অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার আসামি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তা বেলাল হোসেন চৌধুরী বর্তমানে ওএসডি অবস্থায় রয়েছেন। এ অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও আজ (১৭ জানুয়ারি) দুবাই ফেরত আমেরিকান নাগরিক তার ছেলেকে অভ্যর্থনা জানাতে স্ত্রীসহ ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার করার অনুমতি পেয়েছেন তিনি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তার স্ত্রীও দুদকের মামলার আসামি।
প্রোটোকল সুবিধা গ্রহণের সময় বেলাল হোসেন চৌধুরীর নামের পাশে ‘ওএসডি’ পদবি উল্লেখ করা হয়নি। এটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ধরনের প্রোটোকল সুবিধা ব্যবহারের ক্ষেত্রে কাস্টম হাউসের কমিশনার কিংবা এনবিআর চেয়ারম্যানের কোনো অনুমোদন ছিল কি না, সে বিষয়েও স্পষ্টতা পাওয়া যায়নি।
প্রোটোকল নীতিমালার আওতায় তার ছেলেকে রিসিভ করার ব্যবস্থা নেওয়া হলেও বেলাল হোসেন চৌধুরীর অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনায় দুবাই থেকে কোনো অবৈধ পণ্য পাচারের আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। প্রোটোকল সুবিধার কারণে সংশ্লিষ্ট যাত্রীরা ব্যাগেজ স্ক্যানিং ও তল্লাশি ছাড়াই বিমানবন্দর ত্যাগ করতে পারেন, এমন উদ্বেগও রয়েছে।

এর আগে গত ৭ অক্টোবর জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এনবিআরের সাবেক সদস্য (মূসক বাস্তবায়ন ও আইটি) বেলাল হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়।
দুদকের মামলার পর তাকে ওএসডি করা হলেও তিনি গত তিন মাস ধরে নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিত রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশন তাকে খুঁজছে। সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার উপস্থিতির বিষয়টি জানা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার পরও তার বিরুদ্ধে এখনো ‘ডেজারশন’ (Desertion) জারি করা হয়নি। এমনকি সরকারি আদেশ (জিও) ছাড়া অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণের ঘটনায়ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের (আইআরডি) সচিব তার বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেননি।
এ পরিস্থিতিতে বেলাল হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে কেন এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

