দেশের সকল বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) এখন থেকে সরাসরি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)-এর অধীনে পরিচালিত হবে। এ লক্ষ্যে ১৯৯৬ সালের ‘বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল আইন’ রহিত করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ সোমবার গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে।
নতুন অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ১৯৯৬ সালের আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত দেশের সব বেসরকারি ইপিজেড ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন, ২০১০’-এর আওতায় বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গণ্য হবে। এসব অঞ্চলের সার্বিক পরিচালনা, তদারকি ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব বেজা-এর ওপর ন্যস্ত থাকবে। তবে অধ্যাদেশে নিশ্চিত করা হয়েছে, পূর্ববর্তী আইনের আওতায় গৃহীত সকল কার্যক্রম, সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থা বহাল থাকবে। ফলে প্রশাসনিক বা আইনি ধারাবাহিকতায় কোনো বিঘ্ন হবে না।
অধ্যাদেশের ২(২-ক) ধারা অনুযায়ী, পূর্বের আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি ইপিজেডগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলে রূপান্তরিত হবে। বেজা এসব অঞ্চলের উন্নয়ন ও পরিচালনা তদারকি করবে। একই সঙ্গে উদ্যোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। পূর্ববর্তী আইন অনুযায়ী ইস্যু করা লাইসেন্সগুলোও অপরিবর্তিত থাকবে, নতুন লাইসেন্স নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
এছাড়া অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, বেসরকারি ইপিজেডগুলোতে বিদ্যমান বন্ডেড সুবিধা, কর ও শুল্ক ছাড় আগের মতোই কার্যকর থাকবে। তবে অঞ্চলগুলোর কার্যক্রম সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে পরিচালনার স্বার্থে বেজা প্রয়োজনে প্রশাসনিক ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। নতুন নিয়মে পূর্বে গঠিত গভর্নর বোর্ড ও নির্বাহী সেল বিলুপ্ত হয়েছে। নির্বাহী সেলে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বেজায় বদলি হবেন এবং তাদের চাকরির বিদ্যমান শর্তাবলি আপাতত অপরিবর্তিত থাকবে।
এছাড়া, বিলুপ্ত গভর্নর বোর্ড বা নির্বাহী সেলের পক্ষে বা বিপক্ষে চলমান সব মামলা ও আইনি কার্যক্রম এখন থেকে বেজার নামে পরিচালিত হবে। এতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও একক কর্তৃত্ব নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে বেসরকারি খাতে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল স্থাপনের সুযোগ দিয়ে আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছিল। তবে সময়ের সঙ্গে অর্থনৈতিক অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন কাঠামো বিস্তৃত হওয়ায় এবং নীতিগত সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দেওয়ায় আইনের কার্যকারিতা পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছিল। বর্তমান বাস্তবতায় আইনটির প্রয়োজনীয়তা না থাকায় এটি রহিত করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করা হলো। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ‘বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

