্রমের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে। যা তাদের আরও শ্রদ্ধা ও সহায়তা প্রদানকে নিশ্চিত করবে। এটি নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে আরও বাড়িয়ে তুলবে এবং দেশের অর্থনৈতিক নীতিতে নারীদের ভূমিকা আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ও কম সুদের ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে তারা আরও বেশি সংখ্যায় এসএমই খাতে যুক্ত হতে পারবেন। তাছাড়া দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে বিকশিত হওয়ার পথে সহায়ক হবে। এভাবেই এসএমই খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ আরও টেকসই অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।
আমাদের মোট জনসংখ্যার একটা বিশাল অংশ নারী। তাই নারীদের অংশগ্রহণ ছাড়া বাংলাদেশের অর্থনীতি পূর্ণাঙ্গভাবে বিকশিত হতে পারবে না। নারীরা তাদের মেধা, শ্রম ও উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছেন। তাদের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি করা হলে বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাবে।

