বাংলাদেশ আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে ড্রোন উৎপাদনের পথে এগোচ্ছে। এ লক্ষ্য নিয়ে আজ বড় চুক্তি করবে সরকার। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ বিমানবাহিনী এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সিইটিসি ইন্টারন্যাশনালের মধ্যে সামরিক ড্রোন উৎপাদন কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই প্রকল্পে দেশ আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষাব্যবস্থার দিকে একধাপ এগোবে। পাশাপাশি ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকেও এটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
ড্রোন উৎপাদন প্রকল্পে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী চীনের সিইটিসি ইন্টারন্যাশনালের প্রযুক্তি ব্যবহার করবে। প্রতিষ্ঠানটি ইলেকট্রনিক তথ্যপ্রযুক্তির প্রায় সব খাতে কাজ করে। রাডার, যোগাযোগ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং ইউএভি সরঞ্জামসহ প্রতিষ্ঠানটির পণ্য ও সেবা বিশ্বের ১১০টির বেশি দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মাহমুদ হোসেন বলেন, দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়াতে ড্রোন উৎপাদন জরুরি। কিছু প্রতিবেশী দেশ এবং পশ্চিমা অংশের উদ্বেগ থাকলেও জাতীয় স্বার্থে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। সমুদ্র প্রতিরক্ষা, সীমান্ত অপরাধ নজরদারি ও অন্যান্য কাজে ড্রোন ব্যবহার প্রয়োজন। বাইরের উদ্বেগ কমাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। তিনি আরও জানান, রাজনৈতিক কারণে আগে প্রকল্পটি পূর্ণভাবে এগোয়নি। তবে ড্রোন কেবল সামরিক নয়, বেসরকারি খাতেও ব্যবহার করা যাবে।
প্রকল্পের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ৬ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয় পাঁচ শর্তে প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে–চলতি অর্থবছরের ব্যয় বরাদ্দের মধ্যেই রাখতে হবে, অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া যাবে না, আগামী অর্থবছরেও নির্ধারিত বাজেটসীমার মধ্যেই ব্যয় করতে হবে, সব অর্থ ব্যয় এলসির মাধ্যমে এবং শুধুমাত্র প্রকল্পের জন্য ব্যবহার করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই উদ্যোগ দেশের ড্রোন উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের সক্ষমতা তৈরি করবে এবং আমদানি নির্ভরতা কমাবে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০৮ কোটি ৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে ড্রোন উৎপাদন কারখানা স্থাপন, প্রযুক্তি আমদানি ও স্থাপনের জন্য বৈদেশিক মুদ্রায় ব্যয় হবে ৫৭০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এটি চার বছরের মধ্যে পরিশোধ করা হবে–চলতি অর্থবছরে ১০৬ কোটি, পরের দুই অর্থবছরে ১৫৫ কোটি করে এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ১৫৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। বাকি প্রায় ৩৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা এলসি খোলা, ভ্যাট ও সুইফট চার্জে ব্যয় হবে।

