চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন—এই তিন মাসে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন বিক্রি থেকে আয় দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার কোটি ডলারে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্মার্টফোন খাতে এটি সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়ের রেকর্ড।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ ‘মার্কেট মনিটর’ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সময় বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোন বিক্রি বেড়েছে মাত্র ৩ শতাংশ। তবে স্মার্টফোনের গড় বিক্রয়মূল্য (ASP) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫০ ডলার, যা বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের হিসাবে নতুন রেকর্ড।
কাউন্টারপয়েন্ট এর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক শিল্পি জৈন বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অর্থনৈতিক চাপ থাকলেও আয়ে প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কনীতি কিছুটা শিথিল হওয়ায় উন্নত বাজারগুলোয় প্রিমিয়াম ফোনের চাহিদা বেড়েছে। এতে নির্মাতারা লাভবান হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রিমিয়াম ফোন কেনার হার আশার চেয়েও দ্রুত বাড়ছে। কিস্তি সুবিধা, পুরনো ফোন বদলে নতুন কেনার সুযোগ এবং বড় ব্র্যান্ডগুলোর নানা অফার ও ছাড় এর কারণ।”
স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় করেছে অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটির আয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে আইফোন ১৬ সিরিজের ব্যাপক চাহিদা।
কাউন্টারপয়েন্ট এর পরিচালক জেফ ফিল্ডহ্যাক বলেন, “বিভিন্ন দেশে প্রিমিয়াম ফোনের চাহিদা বাড়ছে। এর সুফল পাচ্ছে অ্যাপল।”
তিনি জানান, দ্বিতীয় প্রান্তিকের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কসংক্রান্ত অনিশ্চয়তার কারণে বড় সংখ্যায় ইউনিট সরবরাহ করে অ্যাপল। এরই মাঝে আইফোন ১৬ সিরিজের সাফল্যে জাপান দ্রুতবর্ধনশীল বাজারে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও ভারতেও অ্যাপলের বিক্রি শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে সবচেয়ে বেশি স্মার্টফোন বিক্রি করেছে স্যামসাং। তাদের বিক্রি ও আয় উভয়ই বেড়েছে ৪ শতাংশ।
স্যামসাংয়ের এ সাফল্যের পেছনে আছে মধ্যম দামের গ্যালাক্সি এ সিরিজের চাহিদা। পাশাপাশি প্রিমিয়াম বাজারে গ্যালাক্সি এস২৫ সিরিজ ও নতুন এস২৫ এজ মডেলও আশানুরূপ সাড়া পেয়েছে।
জুনে শেষ হওয়া প্রান্তিকে গড় বিক্রয়মূল্য (ASP) সবচেয়ে বেশি বেড়েছে অপোর, ১৪ শতাংশ। চীনা এই ব্র্যান্ডটি এখন প্রিমিয়াম ফোনে জোর দিচ্ছে। তাদের রেনো ১৩ সিরিজ ও ফাইন্ড এক্স৮ মডেল এর উদাহরণ।
এদিকে, আরেক চীনা ব্র্যান্ড শাওমিও পিছিয়ে নেই। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসি বলছে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৪ কোটি ২৫ লাখ স্মার্টফোন বিক্রি করেছে শাওমি। প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে তারা ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ শেয়ার নিয়ে অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের পর তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, চলতি বছর স্মার্টফোন বাজারে প্রিমিয়াম ফোনের চাহিদা আরও বাড়বে। বিক্রির পরিমাণ যতটা বাড়বে, আয়ের পরিমাণ তার চেয়েও বেশি হবে। তারা বলছেন, জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তির ফোন এবং ফোল্ডেবল স্মার্টফোন নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। এ ধরণের ডিভাইস বাজারে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

