ডলার বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে আরও ১৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার ১২১ টাকা ৫০ পয়সা দরে নিলামে এই ডলার কেনা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, ডলার দর স্থিতিশীল রাখতে দর কমে গেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিলামে ডলার কিনে নেয়। তিনি বলেন, “প্রয়োজন হলে সামনে আরো কেনা হবে।”
পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন- “বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগ সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। রিজার্ভ বাড়ানোই এখন তাদের লক্ষ্য। তবে ভবিষ্যতে ডলার বাজারে নতুন চাপ আসতে পারে, সেটিও মাথায় রাখতে হবে।”
এক বাণিজ্যিক ব্যাংকের ডেপুটি এমডি জানান- বাংলাদেশ ব্যাংক তিন কোটি ডলার কেনার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু নিলামে কেনা হয়েছে ১৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যাতে বাজারে ডলারের দর না কমে।
গত সপ্তাহে দুই দফায় নিলামে ডলার কেনে বাংলাদেশ ব্যাংক। জুলাই থেকে এ পর্যন্ত ছয় দফা নিলামে মোট কেনা হয়েছে ৭৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এর মধ্যে গত রোববার ১২১ টাকা ৪৭ পয়সা থেকে ১২১ টাকা ৫০ পয়সা দরে কেনা হয় ৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার। ৭ আগস্ট কেনা হয় আরও ৫০ লাখ ডলার, তখন প্রতি ডলারের দাম ছিল ১২১ টাকা ৩৫ পয়সা থেকে ১২১ টাকা ৫০ পয়সা।
এর আগে তিন ধাপে বিভিন্ন দামে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে প্রায় ৫০ কোটি ডলার কেনা হয়েছিল। ব্যাংকারদের মতে, রেমিটেন্স ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি নিলামে ডলার কেনাও রিজার্ভ বাড়াতে সহায়তা করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান- আমদানি ঋণপত্র খোলার পরিমাণ কমেছে এবং আগের বকেয়া এলসি পরিশোধ হয়ে গেছে। ফলে চাহিদার তুলনায় ডলারের সরবরাহ বেড়ে দর কিছুটা কমেছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকে প্রতি মাসেই ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিটেন্স এসেছে। এর মধ্যে চলতি বছরের মার্চে ৩ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স এসেছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

