চীনা স্মার্টফোন ও বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) নির্মাতা শাওমির আয় চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ৩০.৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৬০০ কোটি ইউয়ান বা প্রায় ১ হাজার ৬১৬ কোটি ডলার। বিশ্লেষকদের প্রত্যাশিত ১১ হাজার ৪৭০ কোটি ইউয়ানকে এটি ছাড়িয়েছে। খবর দিয়েছে রয়টার্স।
কোম্পানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আয়ের বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে স্মার্টফোন খাত। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জুনে শেষ হওয়া প্রান্তিকে এই অঞ্চলে শাওমি সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া স্মার্টফোন ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। এছাড়া ইউরোপে শিপমেন্টের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে বার্ষিক স্মার্টফোন লক্ষ্য কমিয়ে এনেছেন শাওমির প্রেসিডেন্ট লু ওয়েইবিং। প্রথম প্রান্তিকে ঘোষিত লক্ষ্য ছিল ১৮ কোটি ইউনিট। পরিবর্তে দ্বিতীয় প্রান্তিকে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ কোটি ৫০ লাখ ইউনিট।
সমন্বিত নিট মুনাফা দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৭৫.৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮০ কোটি ইউয়ান হয়েছে। এটি বিশ্লেষকদের গড় পূর্বাভাস ১ হাজার ১০ কোটি ইউয়ানকেও অতিক্রম করেছে। এর ফলে শাওমি বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন বাজারে শক্তিশালী অবস্থান বজায় রাখছে।
ইভি ব্যবসা থেকেও কোম্পানির আয় বেড়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে শাওমি ইভি থেকে ২ হাজার ৬০ কোটি ইউয়ান আয় করেছে, যা প্রথম প্রান্তিকের ১ হাজার ৮১০ কোটি ইউয়ানের তুলনায় বেশি। এপ্রিল-জুনে ৮১ হাজার ৩০২টি ইভি সরবরাহ করেছে কোম্পানি, যা প্রথম প্রান্তিকের ৭৫ হাজার ৮৬৯ ইউনিটের তুলনায় বৃদ্ধি। এই সময়ে একমাত্র ইভি মডেল ছিল এসইউ৭। জুনের শেষ নাগাদ বাজারে দ্বিতীয় মডেল ওয়াইইউ৭ আসে, যার সরবরাহ শুরু হয়েছে জুলাই থেকে।
ইভি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অন্যান্য নতুন উদ্যোগ থেকে দ্বিতীয় প্রান্তিকে শাওমির নিট লোকসান হয়েছে মাত্র ৩০ কোটি ইউয়ান। প্রথম প্রান্তিকে এই ক্ষতি ছিল ৫০ কোটি ইউয়ান।
লু ওয়েইবিং আশা করছেন, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) শাওমির ইভি বিভাগ মুনাফা অর্জন করবে।
শাওমি ২০২৪ সালের মার্চে ইভি বাজারে প্রবেশ করে। এর পর থেকে গত জুলাই পর্যন্ত কোম্পানি মোট তিন লাখ বৈদ্যুতিক গাড়ি বিক্রি করেছে।

