২০২৪ অর্থবছরে রেকর্ড ২ হাজার ৩০১ কোটি টাকার পরিচালন মুনাফা করেছে পূবালী ব্যাংক। তবে এত বড় অঙ্কের আয় হলেও বছরের শেষ পর্যন্ত ব্যাংকটির নিট মুনাফা হাজার কোটি টাকায় পৌঁছায়নি। গত বছর শেষে নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৭৮০ কোটি টাকায় যা আগের বছরের তুলনায় ৮২ কোটি টাকা বা প্রায় ১২ শতাংশ বেশি। ২০২৩ সালে ব্যাংকটি নিট মুনাফা করেছিল ৬৯৮ কোটি টাকা।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে ২০২৪ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং লভ্যাংশ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে জানানো হয়, গত বছরের মতো এবারও শেয়ারধারীদের জন্য ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে পূবালী ব্যাংক। এর মধ্যে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ এবং ১২ দশমিক ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার।
ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে পূবালী ব্যাংক কেবল ঋণের সুদ থেকেই আয় করেছে ১ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা। বিনিয়োগ, কমিশন, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ও ব্রোকারেজ খাত থেকে আরও ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা আয় করেছে ব্যাংকটি। সব মিলিয়ে ব্যাংকটির মোট আয় দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৩৫ কোটি টাকা। এই সময়ে বেতন-ভাতা, পরিচালন ও অন্যান্য খাতে ব্যয় হয় ১ হাজার ৯৩৩ কোটি টাকা, ফলে পরিচালন মুনাফা দাঁড়ায় ২ হাজার ৩০১ কোটি টাকা।
তবে নিট মুনাফা কম হওয়ার পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে নিরাপত্তা সঞ্চিতি বাড়ানোকে তুলে ধরেছেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, “ভবিষ্যতের ঝুঁকি বিবেচনায় আমরা চাহিদার চেয়েও বেশি নিরাপত্তা সঞ্চিতি রেখেছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। খেলাপি ঋণের তুলনায় বেশি সঞ্চিতি রাখার ফলে ব্যাংকের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে।”
২০২৪ সালে পূবালী ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৪ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। একই সময়ে ঋণ বিতরণের পরিমাণ পৌঁছেছে ৬২ হাজার ৯২৫ কোটি টাকায়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার কমে এখন ২ দশমিক ৬৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে যা দেশের ব্যাংক খাতে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
বর্তমানে পূবালী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ১৫৬ কোটি টাকা। সারা দেশে ব্যাংকটির ৫০৮টি শাখা ও ২২৭টি উপশাখা রয়েছে। কর্মী সংখ্যা ১০ হাজার ৬৭৮ জন। নেটওয়ার্ক বিস্তারের দিক থেকে পূবালী ব্যাংক এখন দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যাংক হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।

