দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান থেকে অর্থায়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ৩.১ বিলিয়ন ডলারের দুটি সেতু প্রকল্পে। বাস্তবায়িত হলে দেশের আঞ্চলিক সংযোগে বিশাল পরিবর্তন হবে। অর্থনীতিতেও গতি যোগ হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেতুগুলো ২০৩৩ সালের মধ্যে শেষ হবে।
সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২৫ জুন প্রাথমিক প্রকল্প প্রস্তাবনা পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কমিশন প্রস্তাবগুলো যাচাই করছে। ৪ আগস্ট মেঘনা সেতু নির্মাণ নিয়ে সরকারি–বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) কাঠামোর পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ভোলা–বরিশাল সেতু: দুটি প্রকল্পের মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো ভোলা–বরিশাল সেতু। ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা। ১০ দশমিক ৮৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুটি দেশের সবচেয়ে বড় হবে। এটি ভোলা দ্বীপকে স্থায়ীভাবে বরিশালের সঙ্গে যুক্ত করবে। ২০২৪ সালের সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় বলা হয়েছে, সেতুটি বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং আগামী ৩০ বছরে জিডিপিতে ০.৮৬ শতাংশ অবদান রাখবে। পাশাপাশি ভোলা থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহও সহজ হবে। জাপানের মিয়াগাওয়া কনস্ট্রাকশন লিমিটেড অর্থায়নে আগ্রহ দেখিয়েছে।
শরীয়তপুর–চাঁদপুর সেতু: দ্বিতীয় প্রকল্প হলো শরীয়তপুর–চাঁদপুর সেতু। ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এটি মেঘনা নদীর ওপর নির্মিত হবে। ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৯৫৭ কোটি টাকা। সেতুটি নির্মাণ হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলা সরাসরি দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ১১ জেলার সঙ্গে যুক্ত হবে। ফেরীর ওপর নির্ভরশীলতা কমবে। চট্টগ্রাম–খুলনার সড়ক দূরত্ব প্রায় ৯০ কিলোমিটার কমবে। ঢাকার ওপর যানবাহনের চাপও কমবে।
সেতু বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুরের হরিনা ফেরীঘাট থেকে সেতুটি শুরু হবে। অন্যপ্রান্তের সংযোগসড়ক মিলিত হবে শরীয়তপুরের সখিপুরে। প্রাথমিক প্রকল্প অনুযায়ী, ২০৩২ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। গত বছর সমীক্ষা প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়া তার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ) থেকে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। সুদের হার ০.০১ থেকে ০.০৫ শতাংশ, পরিশোধের মেয়াদ ৪০ বছর পর্যন্ত। শর্ত হলো, কাজ কোরিয়ান ঠিকাদারদের মাধ্যমে করতে হবে। জাপানের কাছেও ঋণ চাওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন বর্তমানে প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে। কোরিয়ার কর্তৃপক্ষ মেঘনা সেতুর প্রস্তাব ঋণ নিশ্চিত করার জন্য চেয়েছে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজী মুহাম্মদ ফেরদৌস বলেন, “শরীয়তপুর–চাঁদপুর সেতুতে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়নের আগ্রহ আছে। জাপানের কাছ থেকেও ঋণ চাওয়া হয়েছে। যৌথভাবে অর্থায়ন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বিস্তারিত নকশা তৈরি হলে ব্যয় কিছুটা বাড়তে পারে।”

