এশিয়ার ধনীরা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে দ্রুত বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন। বিশেষ করে ফ্যামিলি অফিসের মাধ্যমে তারা ডিজিটাল সম্পদে আগ্রহ দেখাচ্ছে। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্রিপ্টো খাতের ওপর আশাবাদ, মূলধারায় গ্রহণযোগ্যতা ও গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোতে সহায়ক নীতির কারণে এই প্রবণতা বেড়েছে। খবর রয়টার্স।
সম্পদ ব্যবস্থাপকরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চ আয়ের এশীয় বিনিয়োগকারীরা ক্রিপ্টো খাতে বেশি অংশীদারিত্ব চাইছেন। এর প্রভাব পড়েছে এক্সচেঞ্জগুলোর লেনদেন এবং ক্রিপ্টোর চাহিদায়।
নেক্সটজেন ডিজিটাল ভেঞ্চারের প্রতিষ্ঠাতা জেসন হুয়াং বলেন, কয়েক মাসে তারা ১০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছেন। মে মাসের শেষ দিকে সিঙ্গাপুরে নতুন লং-শর্ট ক্রিপ্টো ইকুইটি ফান্ড ‘নেক্সট জেনারেশন ফান্ড টু’ চালু করেন তিনি। এর আগে বন্ধ করা প্রথম ফান্ডটি দুই বছরেরও কম সময়ে ৩৭৫ শতাংশ মুনাফা দিয়েছে।
জেসন হুয়াং বলেন, “আমাদের বিনিয়োগকারীরা মূলত ফ্যামিলি অফিস এবং ইন্টারনেট বা ফিনটেক উদ্যোক্তা। তাই বোঝা যায়, বৈচিত্র্যময় পোর্টফোলিওতে ডিজিটাল সম্পদের ভূমিকা কতটা বাড়ছে।”
এদিকে, সুইস বিনিয়োগ ব্যাংক ইউবিএস জানিয়েছে, বিদেশে অবস্থিত কিছু চীনা ফ্যামিলি অফিস পোর্টফোলিওতে ক্রিপ্টো বিনিয়োগ প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। ইউবিএস চায়নার ওয়েলথ ম্যানেজমেন্ট প্রধান লু জিজিয়ে বলেন, “ফ্যামিলি অফিসের অনেক দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের সদস্য এখন ভার্চুয়াল মুদ্রা বিষয়ে খুঁটিনাটি তথ্য জানতে চাইছে এবং এ খাতে অংশ নিচ্ছে।”
গত বছর ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়লাভের পর ক্রিপ্টো খাতে নতুন জোয়ার শুরু হয়। সম্প্রতি দেশটিতে পাস হয়েছে ক্রিপ্টো-বান্ধব ‘জিনিয়াস অ্যাক্ট’। এর পাশাপাশি হংকংয়ে গৃহীত স্টেবলকয়েন আইনও এশিয়ার ধনীদের উচ্ছ্বাস বাড়িয়েছে।
বিটকয়েনের দাম চলতি মাসে রেকর্ড ১ লাখ ২৪ হাজার ডলার অতিক্রম করেছে।
সম্পদ ব্যবস্থাপকরা বলছেন, কয়েক বছর আগেও এশীয় গ্রাহকরা পোর্টফোলিওতে অল্প পরিমাণ ডিজিটাল মুদ্রা রাখতেন। এখন তারা ক্রিপ্টোকে অপরিহার্য মনে করছেন এবং আয় বাড়াতে নতুন কৌশল খুঁজছেন।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক রেভো ডিজিটাল ফ্যামিলি অফিসের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা জ্যান কওয়ান জানান, গত বছর ফ্যামিলি অফিসগুলো প্রথমে বিটকয়েন ইটিএফে বিনিয়োগ শুরু করেছিল। এখন তারা এক্সচেঞ্জে বিনিয়োগের সঙ্গে সরাসরি টোকেন রাখার পার্থক্য শিখতে শুরু করেছে।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক সম্পদ ব্যবস্থাপক লাইটহাউজ ক্যান্টন জানিয়েছেন, কিছু অভিজ্ঞ ফ্যামিলি অফিস ইতিমধ্যেই বেসিস ট্রেড ও আরবিট্রেজের মতো বাজার-নিরপেক্ষ কৌশল ব্যবহার করছে।
লেনদেন বাড়ায় এশিয়ার ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জগুলোও উপকৃত হচ্ছে। হংকংয়ের হ্যাশকি এক্সচেঞ্জ জানিয়েছে, তাদের নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর সংখ্যা আগস্টে শেষ হওয়া এক বছরের তুলনায় ৮৫ শতাংশ বেড়েছে।

