জাহাজ নির্মাণ শিল্পের খেলাপি ঋণ পুনঃতপশিলের বিশেষ সুবিধার সময়সীমা বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরভিত্তিক শ্রেণিকৃত খেলাপি ঋণের জন্য এ সুবিধা পাওয়া যাবে। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে নির্ধারিত ডাউনপেমেন্ট বা এককালীন জমা দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে আবেদন করতে হবে।
এ সংক্রান্ত নির্দেশনা গতকাল দেশের সব ব্যাংকে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে ২০২৩ সালে জাহাজ নির্মাণ শিল্পের জন্য দেওয়া বিশেষ পুনঃতপশিল সুবিধার মেয়াদ বাড়ানো হলো।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, জালিয়াতির মাধ্যমে সৃষ্ট ঋণ এবং ইচ্ছাকৃত খেলাপি ঋণগ্রহীতারা এ সুবিধা পাবেন না। পুনঃতপশিল বা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে স্থগিত হিসাবে থাকা সুদ এবং অনারোপিত সুদ আলাদা ‘ব্লকড’ হিসাবে স্থানান্তর করতে হবে। এরপর অবশিষ্ট ঋণের ওপর ৩ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিতে হবে।
ডাউনপেমেন্টের মধ্যে দেড় শতাংশ আবেদনকালে জমা দিতে হবে। বাকি অংশ সুবিধা কার্যকর হওয়ার পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এ ঋণের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছর মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দুই বছর থাকবে গ্রেস পিরিয়ড। গ্রাহকের আবেদন পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, রপ্তানিমুখী ও স্থানীয় জাহাজ নির্মাণ শিল্পের ২০২৫ সালের ডিসেম্বরভিত্তিক শ্রেণিকৃত ঋণ এ বিশেষ পুনঃতপশিল বা পুনর্গঠন সুবিধার আওতায় আসবে। ব্যবসা ও রপ্তানি কার্যক্রম চালু রাখতে নতুন ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে পুনঃতপশিল বা পুনর্গঠিত ঋণের বিপরীতে ‘কম্প্রোমাইজ অ্যামাউন্ট’ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকবে না।
পুনঃতপশিলের পর গ্রাহক নিয়মিত কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে ঋণ যথানিয়মে খেলাপি হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের ঋণের ঝুঁকি বিবেচনায় ব্যাংককে প্রয়োজনীয় প্রভিশন রাখতে হবে। পুনঃতপশিলের পর ডাউনপেমেন্ট বা ছয়টি মাসিক কিংবা দুটি ত্রৈমাসিক কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে ব্যাংক বিশেষ সুবিধা বাতিল করতে পারবে। একই সঙ্গে ঋণ আদায়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ থাকবে। এসব ঋণ ভবিষ্যতে আর পুনঃতপশিল বা পুনর্গঠনের আওতায় আনা যাবে না।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, বিশেষ সুবিধা দেওয়ার আগে গ্রাহক নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণে প্রকৃত ক্ষতির শিকার হয়েছেন কি না, তা ব্যাংককে বিশেষ পরিদর্শনের মাধ্যমে যাচাই করতে হবে। পরিদর্শনে ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত হলে ক্ষতির পরিমাণ পর্যালোচনা করে ব্যাংক নিজ বিবেচনায় ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের গুণগত মান অনুযায়ী ঋণকে শ্রেণিকরণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করতে পারবে।

