তৈরি পোশাকশিল্পের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও মোড়ক পণ্য সরবরাহকারী কারখানার মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ) ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি আয় করেছে ৭.৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার এসেছে প্রত্যক্ষ রপ্তানি থেকে।
গতকাল বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় শুরু হওয়া ১৫তম গ্যাপেক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগঠনটি এই তথ্য জানায়। চারদিনব্যাপী এ গ্যাপেক্সপো চলবে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান, বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান, বিকেএমইএর সভাপতি মো. হাতেম এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকের (বিএবি) চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার।
সংগঠনটির সংশ্লিষ্টরা জানান, বিশ্ববাজারে পোশাকপণ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে আছে। সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ হয় তৈরি পোশাক ও প্রবাসী আয় খাত থেকে। বিজিএপিএমইএর বর্তমান সদস্য সংখ্যা দুই হাজারেরও বেশি। সব মিলিয়ে এ খাতে সাত লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে।
সংগঠনটি বলছে, আন্তর্জাতিক মূল্যে এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং পণ্য কিনতে সময় ও খরচ বেশি হতো। এই কারণে পোশাকশিল্প কখনোই বর্তমান পর্যায়ে পৌঁছাতে পারত না। এখন দেশের রপ্তানি খাতের এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিংয়ের চাহিদা অভ্যন্তরীণভাবে পূরণ করা সম্ভব।
গ্যাপেক্সপোর আয়োজকরা জানান, বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্যের পরিচিতি, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার প্রতিবছর একটি সম্ভাবনাময় পণ্যকে ‘বর্ষ পণ্য’ হিসেবে ঘোষণা করে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিল্পখাত নীতিগত সহায়তা, প্রণোদনা, আন্তর্জাতিক প্রচার ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ পায়।
বিজিএপিএমইএ মনে করছে, পেপার প্যাকেজিং পণ্যকে ২০২৬ সালের ‘বর্ষ পণ্য’ হিসেবে ঘোষণা করা এ শিল্পখাতের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও গৌরবজ্জ্বল অর্জন। এটি পেপার প্যাকেজিং শিল্পের টেকসই উন্নয়ন, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি আয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

