চলতি অর্থবছরে ২০২৫-২৬ সালের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) ৮৫৬টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এদের জন্য এখনও কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি।
প্রকল্পগুলোর মধ্যে সরকারি অর্থায়নে আছে ৪১৩টি, বৈদেশিক অর্থায়নে ১৫৭টি, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ৩৫টি, পিপিপির আওতায় ৮১টি এবং জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের ১৭০টি প্রকল্প। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আরএডিপিতে কোনো বরাদ্দ ছিল না এমন প্রকল্পের সংখ্যা ছিল ৭৭০টি। এদের মধ্যে সরকারি অর্থায়নে ৫৯৬টি, বৈদেশিক অর্থায়নে ১৫৪টি এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ২০টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরিকল্পনা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থসংকট, প্রকল্পের অতিরিক্ত ব্যয় কমানোর চাপ এবং বাস্তবায়নের ধীরগতি এ পরিস্থিতির মূল কারণ। তবে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হবে।
পরিকল্পনা কমিশনের একজন সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) মন্ত্রণালয়গুলো প্রাথমিকভাবে ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব করেছিল। পরে সরকার ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখে। কিন্তু পরে বাধ্য হয়ে ৩০ হাজার কোটি কমিয়ে ২ লাখ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। বাস্তবায়নের চিত্র অনুযায়ী, এই অর্থের পুরো অংশ হয়তো ব্যয় হবে না।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, “প্রকল্প থাকলেই কি লাভ, যদি বরাদ্দ না থাকে। বরাদ্দ না দিয়ে প্রকল্প যাচাই-বাছাই করে যৌক্তিক বরাদ্দ দেওয়া উচিত। রাজনৈতিক সরকার থাকলে হয়তো কিছু প্রকল্পে থোক বরাদ্দও দেওয়া হতো।”
পরিকল্পনা কমিশনের উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানান, নতুন প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়ার চেয়ে পুরোনো প্রকল্পের অপচয় রোধে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জাতীয় স্বার্থে কিছু অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “১০-১১ বছর ধরে কিছু বরাদ্দবিহীন প্রকল্প এডিপি ও আরএডিপিতে রাখা হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১ হাজার ৯টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত ছিল। এদের জন্য মন্ত্রণালয়গুলো প্রস্তাব করেছিল ১১ লাখ ৪৮ হাজার ৮ হাজার ৯৬২ টাকা। সরকারের অর্থায়ন ধরা হয়েছিল ৬ লাখ ৩২ হাজার ৭১ হাজার ২৯৭, আর বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান সহায়তা ধরা হয়েছিল ৪ লাখ ৩৯ লাখ ৩০ হাজার ২৪৮ টাকা। এর মধ্যে ১৫৩টি প্রকল্প বাদ দিয়ে সবুজ তালিকায় প্রকল্পের সংখ্যা ৮৫৬টি রাখা হয়েছে।”
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, “রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অর্থনৈতিক মন্দার কারণে বর্তমান সরকার কিছু প্রকল্প কমিয়েছে। তবে রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এলে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও বরাদ্দ বাড়বে।”

