বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ এমন উচ্চতায় পৌঁছেছে যা আগে কখনও দেখা যায়নি। প্রতি ১০০ টাকা ঋণের প্রায় ৩৬ টাকা এখন খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত। ব্যাংকগুলোর ব্যালান্স শিট দুর্বল হয়েছে, মূলধনের নিরাপত্তা ক্ষয় হয়েছে, আর নতুন ঋণ প্রদানও সীমিত হয়ে পড়েছে। এতে ব্যক্তিগত বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, চাকরি সৃষ্টি কমছে এবং দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে ব্যাঘাত ঘটছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গত বুধবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার দিকে দেশের মোট খেলাপি ঋণ ৬.৪৪ লাখ কোটি টাকা এ পৌঁছেছে। এটি দেশের মোট ঋণের ৩৫.৭৩ শতাংশ। ঠিক এক বছর আগে সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২.৮৪ লাখ কোটি টাকা অর্থাৎ মাত্র এক বছরে খেলাপি ঋণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এই পরিস্থিতি কীভাবে এ পর্যায়ে পৌঁছালো? ব্যাংকিং খাত ও ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের মধ্যে কোন কোন কারণে খেলাপি ঋণ এই ঐতিহাসিক স্তরে পৌঁছেছে? ঋণ জালিয়াতি, তহবিল করা এবং স্বজনপ্রীতির মতো অনিয়মগুলো প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু খেলাপি ঋণের সংখ্যাই নয়, এর প্রভাব দেশের অর্থনীতিতেও বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। ব্যাংকগুলো নতুন ঋণ দিতে সতর্ক হচ্ছে, ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণ থেমে যাচ্ছে এবং বিনিয়োগ কমছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সংকট কাটাতে সতর্ক ঋণ প্রদান, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় ব্যক্তিগত বিনিয়োগের ঘাটতি দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি আরও পিছিয়ে দেবে।
কীভাবে খেলাপি ঋণের সংকট এমন ভয়াবহ হলো?
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের বর্তমান তীব্র সংকটের পেছনে মূল কারণ হিসেবে অর্থ তহবিলের অপব্যবহার বা অন্য কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রায় চার দশকের অভিজ্ঞতা থাকা একজন সাবেক শীর্ষ ব্যাংকার বলেন, তহবিল অন্য কাজে ব্যবহার করা হলো খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির একমাত্র প্রধান কারণ। ২০১৫–১৬ সালে একটি বোতলিং প্ল্যান্ট ও সিলিন্ডার কারখানার খরচ আনুমানিক ৪৫০ কোটি টাকা কিন্তু কিছু কোম্পানি ১০০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, শ্রেণিবদ্ধ ঋণ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ৬.৪৪ লাখ কোটি টাকা হয়েছে, যা দেশের মোট ঋণের ৩৫.৭৩ শতাংশ। অতিরিক্ত অর্থ অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে জমি কেনা, বিলাসবহুল গাড়ি ও বিদেশ ভ্রমণের জন্য। সাবেক শীর্ষ ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, “প্ল্যান্ট থেকে ফেরত হবে মাত্র ৪৫০ কোটি টাকা, কিন্তু ১,০০০ কোটি টাকার কিস্তি পরিশোধ করতে হবে। তাই ঋণ সবসময় ঘাটতিতে থাকবে।” বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, খেলাপি ঋণের সমস্যা নতুন নয়। বরং বছরের পর বছর ধরে এটি লুকানো ছিল।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, খেলাপি ঋণ সংক্রান্ত তথ্য অনেক বছর ধরে প্রকাশ করা হয়নি। এটা যেন লুকোচুরি খেলার মতো ছিল।” অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বুখতার আহমেদ একই মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “অনেক খেলাপি ঋণ আগে লুকানো হতো। এখন আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করা হচ্ছে, তাই আমরা বাস্তব ছবি দেখতে পাচ্ছি।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্পদ মান যাচাই পরীক্ষার মাধ্যমে অনেক ব্যাংকের খেলাপি ঋণের প্রকৃত পরিমাণ উন্মোচিত হয়েছে।এই রিভিউয়ের কারণে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ব্যাংকারদের মতে, সাবেক শাসনকালে ব্যাপক দুর্নীতি অনেক ব্যাংককে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে এবং খেলাপি ঋণের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, এস আলম গ্রুপ অন্তত এক লাখ কোটি টাকার ঋণ অনিয়মে জড়িত, যার বড় অংশ সম্ভবত বিদেশে স্থানান্তরিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন এই গ্রুপের নিয়ন্ত্রণাধীন চারটি ব্যাংকসহ মোট পাঁচটি ব্যাংকের সংযুক্তি প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যাদের খেলাপি ঋণের অনুপাত ৯০% ছাড়িয়ে গেছে। এই পাঁচটি ব্যাংকই একা মিলিয়ে ১.৫ লাখ কোটি টাকা, অর্থাৎ মোট খেলাপি ঋণের ২৪ শতাংশ। এই সংযুক্তির খরচ শেষ পর্যন্ত সাধারণ করদাতাদের ওপর পড়বে।
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমান খেলাপি ঋণের উর্ধ্বগতির তিনটি মূল কারণ চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, অনেক খেলাপি ঋণ আগের সরকারের সময় লুকানো ছিল। এখন সম্পদ মান যাচাই পরীক্ষার কারণে এগুলো উন্মোচিত হয়েছে। আর মিথ্যা হিসাবের মাধ্যমে এগুলো আর লুকানো সম্ভব নয়।
তিনি আরও জানান, রাজনীতিকভাবে সংযুক্ত ঋণগ্রহীতারা সমস্যা তৈরি করেছেন। নতুন খেলাপি ঋণ এসেছে সরকার যখন বর্তমান আইন কার্যকর করছে। আশিকুর রহমানের মতে, আমার ধারণা, খেলাপি ঋণের বড় অংশ জালিয়াতি ও প্রতারণার ফল। এটি অর্থনৈতিক মন্দার কারণে হয়নি। বরং অর্থনৈতিক অলিগার্চরা রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে ঋণ নিয়েছে এবং কখনো ফেরত দেয়নি।
ঋণ শ্রেণিবিন্যাস কঠোর করা কি খেলাপি ঋণ বাড়িয়েছে?
বাংলাদেশ ব্যাংক আবারও ২০১২ সালের ঋণ শ্রেণিবিন্যাস নীতি চালু করেছে। এর অধীনে টার্ম লোনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ঋণগ্রহীতাকে শ্রেণিবদ্ধ করতে ছয় মাস কমানো হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ প্রোগ্রামের শর্ত অনুযায়ী করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ঋণগ্রহীতা কিস্তি পরিশোধ না করলে পরের দিনই তার ঋণ শ্রেণিবদ্ধ হবে। অর্থাৎ তিন মাসের মধ্যে ঋণ নন-পেমেন্টে শ্রেণিবদ্ধ হবে। আগে এই সময়সীমা ছিল ন’মাস।
অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন,”আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী, ৯০ দিনের মধ্যে কোনো ঋণ সাব-স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। কিন্তু আমাদের স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত অর্থমন্ত্রী মুস্তাফা কামাল এটি ১৮০ দিনে সম্প্রসারিত করেছিলেন। আমরা দীর্ঘদিন সেই নিয়ম অনুসরণ করেছি। আন্তর্জাতিক মানের পেছনে যুক্তি আছে।” তিনি আরও বলেন, ১৮০ দিনের মেয়াদ বাড়ানো অনেককে দায়িত্বহীন আচরণে উত্সাহিত করেছে। “এটি যেন আসক্তির মতো হয়ে গেছে – ঋণ নিয়ে তা ফেরত না দেয়ার অভ্যাস গড়ে উঠেছে। সহজে ঋণ পাওয়া একটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আর এই সিস্টেমের মধ্যে আমাদের ব্যাংকিং ব্যবসা পরিচালিত হয়েছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংক সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ নতুন রিসকেজুলিং সুবিধা চালু করেছে। এই সুবিধার উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ঋণ ফেরত নেয়া এবং খেলাপির কারণ নির্ধারণ করা। তবে তিনি সতর্ক করেন,এই সুবিধা প্রয়োগের ধরন মনিটর করতে হবে যেন এটি জোরপূর্বক ব্যবহার না হয়।” অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বুখতার আহমেদও বলেছেন, ঋণের ওভারডিউ সময় ১৮০ দিন থেকে ৯০ দিনে কমানো খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির একটি বড় কারণ।আমার মতে, ৯০ দিনের পরে ঋণ শ্রেণিবদ্ধ হওয়া উচিত, কারণ এটি আন্তর্জাতিক মান।”
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও কি খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির কারণ হয়েছে?
নতুন ঋণ শ্রেণিবিন্যাস নীতি চালুর পর খেলাপি ঋণ কেন এত বেড়েছে, তা জানতে চাইলে সাবেক বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মুহম্মদ রুমি আলী বলেন, মূল কারণ ব্যাংক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা। তিনি জানান, সাধারণত ব্যাংকাররা নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুযায়ী আন্দাজ করতে পারেন কোন ব্যবসা খেলাপি ঋণ করতে পারে। তবুও অনেক ব্যাংক ঝুঁকি সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়, এবং সতর্কতার সব চিহ্ন থাকা সত্ত্বেও যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী শ্রেণিবিন্যাস প্রয়োগের পর খেলাপি ঋণ একহঠাৎ বেড়ে যায়।
রুমি আলী বলেন, বিশ্বমানের বৈশ্বিক ব্যাংকগুলো তাদের ঋণগ্রহীতাদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে এবং ধীরে ধীরে তাদের গ্রেডিং ডাউনগ্রেড করে। “বাংলাদেশে ব্যাংকরা ঋণগ্রহীতাদের সঠিক গ্রেডিং রাখে না, যদিও তারা ব্যবসার বাস্তব অবস্থা জানে।” তিনি আরও বলেন, সমস্যাযুক্ত ব্যবসা অসীমকাল চলতে দেওয়া উচিত নয়। ব্যাংকগুলোকে একত্রে এই ব্যবসাগুলো বিক্রি বা স্থানান্তর করার পদক্ষেপ নিতে হবে। যারা প্রাথমিক সংকেত দেখাচ্ছে, তাদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও সতর্কবার্তা দেওয়া জরুরি। “কিন্তু এখানে ব্যাংকগুলো শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করে এবং তখনই ঋণগ্রহীতাদের শ্রেণিবদ্ধ করে, যা খেলাপি ঋণের হঠাৎ বৃদ্ধি ঘটায়।”
রুমি আলী আরও উল্লেখ করেন, কিছু ব্যাংক ব্যবস্থাপনা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঋণগ্রহীতাদের ডাউনগ্রেড করা এড়ায়, যদিও তারা জানে ব্যবসার অবস্থা খারাপ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাসেট কোয়ালিটি রিভিউ এবং আগের সরকারের সময়কার ব্যাপক দুর্নীতি ব্যাংকিং খাতে খারাপ ঋণের প্রকৃত পরিমাণ উন্মোচন করেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, একটি প্রাইভেট বাণিজ্যিক ব্যাংকের খেলাপি অনুপাত এক বছরে ৩০% থেকে ৮০% পর্যন্ত বেড়ে গেছে, মূলত রিভিউয়ের মাধ্যমে লুকানো অনিয়ম প্রকাশ পাওয়ায়।
প্রকৃত অর্থনৈতিক ধাক্কাও কি খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির কারণ?
প্রতারণা ও দুর্নীতির পাশাপাশি প্রকৃত অর্থনৈতিক চাপও খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে কয়েকটি ধাক্কা লেগেছে: কোভিড-১৯ মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং তীব্র ডলারের ঘাটতি। টাকা দর প্রতি ছয় মাসে ৮৬ টাকা থেকে ১১০ টাকা পর্যন্ত মান কমে এক বছরের মধ্যে ১২০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। এই ধারাবাহিক মূল্যহ্রাসের মধ্যে, দেশে ডলারের তীব্র ঘাটতি ছিল। ব্যবসায়ীরা অনেক সময় তাদের আমদানি পেমেন্ট ছয় মাস বা তার বেশি সময়ের জন্য স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছিল।
অনেক ব্যবসা ৮৬ টাকায় কাঁচামাল বা খাদ্যপণ্য আমদানি করেছে এবং সেই অনুযায়ী বিক্রি করেছে। কিন্তু যখন তাদের আমদানি বিল পরিশোধ করতে হয়েছে, তখন ডলারের হার বেড়ে ১২০ টাকা পৌঁছেছে – যা বিক্রয় মূল্যের তুলনায় ৪০% বৃদ্ধি। বড় প্রতিষ্ঠান যেমন মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ এবং সিটি গ্রুপ এই মুদ্রা-অস্থিরতা থেকে প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকার ক্ষতি সহ্য করেছে। তারা তাদের বিভিন্ন কোম্পানির নগদ প্রবাহ সামঞ্জস্য করে ধাক্কা সহ্য করতে পেরেছে। কিন্তু ছোট ও মাঝারি ব্যবসাগুলো, যারা ১০০–২০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে, তারা এই ধাক্কা সহ্য করতে পারেনি এবং খেলাপি ঋণে পড়েছে।
নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক এক ব্যাংকার বলেন, “কিছু ব্যবসা বছরের পর বছর বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ না পাওয়ায় খেলাপি ঋণে পড়েছে। তাদের কারখানা চালু হওয়ার আগেই কিস্তি দিতে শুরু করতে হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, ব্যবসার ধীরগতি ও দুর্বল বিনিয়োগ পরিবেশ খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির একটি বড় কারণ। বেসরকারি খাতের ঋণ বৃদ্ধি মাত্র ৬% এ পৌঁছেছে, যা ব্যবসার দুর্বলতার সংকেত। বিনিয়োগ বৃদ্ধিও খুবই কম। একই সময়ে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে সুদের হার বাড়ানো হয়েছে। এমন অর্থনৈতিক পরিবেশ স্বাভাবিকভাবেই বেশি খেলাপি ঋণ তৈরি করে।” সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংযুক্ত অনেক ব্যবসা বর্তমানে বিদেশে চলে গেছে বা কার্যক্রম বন্ধ করেছে। তাদের কারখানা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান খালি পড়ে আছে, এবং এই ঋণগ্রহীতাদের অনেকেই এখন খেলাপি ঋণ হিসেবে চিহ্নিত,
সংকট মোকাবেলায় খেলাপি ঋণ ফেরানোই প্রধান সমাধান:
পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের আশিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ এখনও আন্তর্জাতিক মানের যথাযথ নিয়ম মেনে চলার সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি, কারণ দেশ আগে কখনো এমন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়নি। কিন্তু এখন সেই সক্ষমতা তৈরি করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য ও চীনের উদাহরণ থেকে শেখার অনেক আছে। “বাংলাদেশকে তাদের পদ্ধতি অনুসরণ করে সঠিক নীতি প্রয়োগের সক্ষমতা তৈরি করতে হবে।”
আশিকুর রহমান আরও জানান, অনেক দেশে সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ব্যাংকের ব্যালান্স শিটে থাকা খেলাপি ঋণ কিনে নেয়। উদাহরণস্বরূপ, ধরা যাক পাঁচটি সংযুক্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ মিলিয়ে ১.৫ লাখ কোটি টাকা – তাহলে একটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এতো টাকা কোথা থেকে আনবে? এখানে বিভিন্ন আর্থিক কৌশল ব্যবহার করা যেতে পারে।
চীন ও মালয়েশিয়ার অনেক উদাহরণ আছে, যেমন নিশ্চিত সুদের হারযুক্ত বন্ড ইস্যু করা। চীনে এই বন্ডগুলো সরকার দ্বারা সমর্থিত। বাংলাদেশেও যদি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান সরকার সমর্থিত বন্ড ইস্যু করে, তাহলে ব্যাংকগুলো তাদের ব্যালান্স শিট থেকে খেলাপি ঋণ সরাতে পারবে।
তবে প্রশ্ন থেকে যায়—এই খেলাপি ঋণগুলো কিভাবে মূল্যায়ন করা হবে? বইভিত্তিক মূল্য নাকি বাজারভিত্তিক মূল্য অনুযায়ী? অধিকাংশ খেলাপি ঋণের পেছনে নিরাপত্তার জন্য কোনো গ্যারান্টি নেই, তাই বাজারভিত্তিক মূল্যায়ন করা খুব সীমিতভাবে সম্ভব।

