Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice শনি, আগস্ট 8, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে রাজস্বনীতি আধুনিকায়ন অপরিহার্য
    অর্থনীতি

    বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে রাজস্বনীতি আধুনিকায়ন অপরিহার্য

    মনিরুজ্জামানডিসেম্বর 27, 2025
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    গত বছরের জুলাই-আগস্টে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুরো ২০২৫ সালটি এক ধরনের ‘সংস্কার আলাপ বর্ষ’ হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে। বাস্তবায়ন সম্ভব না হলেও এটি অধ্যয়ন, পরিকল্পনা ও ধ্যানধারণার বছর হিসেবে গণ্য হয়েছে।

    বছরজুড়ে সংবিধান, নির্বাচন, দুর্নীতি দমন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রশাসন, স্থানীয় সরকার ও পুঁজিবাজারসহ অধিকাংশ খাতে সংস্কারের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও ঐকমত্য গঠনের প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে। তবে আর্থিক খাত বিশেষ করে ব্যাংকিং, পুঁজিবাজার ও রাজস্ব আহরণ খাতে সংস্কারের গতিপথ ধীর ছিল। বছরের শুরুতে প্রকাশিত ‘শ্বেতপত্র’ অনেক আশা জাগালেও সেখানকার সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি। শ্বেতপত্র মূলত পলাতক উন্নয়ন বয়ান, বিপন্ন আর্থিক খাতের পুনর্গঠন এবং নির্দিষ্ট চিকিৎসা-প্রস্তুতির নির্দেশনা প্রদান করেছিল। কিন্তু এগুলো কার্যকর হওয়া দূর, আলোচনার পর্যায়ে আটকে রয়ে গেছে।

    শ্বেতপত্র প্রণেতারা তরুণ ও উৎসাহী হলেও, আর্থসামাজিক খাতের জটিলতা সরাতে কৌশলগত প্রয়াস যথেষ্ট কার্যকর হয়নি। বছরের শেষের দিকে সহজেই অনুমেয় যে আর্থিক খাতের সংস্কারে ত্বরিৎ কোনো উন্নতি হয়নি। কাঙ্ক্ষিত কিছু উদ্যোগের প্রতিফলনও না পাওয়ায় এই বর্ষকে ‘সংস্কার আলাপের বছর’ হিসেবে মনে রাখা হবে। শোষণ, বঞ্চনা-বৈষম্য, সাগর চুরি এবং অপ্রতিরোধ্য দুর্নীতির প্রেক্ষাপটে উত্থিত গণজাগরণের পরও আর্থিক খাতের সংস্কার বৈপ্লবিক কোনো পদক্ষেপের মাধ্যমে সুরাহার পথে ওঠেনি। এটা সহজ ছিল না জানলেও, ক্ল্যাসিকাল অর্থনীতির পথ ধরে যারা খাতের হাল ধরে রাখতে চেয়েছিলেন, তারা সময় নিয়ে ধাপে ধাপে কিছু করার চেষ্টা করেছেন।

    চোর তো চুরি করবেই, কিন্তু গৃহস্থের সজাগ থাকার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। যদিও টাকা পাচার কমেছে, রেমিট্যান্স বাড়ছে, ডলারের অস্থিরতা কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে, এবং বড় প্রকল্পে ব্যয় কিছুটা কমেছে, তবু সুশাসন ও জবাবদিহি বাড়েনি। এই কারণেই ২০২৫ সালে অর্থনীতি কিছুটা সুস্থ বলে দাবি করা হলেও সাধারণ মানুষের জন্য তা স্বাচ্ছন্দ্য বয়ে আনেনি। মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কমছে, আর বেকারত্বের পরিসর ক্রমশ বেড়েই চলেছে। অর্থনীতির সহনশীল ও সুসমন্বিত পরিচালনা কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে দিতে পারছে না।

    রেমিট্যান্স ও রিজার্ভ বাড়লেও কাঁচামাল ও মেশিনারি আমদানি কমে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। রফতানি কমার ফলে ব্যালান্স অব পেমেন্ট মেলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। ডলারের অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগ ও ব্যবসার পরিস্থিতিও অস্থিতিশীল। এক্সপেরিমেন্টের জন্য সময় বেশি নেওয়া হলেও এর ফলাফল এখনও সীমিত।

    ২০২৫ সালে আর্থিক খাতের অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংস্কার। রাষ্ট্রের রাজস্ব সম্পদের প্রায় ৮৭ শতাংশ আহরণকারী এই প্রতিষ্ঠানকে আধুনিকীকরণ, রাজস্ব নীতি সংস্কার, প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, শুদ্ধাচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য জুলাই ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার অক্টোবর ২০২৪-এ পাঁচ সদস্যের পরামর্শক কমিটি গঠন করে।

    যদিও সংস্কারের ক্ষেত্র সুনির্দিষ্ট করা হয়েছিল, কমিটি গঠনের আদেশে কেন এবং কিসের জন্য সংস্কার প্রয়োজন তা স্পষ্ট করা হয়নি। সময় এবং গুরুত্ব না দিয়েই কমিটি গঠিত হলেও এটি রাষ্ট্রের অন্যান্য খাতের সংস্কার কমিশন বা কমিটির উদ্দেশ্যের সঙ্গে তুলনীয় ধারা বহন করে।

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ড দেশের দ্রুত আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় সম্পদ আহরণ সঠিকভাবে করতে পারছে না। ফলশ্রুতিতে কর-জিডিপি হার প্রত্যাশিত ১৫–১৬ শতাংশের বদলে ৭–৮ শতাংশে আটকে রয়েছে।

    সংস্কার না হওয়ায় শুল্ক ও কর ব্যবস্থা ক্রমেই পরোক্ষ কর নির্ভর হয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এটি গ্রহণযোগ্য নয়। উচ্চ ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ শুল্ক কাঠামো, কর অব্যাহতি, প্যারাট্যারিফ, বিকৃত ও দ্বৈত কর, আইনগত জটিলতা এবং সেকেলে রাজস্ব প্রক্রিয়া সব মিলিয়ে ব্যবসা বিনিয়োগ ও ভোক্তা স্বার্থের জন্য অনুকূল নয়।

    রাজস্ব ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন বা অটোমেশন কার্যকরভাবে হয়নি। ফলে কর পরিপালনের ব্যয় বেশি, স্বেচ্ছায় পরিপালন কম, কর-জাল ও কর-নেট সংকুচিত, এবং আহরিত রাজস্ব ও প্রবৃদ্ধি কম। শিল্প বাণিজ্যে বিনিয়োগ কম, অনিয়ম ও নির্বিচারে ক্ষমতার প্রয়োগ বেশি। রফতানিতে বৈচিত্র্য কম, দুর্নীতি ও মুদ্রা পাচার বাড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য, সুশাসন, প্রবৃদ্ধি এবং ন্যায্যতায়।

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের শুল্ক ও কর ব্যবস্থায় সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সরকার, অংশীজন, সুশীল সমাজ, ভোক্তা, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, গবেষক ও মিডিয়া দীর্ঘদিন ধরে অবহিত। অনেক আগে থেকেই এসব নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা ও পরস্পরের দোষাদোষি চলে আসছে।

    সমস্যার সমাধানে বিভিন্ন সময়ে বিক্ষিপ্ত, বিচ্ছিন্ন এবং অসমন্বিত পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। তবে তা প্রধানত উন্নয়ন সহযোগীদের অনুদান বা ঋণের শর্ত, অংশীজনের দাবির প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছে, সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা বা প্রতিশ্রুতি থেকে নয়। ফলে প্রকৃত সমস্যার মৌলিক সমাধান মিলেনি। বরং দিন দিন সমস্যাগুলো আরও জটিল হয়ে, রাজস্ব, বিনিয়োগ, ভোক্তা স্বার্থ ও ন্যায্যতার পরিপন্থী রূপ নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সমস্যার পদ্ধতিগত, সুসংগঠিত, ডায়াগনস্টিক এবং উত্তম চর্চাভিত্তিক স্টাডি বা পর্যালোচনা না করে সমাধান খুঁজতে গিয়ে রাজস্ব বিভাগ এই জটিল অবস্থায় পড়েছে।

    এ বিবেচনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংস্কার বিষয়ে গঠিত পরামর্শক কমিটি পদ্ধতিগত, সুসংগঠিত, ডায়াগনস্টিক এবং আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চাভিত্তিক স্টাডি সম্পন্ন করেছে। এরই মধ্যে কমিটি সরকারের কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করেছে। শনাক্তকৃত সমস্যাগুলোর সমাধানে পরামর্শক কমিটির প্রস্তাবিত চূড়ান্ত সুপারিশের প্রধান বিষয়গুলো সংক্ষেপে নিম্নরূপ:

    ১. রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও অংশগ্রহণ:
    সুপারিশগুলো কার্যকর করতে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, অব্যাহত সমর্থন ও প্রতিশ্রুতি। আন্তর্জাতিক মানের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য যথেষ্ট বিনিয়োগ, সময়ানুবর্তিতা (পরবর্তী ৩–৪ বছর) এবং অংশীজনদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। পেশাদার ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিবেদনে প্রস্তাবিত সুপারিশ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ।

    ২. করনীতি ও কর কাঠামোর উন্নয়ন:
    আমদানি শুল্ক, স্থানীয় মূসক, আয়কর ও করপোরেট করনীতি বিকৃত ও জটিল কর যেমন উৎস কর, টার্নওভার কর, ন্যূনতম কর, দ্বৈত কর ইত্যাদি থেকে মুক্ত করে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হবে। লক্ষ্য হবে পরোক্ষ কর নির্ভরতা কমিয়ে প্রত্যক্ষ ও প্রগতিশীল কর নির্ভরতা বাড়ানো। করনীতি প্রণয়নকে আলাদা বিভাগে রাখা হবে এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী গবেষণা ও পেশাদারী মনোভাবের ভিত্তিতে তৈরি করা হবে।

    ৩. আইন ও বিধি সংস্কার:
    বিদ্যমান আইন, বিধি ও পদ্ধতি সংস্কার করে ব্যবসা, বিনিয়োগ ও রাজস্ব কার্যক্রমকে পরিপালনবান্ধব, ব্যয় সাশ্রয়ী ও ফাঁকি নিরোধকরণ করা হবে।

    ৪. ডিজিটালাইজেশন ও তথ্য প্রবাহ:
    অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি, অযৌক্তিক শুল্ক ও কর, এবং কর-অব্যাহতি কাটিয়ে কর-নেট সম্প্রসারণ এবং স্বেচ্ছায় কর পরিপালন বৃদ্ধির জন্য রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল ও অটোমেটেড করা হবে। সমস্ত আর্থিক ও রাজস্ব প্রতিষ্ঠান আন্তঃ ও অন্তঃ তথ্য প্রবাহের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।

    ৫. সংগঠন ও জনবল আধুনিকায়ন:
    যৌক্তিক শুল্ক ও কর কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাজস্ব বিভাগের সাংগঠনিক কাঠামো, নিয়োগ, দায়িত্ব, প্রশিক্ষণ, সমন্বয়, জবাবদিহি, স্বচ্ছতা, পারফরম্যান্স ও শুদ্ধাচার আধুনিকায়ন করা হবে।

    ৬. করসেবা ও করদাতা সচেতনতা:
    করদাতাদের সচেতনতা বাড়াতে এবং স্বেচ্ছায় কর পরিপালন উন্নত করতে বিরোধ নিষ্পত্তির সহজ পদ্ধতি এবং আধুনিক সমন্বিত করসেবা নিশ্চিত করা হবে।

    ৭. সুশাসন ও স্বচ্ছতা:
    স্বেচ্ছায় কর পরিপালনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিমূলক সুশাসন, রাজস্ব ব্যয়ে জনকল্যাণ ও স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

    বাংলাদেশের শুল্ক ও করনীতি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পশ্চাদপদ। সিস্টেমটি পরোক্ষ করনির্ভর, আপাতন এবং প্রভাবে বৈষম্যমূলক। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি দেশের বিনিয়োগ ও উন্নয়নের পথে বড় বাধা। কাজেই বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে আন্তর্জাতিক মানে প্রণীত রাজস্বনীতি ও ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে সংস্কার করে আধুনিক আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি জুলাই ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

    বর্তমানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের রাজস্ব আহরণের প্রায় ৮০ শতাংশই পরোক্ষ কর। এতে মূল অভিঘাত দরিদ্র, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠীর ওপর পড়ছে। উচ্চ আয়ের মানুষের আয়ের ওপর কর আদায় না হওয়ার ফলে সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া রাজস্ব আয়ের কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধিও ঘটছে না। এই প্রেক্ষাপটে করনীতি ও রাজস্ব আহরণে বর্তমান পরোক্ষ করনির্ভরতা কমিয়ে প্রত্যক্ষ করভিত্তিক রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

    বাংলাদেশের কর ভিত্তি বা কর-নেট খুবই সংকুচিত। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মতে, জিডিপির অর্ধেকের বেশি কর-জালের বাইরে। দেশের স্থায়ী অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান বা ইউনিটের সংখ্যা প্রায় ৬৩ লাখ। এর মধ্যে মূসক অব্যাহতি প্রাপ্ত এবং টার্নওভার কর ও মূসকযোগ্য সীমার নিচের প্রতিষ্ঠান ৮০–৮৫ শতাংশ হবে ধরে নিলে প্রকৃত মূসকযোগ্য সংখ্যা মাত্র ১০ লাখ। কিন্তু নিবন্ধিত আছে মাত্র ছয় লাখ। রিটার্ন ঘোষণার ক্ষেত্রেও তার অর্ধেকের বেশি হয় না।

    সর্বোচ্চ দক্ষতায় নিবন্ধন করা গেলে প্রায় চার লাখ প্রতিষ্ঠানকে মূসক নেটে আনতে হবে। আয়ের ক্ষেত্রে দেশে চার কোটি লোক আয়করযোগ্য হলেও নিবন্ধন এসেছে মাত্র এক কোটির সামান্য বেশি। রিটার্ন দিচ্ছে মাত্র ৪৫ লাখ, যার মধ্যে সরকারি ও করপোরেট কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা বেশি। কোম্পানির সংখ্যা প্রায় ২.৮০ লাখ, কিন্তু কর-নেটে আছে ১ লাখের কম। এ অবস্থায় নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত উভয় শ্রেণীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী, করদাতা ও কোম্পানিকে মূসক ও আয়করের নেটে আনা অপরিহার্য।

    বাংলাদেশের বিদ্যমান শুল্ক ও করনীতির ওপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নীতি প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন একই সংস্থার হাতে থাকায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। নীতি প্রণয়ন ক্রমে উত্তম নীতি থেকে সরে যাচ্ছে, আর প্রণীত নীতির বাস্তবায়ন অনুৎপাদনশীল ও হয়রানিমূলক হয়ে উঠছে। এই সমস্যার সমাধান হিসেবে সরকার রাজস্বনীতি এবং বাস্তবায়ন (পুনর্গঠিত এনবিআর) দুটি পৃথক বিভাগ হিসেবে গঠন করে আইন পাস করেছে। এখন বিভাগ দুটির কার্যপরিধি এবং সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের কাজ চলছে। এই কাজ সম্পন্ন হলে বিভাগ দুটি অচিরেই কার্যকর হবে।

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বর্তমানে খুবই সীমিত। এর ফলে যথাযথ রাজস্বনীতি প্রণয়ন, নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন, স্বেচ্ছায় কর পরিপালনে উদ্বুদ্ধকরণ, এবং কর লঙ্ঘন চিহ্নিতকরণে বোর্ড সফল হতে পারছে না। প্রধান কারণ হলো কর ব্যবস্থার তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক কার্যকর ও সমন্বিত অটোমেশন না থাকা।

    বর্তমানে তিনটি প্রধান কর ব্যবস্থা পরস্পর থেকে প্রায় সম্পূর্ণ আলাদা। তথ্য আদান-প্রদানে কোন সমন্বয় নেই, এমনকি প্রতিটি কর ব্যবস্থার নিজের মধ্যেও সমন্বয় নেই। ফলে কোনো করদাতার সামগ্রিক করচিত্র বোঝা সম্ভব নয়। এছাড়া করদাতা ও কর কর্মকর্তার মধ্যে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ সীমিত। এর ফলে কর ফাঁকি, যোগসাজশ, নির্বিচারে স্বেচ্ছা ক্ষমতার প্রয়োগ, হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগ প্রচুর।

    এছাড়া করসেবার সংখ্যা ও মানও সন্তোষজনক নয়। ফলে স্বেচ্ছায় কর পরিপালনে সহায়ক হচ্ছে না। করদাতার অভিযোগ ও বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা যথাযথ নয়। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান থাকলেও উভয় পক্ষের অনীহার কারণে তা কাঙ্ক্ষিতভাবে কার্যকর হচ্ছে না।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    অর্থনীতি

    ভরিতে আবারও বাড়ল সোনার দাম

    আগস্ট 8, 2026
    অর্থনীতি

    ৫৫ হাজার কোটি মুনাফার পরও বিপিসিতে নগদ সংকট

    আগস্ট 8, 2026
    ব্যাংক

    ট্রেজারি বিল-বন্ডে ব্যক্তি বিনিয়োগে ভাটা, বাড়ছে ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঝোঁক

    আগস্ট 8, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.