চলতি জানুয়ারি মাসের প্রথম ২০ দিনে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে নিলামের মাধ্যমে মোট ৭৪৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গতকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৪৫ মিলিয়ন ডলার কেনা হয়েছে। এ নিয়ে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে নিলামের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে মোট ৩ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন বা ৩৮৮ কোটি মার্কিন ডলার কিনেছে।
এর আগে সোমবার এক সেমিনারে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সাংবাদিকদের বলেন, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ডলার বিক্রি করছে। এর ফলে বাজারে টাকার প্রবাহ বেড়েছে।
গভর্নর জানান, ডলার প্রবাহ বৃদ্ধির কারণে ব্যাংকিং খাতে আমানতের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। একই কারণে দেশের ব্যালেন্স অব পেমেন্টের আর্থিক হিসাব উদ্বৃত্তে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ যত বাড়বে, দেশে আমানতের প্রবৃদ্ধিও তত বাড়বে। বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপের কৌশলের অংশ হিসেবে চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে নিলামের মাধ্যমে ডলার কেনা শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থার আওতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য হলো বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ভারসাম্য বজায় রাখা। সরবরাহ চাহিদার চেয়ে বেশি হলে ডলারের দাম কমতে দেওয়া হয়। আর চাহিদা বাড়লে দাম বাড়ার সুযোগ রাখা হয়।
ব্যাংকাররা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের চাহিদা কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। সরকারের বড় অঙ্কের বৈদেশিক পরিশোধ দায় কমে আসায় ডলারের চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। একই সঙ্গে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে স্থবিরতা ও বিনিয়োগ দুর্বল থাকায় মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি কমেছে। এতে ডলারের ওপর চাপ আরও কমেছে।

