বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমান বাড়াতে সবচেয়ে বড় বাধার একটি হলো ‘বাইনারি’ বা সাদা-কালো চিন্তাভাবনা। আমরা এখনও ‘শিল্প নাকি কৃষি’ বা ‘উন্নয়ন নাকি পরিবেশ’—এই সরলীকৃত দ্বৈত দৃষ্টিভঙ্গিতেই সীমাবদ্ধ। অনেক সময় দেশ পরিচালনার বিষয়েও এই একই দৃষ্টিভঙ্গি দেখতে চাই।
তবে টেকসই উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হলো অর্থনীতি, পরিবেশ এবং মানবিক চাহিদাকে একসাথে বিবেচনা করা। বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এই সাদা-কালো চিন্তার যুগ অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশে দ্রুত জীবনমান উন্নয়নের জন্য শিল্পায়ন অপরিহার্য। শুধুমাত্র ‘কৃষিপ্রধান’ দেশের পরিচয় ধরে রেখে ধান, গম, ভুট্টাসহ ফসল উৎপাদনের ওপর নির্ভর করে ১৮ কোটি মানুষের দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব নয়।
উদাহরণ হিসেবে সিঙ্গাপুর দেখুন। বিশ শতকের মাঝামাঝি স্বাধীনতা লাভের সময় এটি ছিল মৎস্যভিত্তিক অর্থনীতির দেশ। আরও আগে, উনিশ শতকে এটি নিছক ‘জেলেপল্লি’ হিসেবে পরিচিত ছিল। আজ সিঙ্গাপুর শিল্পায়ন, বন্দর উন্নয়ন এবং ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আরও অনুরূপ উদাহরণ পাওয়া যায়। বাংলাদেশকে একই ধরনের বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে। বরং আরও বেশি বাস্তববাদী হওয়া প্রয়োজন। কারণ আমাদের জমির তুলনায় জনসংখ্যা অনেক বেশি।
অন্যদিকে, শিক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পর্যাপ্ত সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি তৈরি করতে পারছে না। ফলে শিক্ষিত মানুষের বড় অংশ নিজেদের অর্জিত জ্ঞানের আলোকে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করার পরিবর্তে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ভুল তথ্যকে বিশ্বাস করছে।
এটি শুধু ব্যক্তিগত বিশ্বাসে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এর ওপর ভিত্তি করে জনমতও গড়ে ওঠে। এই পরিস্থিতি দেশের বিভিন্ন সরকারের নেওয়া উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করছে। অনেক বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রস্তাবও প্রত্যাহার করতে বাধ্য হচ্ছে। এর ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং দেশে বেকারত্বের সমস্যা আরও প্রকট হয়ে উঠছে।
কঠোর দ্বৈত দৃষ্টিভঙ্গি ও অর্থনৈতিক ব্যর্থতা:
দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, দেশে বুদ্ধিজীবী গোষ্ঠী, বিশেষ করে প্রগতিশীল অংশটি এখনও টেকসই উন্নয়ন মডেল গ্রহণে অনাগ্রহী। তাদের চিন্তাভাবনা মূলত জিরো-সাম গেমের মতো, যেখানে এক পক্ষের লাভ মানেই অন্য পক্ষের ক্ষতি। বাকি বিশ্ব কিন্তু এ ধরনের ধারনা অনেক আগেই ত্যাগ করেছে। হতাশাজনকভাবে, আমাদের বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে ‘উভয় পক্ষই লাভবান হতে পারে’—এ ধরনের বাস্তববাদী ধারণা প্রায় অস্তিত্বহীন।
ইতিহাস দেখায়, কঠোর বাইনারি চিন্তাভাবনা বহু দেশের উন্নয়নকে পিছিয়ে দিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে সৌদি আরব ও ভেনেজুয়েলা। উভয় দেশেরই প্রচুর তেলসম্পদ থাকলেও পার্থক্য বিশাল। সৌদি আরব যুক্তি ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে মাথাপিছু আয় ৩২–৩৫ হাজার ডলারে উন্নীত করেছে। বিপরীতে, সমাজতান্ত্রিক নীতি ও অর্থনৈতিক অদক্ষতার কারণে ভেনেজুয়েলার মাথাপিছু আয় মাত্র ৩,১০০ ডলারে আটকে রয়েছে। ভবিষ্যতে এই ব্যবধান আরও বাড়ার সম্ভাবনা স্পষ্ট।
বাংলাদেশে কেবল অর্থনৈতিক পরিকল্পনাতেই নয়, আর্থ-সামাজিক বিষয়েও যুক্তিনির্ভর আলোচনা কম। সামাজিক-সাংস্কৃতিকভাবে ‘গোপনীয়’ বিষয় যেমন নিষিদ্ধ পল্লির মানুষদের জীবনমান উন্নয়ন নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা কঠিন। আলোচনা শুরুর আগেই বন্ধ করার চেষ্টা হয়। অথচ সমস্যাগুলো সমাজে জলজ্যান্ত। উত্তরণ সম্ভব হলেও একটি মহল আলোচনার পথ বন্ধ রাখতে চায়।
এ ধরনের পরিস্থিতি বিভিন্ন বিষয়ে, যেমন খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান ও উত্তোলনে বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনাতেও দেখা যায়। সমাজে অনেকেই এমন আলোচনাকে ‘দেশবিরোধী’ আখ্যা দিতে দ্বিধা করে না। পত্রপত্রিকায় আলোচনাও উঠলেও, বন্ধ করার চেষ্টা হয়।
‘ট্যাবু’ বিষয়গুলোতে অনাগ্রহী মানুষদের মধ্যে রাজনৈতিক আদর্শ ভিন্ন হলেও একটি মিল রয়েছে। তারা নিজেদের মনগড়া তথ্য ও যুক্তি দিয়ে সাধারণ মানুষকে নিজ দলে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নের প্রশ্নে এ ধরনের অবস্থান কেবল তাদের চিন্তাধারাকে অবিকশিত রাখে না, দেশের উন্নয়নকাজেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।
বিদেশি বিনিয়োগ যে কারণে এড়াব:
বড় আন্তর্জাতিক কোম্পানির প্রায় সবই পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি। তাদের বিনিয়োগের জন্য তিনটি শর্ত গুরুত্বপূর্ণ:
- নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে লাভজনকতা নিশ্চিত হতে হবে।
- শেয়ারহোল্ডারদের কাছে জবাবদিহি থাকতে হবে।
- স্থিতিশীল নীতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকতে হবে।
যদি আগেই বোঝা যায় যে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে শুধু বিরোধিতা, প্রতিবাদ ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হবে, তবে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলো কেন এখানে বিনিয়োগ করবে? বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক মহলের একটি অংশ দেশবাসীকে এমন তথ্য দেয়, যেন মনে হয় বিদেশি বিনিয়োগ সবসময় ক্ষতিকর। কিন্তু খতিয়ে দেখলে বোঝা যায়, এসব তত্ত্বের প্রায়োগিক মূল্য খুবই সীমিত।
অর্থনীতি বিশ্লেষক জিয়া হাসান প্রমাণ দিয়ে দেখিয়েছেন কীভাবে বাংলাদেশের মানুষদের বিভ্রান্ত করা হয়েছে বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রস্তাব নিয়ে। তিনি লিখেছেন– “বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চুক্তিতে এক্সপোর্ট পারমিসিবিলিটি ক্লজ থাকে। এর অর্থ, দেশে ব্যবহার না হলে উত্তোলিত খনিজ বিদেশে রপ্তানি করা যাবে। এগুলো সাধারণত স্ট্যান্ডার্ড বয়লারপয়েন্ট কন্টিনজেন্সি ক্লজ, যা বাস্তবে ব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। তবু আন্তর্জাতিক চুক্তিতে এর উপস্থিতি প্রচলিত। কিন্তু বাংলাদেশের বামপন্থিরা যুগের পর যুগ এই অযোগ্য ক্লজগুলো দেখিয়ে সব চুক্তিকেই ‘দেশীয় সম্পদ বিদেশে রপ্তানির ষড়যন্ত্র’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। বিদেশে কয়লা-গ্যাস বিক্রি হওয়ার ভয় দেখিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং মানুষকে আন্দোলনে যুক্ত করেছে।”
বিদেশি বিনিয়োগ ও দেশের লভ্যাংশ শেয়ারের অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা করলেও দেশের কিছু বুদ্ধিজীবী ও অ্যাক্টিভিস্ট একই ধরনের অবস্থান নেন। টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলী সুবাইল বিন আলম প্রশ্ন তুলেছেন– “দেশে বিনিয়োগ কীভাবে আসবে? সব আমাদের শর্তে হবে, এটা সম্ভব নয়। বিদেশি কোম্পানি তো দানবাক্স খুলে বসে নেই। আমাদের দেশে লজিস্টিকস ও অপারেশন ম্যাটেরিয়ালের দাম পাশের দেশের চেয়ে অন্তত ৩০% বেশি। অর্থনৈতিক ঝুঁকির তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি, তাহলে বিনিয়োগ আসবে কীভাবে?” বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ এড়ানোর মূল কারণ হলো অনিশ্চয়তা, বিরোধিতা, রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভ্রান্তি এবং তুলনামূলকভাবে উচ্চ খরচ ও ঝুঁকি।
বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান:
বাংলাদেশে অতীতে বহু বড় বিনিয়োগ প্রস্তাব শুধু রাজনৈতিক ভুল ব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তির কারণে বাতিল হয়েছে। এ বিষয় অস্বীকার করা সম্ভব নয়। পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ বা কোনো ক্ষেত্রে বিক্ষোভের চাপের কারণে প্রকল্প বাতিল করা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি বার্তা পাঠায়—বাংলাদেশ বিনিয়োগবান্ধব দেশ নয়। সাম্প্রতিক উদাহরণ চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন ও কনটেইনার টার্মিনাল উন্নয়ন পরিকল্পনা। এ ধরনের অপপ্রচারে শুধু উন্নয়ন নয়, বিদেশি বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে বর্তমানে কঠোর প্রতিযোগিতা চলছে, বিশেষত বৈদ্যুতিক গাড়ি, সবুজ প্রযুক্তি এবং ইলেকট্রনিক চিপ উৎপাদন খাতে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা ২০১৯ সালের পর থেকে এসব উচ্চ প্রযুক্তি শিল্পকে নিজেদের দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রকাশ্য প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে। অর্থাৎ বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা আগের চেয়ে অনেক কঠোর।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁর দল ক্ষমতায় এলে আগামী সংসদ নির্বাচনের ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেবে এবং বাংলাদেশের ৫০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা করবে। এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের এই পরিকল্পনা সফল করতে বিপুল বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ ও ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ অপরিহার্য।
বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগের আগে কিছু সূচক বিবেচনা করে। যেমন ২০১৯ সালের বিশ্বব্যাংকের ইজ অব ডুয়িং বিজনেস সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৬৮তম। একই সূচকে ভারত ছিল ৬৩তম। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ শুধু আফগানিস্তানের ওপরে—বাকি সব দেশ বাংলাদেশের ওপরে। এই অবস্থান ব্যবসার পরিবেশের সীমাবদ্ধতা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং নীতির অনিশ্চয়তাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
ফলস্বরূপ, বিদেশি কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগে আকর্ষণ করতে হলে প্রতিবেশী দেশের তুলনায় বেশি সুবিধা, স্থিতিশীল নীতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ পাশের দেশে বেশি সুবিধা, নীতি-স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা থাকার সময় অসুবিধাজনক ও অনিশ্চিত দেশে বিনিয়োগকারীরা কেন আসবে?
বেকার তরুণদের ক্ষোভ:
বাংলাদেশে প্রকৃত বেকার মানুষের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও অনুমান করা হয়, এটি দেড় কোটি’র কাছাকাছি। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর ২০-২৫ লাখ মানুষ চাকরির বাজারে প্রবেশ করেন। দৈনিক প্রথম আলো ৮ মার্চ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সোয়া এক কোটি বেকারের তথ্য উল্লেখ করেছে। বিদেশি বিনিয়োগের অভাবে কর্মসংস্থান কমে গেলে তরুণদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যাবে। বিশেষ করে শিক্ষিত বেকারদের মধ্যে সমস্যা তীব্র। তাদের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশই চাকরিহীন।
মনে রাখা জরুরি, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়েছিল সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে। পরে তা গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয় এবং সরকার পতনের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে। আন্দোলনের শুরু করেছিলেন মূলত শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা। ‘পপুলিস্ট’ রাজনীতিবিদ, গোষ্ঠীগত বুদ্ধিজীবী এবং সামাজিক মাধ্যমের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তরুণদের সহজেই বিভ্রান্ত করছেন ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে। এর ফলে তরুণরা অযৌক্তিক প্রতিবাদে যুক্ত হচ্ছে; সহিংসতার ঝুঁকিও বেড়েছে। যে কোনো দল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠন করুক না কেন, যদি বেকারত্ব সমস্যা সমাধান না হয়, তবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও দেশের উন্নয়নের পথে বাধা অনিবার্য।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আমরা এখন কোন পথে হাঁটব তার ওপর। আবেগ নয়, যুক্তি ও বাস্তবভিত্তিক নীতি প্রয়োজন। বাইনারি বা সাদা-কালো চিন্তা থেকে বের হয়ে তথ্যভিত্তিক, যুক্তিনির্ভর বিতর্ককে গুরুত্ব দিতে হবে।
বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানানোর জন্য স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতি নিশ্চিত করা অপরিহার্য। উন্নয়ন ও পরিবেশকে পরস্পরের প্রতিপক্ষ নয়, বরং পরিপূরক হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। বাংলাদেশের সামনে সম্ভাবনার দ্বার এখনও খোলা। প্রয়োজন সাহসী সিদ্ধান্ত, বাস্তববাদী মানসিকতা এবং সমন্বিত উন্নয়ন দর্শন—যেখানে অগ্রগতি ও স্থায়িত্ব একসাথে পথচলা শিখবে।

