আজ রোববার অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) শেষ সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সভায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মোট সাতটি প্রকল্প অনুমোদনের প্রস্তাব উঠছে। মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ায় এটি অন্তর্বর্তী সরকারের সর্বশেষ একনেক সভা হবে। সভায় ১২টি মন্ত্রণালয়ের মোট ২৪টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবিত হচ্ছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ছয়টি প্রকল্পের মধ্যে চারটি নতুন এবং দুটি সংশোধিত। এদের মোট ব্যয় ৩ হাজার ৬২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। অন্যদিকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের একটি নতুন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৪৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
এছাড়া একনেকের টেবিলে ২৪টি প্রকল্পের বাইরে ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প’ও উঠেছে। এই সংশোধিত প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব ধরা হয়েছে ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। মূল উন্নয়ন প্রকল্প (ডিপিপি) নেওয়া হয়েছিল ২০১৬ সালের জুলাইয়ে। প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালে। প্রস্তাবিত প্রথম সংশোধিত ডিপিপি অনুযায়ী এটি শেষ হবে ২০২৮ সালের জুনে। মূল ডিপিপিতে খরচ ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা। প্রথম সংশোধিত ডিপিপিতে ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বাড়িয়ে খরচ ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা করার প্রস্তাব এসেছে। অর্থাৎ খরচ ২২.৬৩ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ছয়টি প্রকল্পের মূল লক্ষ্য নদী ভাঙন রোধ, পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের নদীতীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা সুরক্ষায় এগুলো গুরুত্বপূর্ণ। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পটি এ মুহূর্তে খুব জরুরি নয়।
পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ও একনেকের চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় নতুন ও সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদনের প্রস্তাব উত্থাপিত হবে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আড়াই বছর মেয়াদি ‘বরিশাল সেচ প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ছয়টি প্রকল্পই সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে। ‘পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও জেলার নদীগুলোর টেকসই ব্যবস্থাপনা’ প্রকল্পের জন্য ৬৭৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব এসেছে। প্রকল্পের সময়কাল ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত।
‘চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পদ্মা নদীর উভয় তীর সংরক্ষণ (প্রথম অংশ)’ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৪৮ কোটি ৬ লাখ টাকা। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙন রোধের জন্য ৭৩৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় মহানন্দা নদী ড্রেজিং ও রাবার ড্যাম প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন প্রস্তাবও একনেকে উঠছে। এতে প্রকল্পের সময়কাল ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পের ব্যয় তৃতীয় দফায় ২৭০ কোটি ৭০ লাখ টাকা বাড়ানো হচ্ছে।
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় পদ্মা নদীর ডান তীর ভাঙন রোধে ‘মাঝিরঘাট জিরো পয়েন্ট এলাকা রক্ষা প্রকল্প’ও সংশোধিত হচ্ছে। প্রথম সংশোধনে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০২ কোটি টাকা, যা আগে ছিল ৮৫৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশ ক্লিন এয়ার প্রজেক্ট’-এর প্রথম ধাপের কম্পোনেন্ট–১: ‘স্ট্রেনদেনিং এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট’ প্রকল্পও একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায়। প্রকল্পের মোট ব্যয় ৯৪৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, বাকি বিদেশি ঋণ। পরিবেশ অধিদপ্তর পাঁচ বছর ধরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

