জাতীয় কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত টাস্কফোর্স ভ্যাট ব্যবস্থায় বহু স্তরের পরিবর্তে একক হারের সুপারিশ করেছে। এছাড়া ৫৫টি নীতিগত বিষয় চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তারের নেতৃত্বাধীন জাতীয় টাস্কফোর্স প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে করকাঠামো পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, অর্থ বিভাগের সচিব ড. খায়রুজ্জামান মজুমদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারক ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব আবদুর রহমান খান।
প্রতিবেদন গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে সময় সীমিত। আমরা এসব নীতি বাস্তবায়নের পথচলা শুরু করতে চাই। এগুলো বাস্তবায়িত হলে রাজস্ব আদায়ের খাত ও পদ্ধতি আরও স্পষ্ট হবে। দেশের অর্থনীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থায় এটি বড় নীতিগত পরিবর্তন আনবে।’
অর্থ উপদেষ্টা মন্তব্য করেন, ‘প্রতিবেদনটি একটি গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়বে এবং খাতে সুশাসন নিশ্চিত হবে।’ কমিটির প্রধান ড. জায়েদী সাত্তার বলেন, ‘গত এক দশকে রাজস্ব আদায়ের পদ্ধতি অত্যন্ত জটিল হয়ে গেছে। এগুলোর সংস্কার ছাড়া রাজস্ব আদায় বাড়ানো কঠিন। দ্রুত সংস্কার অর্থনীতিতে সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’
প্রসঙ্গত, কর-জিডিপি অনুপাত উন্নীত করতে গত বছরের ৬ অক্টোবর ড. জায়েদী সাত্তারের নেতৃত্বে ১১ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। টাস্কফোর্সকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত কর কাঠামো পুনর্বিন্যাস ও সুপারিশ প্রদানের সময় দেওয়া হয়েছিল। কমিটি ২৭ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশের কর ব্যবস্থা অপ্রয়োজনীয়ভাবে জটিল, অদক্ষ এবং পরোক্ষ করের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল। সামান্য সংস্কার নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে কর ব্যবস্থার মৌলিক ও কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। এতে ৫৫টি নীতিগত বিষয় চিহ্নিত করে সমাধানের সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রধান অগ্রাধিকারের ৭টি বিষয়ও উল্লিখিত। ২০৩০ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালে ১৫ শতাংশ থেকে ২০ শতাংশে উন্নীত করার রূপরেখা দিয়েছে টাস্কফোর্স। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের অনুপাত বর্তমান ৩০:৭০ থেকে ৫০:৫০ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে ডিজিটালাইজেশন, অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ, সহজ কর কাঠামো, প্রণোদনা পুনর্গঠন, ঝুঁকিভিত্তিক অডিট এবং দেশীয় করের দিকে কৌশলগত পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। শুল্ক কাঠামো আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে রপ্তানি ও আমদানি পণ্যের কার্যকর সুরক্ষা সমান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে আলাদা ভ্যালুয়েশন ডেটাবেজের প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভ্যাট ব্যবস্থায় বহু হারের পরিবর্তে একক হারের দিকে অগ্রসর হওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

