রমজান মাস ঘনিয়ে আসার সঙ্গে ভোগ্যপণ্যের বাজারে দাম ওঠানামা শুরু হয়েছে। রোজার সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকা ডালজাতীয় পণ্যের দাম কমেছে। তবে ভোজ্যতেল ও চিনি বেড়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, মজুতের পাশাপাশি আমদানি বেশি হওয়ায় ছোলা, মটর ও অস্ট্রেলিয়ান মসুর ডালের দাম কম আছে। রমজানে দাম বাড়ার সুযোগ নেই। তবে মিলার সিন্ডিকেটের কারণে চিনি ও ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। মিলাররা বলছেন, এলসি না হওয়ায় কারখানায় কাঁচামালের মজুত কম, তাই বাজারে চিনির সরবরাহ সীমিত।
ভোক্তাদের সংগঠন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বলেছে, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে কিছু ব্যবসায়ী বাজার অস্থির করার চেষ্টা করছেন। রমজানের আগে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো জরুরি।
প্রতিবছর রমজান সামনে রেখে চাহিদা বাড়ে। ইফতারে ছোলা, মটর ও মসুর ডালের ব্যবহার বেশি। পেঁয়াজু বা চটপটির মতো খাবারেও মটর ডালের চাহিদা বাড়ে। রাতে মসুর ডালও বেশি খাওয়া হয়। এজন্য এই পণ্যের চাহিদাও বেড়ে যায়। এবার মূলত দুটি মিল থেকে চিনি না আসার কারণে বাজারে দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে। মিলগুলো চালু হলে বাজার স্বাভাবিক হবে। শীতকালে পাম অয়েল ঘোলাটে হওয়ার কারণে সয়াবিন তেলের চাহিদা বেড়ে যায়। তবে দুই সপ্তাহ ধরে সয়াবিন তেলের দাম স্থিতিশীল রয়েছে, জানান এমকে ট্রেডিংয়ের মালিক রফিকুল আলম।
গত বছরের তুলনায় ডালজাতীয় পণ্যের দাম কম। বিশেষ করে ছোলা, মসুর ও মটর ডালের দাম গত বছরের তুলনায় কম হলেও চিনি ও ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) খাতুনগঞ্জ বাজারে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সব ডাল আমদানি হয়। কানাডা ও ইউক্রেন থেকে আসে মটর ডাল। মটর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৪৪ টাকা ৫০ পয়সা কেজিতে। গত রমজানে দাম ছিল ৬৫-৭০ টাকা।
অস্ট্রেলিয়ান ছোলা ও ভারতীয় ছোলা দেশের বাজারে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান ছোলার মান উন্নত বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। খাতুনগঞ্জে ভালো মানের অস্ট্রেলিয়ান ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৭৪-৭৫ টাকা কেজিতে। গত বছর দাম ছিল ১০৫-১১০ টাকা। অস্ট্রেলিয়ান মসুর ডালের দামও কমে ৭৩-৭৫ টাকা কেজি। তবে ভারতীয় মসুর ডালের দাম বেড়ে ১৫৫ টাকা কেজি হয়েছে, যা গত বছরের ১১৫ টাকার চেয়ে বেশি।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘ডালজাতীয় পণ্যের যথেষ্ট মজুত রয়েছে। নতুন করে আমদানিও হচ্ছে। দাম বাড়ার সুযোগ নেই।’
ক্যাবের বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে কিছু সিন্ডিকেট বাজার অস্থির করার চেষ্টা করছে। প্রশাসনের আগে থেকে নজরদারি বাড়ানো দরকার। এতে রমজানে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।’ তিনি আরও জানান, চলতি অর্থবছরে সরকার আমদানিকৃত ভোগ্যপণ্যে ২ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বসিয়েছে। এতে প্রতি কেজি পণ্যের দাম ২ টাকা বেড়েছে।
চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী শাহেদ উল আলম বলেন, ‘বাজারে দুটি বড় মিল থেকে চিনি আসছে না। সিটি গ্রুপের চিনি সরবরাহ নেই। আশা করছি, দুই সপ্তাহের মধ্যে বাজার স্বাভাবিক হবে।’
খাতুনগঞ্জে খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রতি মণ ৬ হাজার ৮৭০ থেকে ৬ হাজার ৯১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টিসিবি তথ্য অনুযায়ী খুচরা বাজারে সয়াবিন তেল কেজিপ্রতি ১৭৪-১৮৫ টাকা, চিনি ১০০-১১৫ টাকা। ছোলা ৮০-৯৫ টাকা, মটর ডাল ৫০-৬৫ টাকা, মাঝারি দানার মসুর ১১০-১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রমজান সামনে রেখে বাজারে তদারকি বাড়াতে প্রশাসনের পদক্ষেপ জরুরি। এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘অতি মুনাফালোভী সিন্ডিকেটের কারণে দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা কঠিন। আগেভাবে নজরদারি হলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।’

