চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৪.৬ শতাংশ করেছে বিশ্বব্যাংক। এর আগে সংস্থাটি ৪.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল। তবে তারা আশা করছে, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে গেলে এবং কাঠামোগত সংস্কার গতি পেলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৬.১ শতাংশে উঠতে পারে।
গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটনভিত্তিক বিশ্বব্যাংক তাদের সর্বশেষ গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত ভোগ বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমার কারণে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩.৭ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৬ সালের শুরুর দিকে সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমতে পারে। নতুন সরকারের অধীনে কাঠামোগত সংস্কার কার্যক্রম শুরু হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিল্পখাত আরও শক্তিশালী হবে। এতে সরকারি ব্যয় ও বিনিয়োগের গতি আগের পূর্বাভাসের তুলনায় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্বব্যাংক আরও জানিয়েছে, নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিবেশ পরিবর্তন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে জোরদার করতে পারে। এটি প্রবৃদ্ধি সহায়ক সংস্কার বাস্তবায়নে অনুমানযোগ্যতা বৃদ্ধি করবে। এই সংশোধিত পূর্বাভাস অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর আগে জাতিসংঘ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৪.৬ শতাংশ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৫.৪ শতাংশ হবে বলে জানিয়েছিল।
অন্যদিকে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) তাদের সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর প্রতিবেদনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪.৯ শতাংশ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৫.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অনুমান করেছে। তবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৫.৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। এটি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পূর্বাভাসের তুলনায় বেশি।
দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি ধীর হওয়ার আশঙ্কা:
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রবৃদ্ধি প্রায় ৭.১ শতাংশ হলেও ২০২৬ সালে তা কমে ৬.২ শতাংশে নামতে পারে। প্রধান কারণ হিসেবে ভারতের রপ্তানি বৃদ্ধির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ আমদানি শুল্ককে দায়ী করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমলে ২০২৭ সালে এই অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ফের বেড়ে ৬.৫ শতাংশে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় কিছু নেতিবাচক ঝুঁকি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য বিধিনিষেধ বৃদ্ধি, বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতিতে অনিশ্চয়তা, আর্থিক দুর্বলতা, কঠোর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সামাজিক অস্থিরতা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘনঘন বা তীব্র প্রভাব। তবে কিছু ইতিবাচক দিকও আছে। যেমন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনায় অগ্রগতি, প্রযুক্তিনির্ভর বিনিয়োগের দ্রুত বৃদ্ধি এবং নির্বাচনের পর স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ থেকে আসা সম্ভাব্য সুবিধা।
এদিকে, বাণিজ্য ও নীতিগত অনিশ্চয়তা থাকলেও আগামী দুই বছর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকবে। ২০২৬ সালে এটি ২.৬ শতাংশে কিছুটা কমতে পারে, তবে ২০২৭ সালে বেড়ে ২.৭ শতাংশে পৌঁছাবে।

