সরকার ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা কমাতে বড় ধরনের সংস্কার করছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু দলিলের ক্ষেত্রে আর আলাদা করে নামজারির জন্য আবেদন বা উপজেলা ভূমি অফিসে দৌড়ঝাঁপ করার প্রয়োজন পড়বে না। দলিল রেজিস্ট্রির সঙ্গে সঙ্গেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে মালিকানা হস্তান্তরের পুরো প্রক্রিয়া।
ভূমি মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এবং উপজেলা ভূমি অফিসের মধ্যে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় দলিল রেজিস্ট্রি হলেই সংশ্লিষ্ট তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভূমি অফিসে পৌঁছে যাবে এবং একসাথে নামজারির কাজ সম্পন্ন হবে।
কোন কোন দলিলে আর লাগবে না নামজারি?
সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, সাত ধরনের দলিলের ক্ষেত্রে আলাদা নামজারি সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে।
-
সাধারণ বিক্রয় দলিল বা সাফ কবলা দলিলের ক্ষেত্রে জমি রেজিস্ট্রি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ক্রেতার নামে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নামজারি হবে।
-
ওয়ারিশদের মধ্যে শর্তহীন সম্পত্তি হস্তান্তরের জন্য করা হেবা দলিলেও আলাদা নামজারির প্রয়োজন থাকবে না।
-
দূর সম্পর্কের আত্মীয়দের মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তরের জন্য হেবা বিল আওয়াজ দলিলও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার আওতায় আসছে।
-
পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে মালিকানা পরিবর্তনের এওয়াজ বদল দলিলে আলাদা আবেদন লাগবে না।
-
ব্যক্তি জীবদ্দশায় তার সম্পত্তির ভবিষ্যৎ মালিক নির্ধারণের ওসিয়তনামা দলিলও রেজিস্ট্রির সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হবে।
-
ওয়ারিশদের পারস্পরিক সমঝোতায় অবিভক্ত সম্পত্তি বণ্টনের আপোষ বণ্টননামা দলিলেও আলাদা নামজারির বাধ্যবাধকতা নেই।
-
ভুলক্রমে নিজের নামে থাকা জমির মালিকানা দাবি না করা বা বন্ধকী সম্পত্তি ফেরত দেয়ার না দাবি দলিলও স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে।
দেশের বিভিন্ন জেলায় শুরু হয়েছে অটোমেশন:
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে দেশের ২১টি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এই ডিজিটাল প্রক্রিয়া চালু হয়েছে। আগামী ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিটি জেলায় এই ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
দুর্নীতি ও হয়রানি কমাতে যুগান্তকারী উদ্যোগ:
ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন ব্যবস্থার ফলে সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি নামজারি ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা দুর্নীতি, দালালচক্র ও সাধারণ মানুষের হয়রানি অনেকাংশে কমে যাবে। ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে মালিকানা হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সাত শ্রেণির দলিলে নামজারির বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়াকে সংশ্লিষ্টরা বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় একটি স্মার্ট ও ভবিষ্যতমুখী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। এটি শুধু প্রশাসনিক সংস্কার নয়, নাগরিক সেবায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলেই মনে করা হচ্ছে।

