জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন বাকি। এ সময় অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরেই দেখা যাচ্ছে বিদায়ের আগের সুর। বেশ কিছু উপদেষ্টা ইতিমধ্যেই চলে যাওয়ার ‘মুডে’ রয়েছেন। ঠিক এই সময়ে বড় বড় কেনাকাটা আর চুক্তির জোর তৎপরতাও থেমে নেই।
সাধারণত তফসিল ঘোষণার পর সরকারের ‘রুটিন কাজ’ সীমিত হওয়ার কথা কিন্তু বাস্তবে শেষ মুহূর্তে একের পর এক বড় অঙ্কের চুক্তি অনুমোদনের হিড়িক পড়েছে। বিশেষ করে যেসব চুক্তি রাজনৈতিক সরকারের করার কথা, সেগুলোই অন্তর্বর্তী সরকার তড়িঘড়ি করে সম্পন্ন করছে।
সম্প্রতি চীন ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে নৌযান ক্রয় চুক্তি, ৩৭ হাজার কোটি টাকায় ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজের ক্রয়, এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্টের আওতায় বাণিজ্য চুক্তি অনুমোদিত হয়েছে। একই সময়ে নতুন বড় প্রকল্পগুলোর অনুমোদনও একের পর এক দেওয়া হচ্ছে।
অর্থনৈতিক চাপও চোখে পড়ার মতো। এক লাখ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের প্রস্তাবিত নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন, বিপুল বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং খেলাপি ঋণের বোঝা—সবকিছুই ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিচ্ছেন, এসব দায় কাঁধে নিয়েই দায়িত্ব নিতে হবে নতুন নির্বাচিত সরকারকে। আর এ দায়িত্ব শুরু থেকেই তাদের জন্য এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষার মতো কাজ করবে। অর্থনীতির এই বাস্তবতা নতুন সরকারকে শুরুর দিন থেকেই কৌশলগত ও নীতিগত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করবে।
নির্বাচনের আগে প্রকল্প হিড়িক ও প্রভাব:
নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ছিল কেবল দৈনন্দিন রুটিন কাজ এবং নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা। কিন্তু গত ২৫ দিনে (১ ডিসেম্বর থেকে ২৫ জানুয়ারি) দেখা গেছে সরকার তড়িঘড়ি করে এক লাখ ছয় হাজার ৯৯৩ কোটি টাকার ৬৪টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে।
এর মধ্যে ৭৯ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকার ৪০টি প্রকল্প সম্পূর্ণ নতুন। দেড় বছরের মেয়াদে এই সরকার মোট ১৩৫টি নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে দুই লাখ তিন হাজার কোটি টাকা।
বিশেষভাবে নজরকাড়া বিষয় হলো, সাধারণত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর রাজনৈতিক সরকারের সময় একনেক সভা বন্ধ থাকত। কিন্তু এ সরকারের সময়ে তফসিল ঘোষণার পরও একনেক সভায় এক সপ্তাহের মধ্যে একাধিক মেগাপ্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এই শেষ মুহূর্তের প্রকল্প অনুমোদনের মধ্যে কিছু প্রকল্প বিশেষ এলাকার রাস্তাঘাট ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে নির্দিষ্ট দল বা প্রার্থীকে সুবিধা দিতে পারে—যা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে সরকারি পক্ষ এ ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বলেছে, এসব প্রকল্প দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য জরুরি।
অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপে সংকটের মুখে নতুন সরকার:
অর্থনীতিবিদ ও গবেষকরা মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ মুহূর্তের বড় চুক্তি ও প্রকল্প অনুমোদন ‘সমীচীন’ ছিল না। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান মন্তব্য করেছেন, “যেসব চুক্তি জরুরি নয় এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে, সেগুলো অন্তর্বর্তী সরকার এড়িয়ে যাওয়া উচিত ছিল। বড় কোনো অর্থনৈতিক ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনা হওয়া উচিত ছিল। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব কাজ সম্পন্ন করতে পারত।”
বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, শেষ মুহূর্তের এই ধরনের সিদ্ধান্ত নতুন সরকারের জন্য অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবে এবং দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কঠিন নীতি ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।
যেসব বড় চুক্তি নিয়ে বিতর্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি : আজ সোমবার ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। চুক্তির আওতায় বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানিতে শুল্কছাড়ের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে আগে স্বাক্ষরিত ‘নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট’-এর কারণে চুক্তির বিস্তারিত শর্তাবলি এখনো গোপন রাখা হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর মোট ৩৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর আছে। প্রস্তাবিত চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন কাঁচামাল বা তুলা ব্যবহার করে তৈরি পোশাকে বড় ধরনের শুল্কছাড় পাওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানিয়েছেন, অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল চুক্তি সই অনুষ্ঠানে সরাসরি অংশ নেবেন। তবে ‘নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট’-এর কারণে চুক্তির শর্তাবলি এই মুহূর্তে প্রকাশ করা হচ্ছে না।
চুক্তির ফলে ২০ শতাংশ ‘রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ থেকে বাংলাদেশের পোশাক খাতকে অব্যাহতি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ, গম, সয়াবিন, তুলা এবং এলএনজি আমদানি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া আগামী পাঁচ বছরে ৩৫ লাখ টন গম আমদানির চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে।
বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয় চুক্তি:
বাণিজ্য উপদেষ্টা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বাণিজ্যচুক্তির অংশ হিসেবে বোয়িং থেকে নতুন ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। তবে আপাতত ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার জন্য ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে।
বিমান ও সরকারি উচ্চপদস্থ সূত্র জানাচ্ছেন, উড়োজাহাজবহর আধুনিকীকরণ জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় হলেও ভোটের ঠিক আগে তাড়াহুড়া এবং জবাবদিহির অভাব নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। উড়োজাহাজগুলো সরবরাহ শুরু হবে ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে। অর্থাৎ বর্তমান সরকারের সময়ে এর কোনো সরাসরি সুফল পাওয়া যাবে না।
সরবরাহের সময়ের মূল্যস্ফীতি এবং ডলারের বিনিময়হার অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করতে গিয়ে বিমান খাত বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ফলে, এই সিদ্ধান্ত নতুন সরকার এবং বিমান খাতের জন্য ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
চীন ও যুক্তরাজ্য থেকে নৌযান ক্রয় চুক্তি:
বাংলাদেশ চীন থেকে চারটি নতুন জাহাজ কেনার ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি সই করেছে। রবিবার চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী যৌথভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, চারটি জাহাজের মধ্যে দুটি ক্রুড অয়েল মাদার ট্যাংকার এবং দুটি মাদার বাল্ক ক্যারিয়ার। এর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪ কোটি ১৯ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার। এর মধ্যে দুটি ক্রুড অয়েল মাদার ট্যাংকারের জন্য ব্যয় হবে ১৫ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার, এবং দুটি মাদার বাল্ক ক্যারিয়ারের জন্য আট কোটি ৯৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। একই দিনে নৌ সদর দপ্তরে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে জিটুজি ভিত্তিতে একটি ‘অফ দ্য শেলফ’ হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে ভেসেল কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, মেয়াদের শেষ সময়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনাকাটার আলোচনা এবং কিছু ক্ষেত্রে চুক্তি করা সরকারের চলমান প্রক্রিয়ার অংশ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভোটের আগে এই ধরনের চুক্তি এবং তড়িঘড়ি শর্তাবলী নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
নবম পে স্কেল: এক লাখ কোটি টাকার অতিরিক্ত দায়:
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে সবচেয়ে বড় আর্থিক দায় হিসেবে পরিচিত হতে পারে প্রস্তাবিত নবম পে স্কেল। এই বেতন স্কেল বাস্তবায়নের ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বছরে অতিরিক্ত এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময় এই বিশাল ব্যয় মেটাতে গিয়ে নতুন সরকারকে হয় নতুন করে টাকা ছাপাতে হতে পারে, নয়তো বড় অঙ্কের ঋণ গ্রহণ করতে হবে। এর ফলে অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে এবং সরকারের জন্য বাজেটীয় স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
ভুল সময়ে নেওয়া বিতর্কিত সিদ্ধান্ত: মুস্তফা কে. মুজেরি:
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)-এর সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে. মুজেরি সতর্ক করে বলছেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের আয়ু মাত্র কয়েক দিন, তাই শেষ মুহূর্তে বড় বড় অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া অযৌক্তিক। নির্বাচন-পরবর্তী সরকারকে তাদের দায়িত্ব গ্রহণের পর অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সংকুচিত করা হচ্ছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বর্তমান সরকারের নীতিগুলোতে অর্থনীতিতে সফলতার লক্ষণ খুব কম। এক ধরনের সাধারণ প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়—ভুল সময়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া।” এই ধরনের পদক্ষেপ নতুন সরকারের জন্য অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে এবং দেশের অর্থনীতিকে অনিশ্চিত পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করাতে পারে।
বৈদেশিক ঋণ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক চাপ:
রাজস্ব ঘাটতি মোকাবেলায় বাজেট সহায়তা বৃদ্ধি এবং বড় প্রকল্পগুলিতে অর্থছাড় বাড়ানোর পথে অন্তর্বর্তী সরকার পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের মতোই বিদেশি ঋণের নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। এর ফলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষে সরকারি খাতে বৈদেশিক ঋণের দায় দাঁড়িয়েছে ৭৭ বিলিয়ন ডলার।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হিসাব অনুযায়ী, মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে এই ঋণের বোঝা প্রায় ৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যদি আইএমএফ এবং সরকারের গ্যারান্টি দেওয়া ঋণও যুক্ত করা হয়, তাহলে প্রকৃত ঋণের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ সতর্ক করে বলেছেন, “ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের চাপ ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে,” যা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করবে।
সরকারের যুক্তি: নির্বাচিত সরকারের চাপ কমাতে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগ:
এসব সমালোচনার জবাবে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন দাবি করেছেন, “আগামী দিনে যারা ক্ষমতায় আসবে, সেই নির্বাচিত সরকারকে বাড়তি চাপমুক্ত রাখতেই অন্তর্বর্তী সরকার এই চুক্তি সম্পন্ন করছে।”
তবে সাবেক একজন অর্থসচিব মন্তব্য করেছেন, “মেয়াদের শেষ সপ্তাহে এসে এক লাখ কোটি টাকার বেশি আর্থিক দায় তৈরি করা প্রশাসনিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। বিশেষ করে নবম পে স্কেল বা মেগা-উড়োজাহাজ ক্রয়ের মতো বিষয়গুলো নির্বাচিত সরকারের ম্যান্ডেট অনুযায়ী হওয়া উচিত ছিল। এখন পরবর্তী সরকারকে শুরু থেকেই বড় ধরনের বাজেট ঘাটতি ও আইএমএফের কঠোর শর্তের মুখে পড়তে হতে পারে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ মুহূর্তের পদক্ষেপ দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে, যা নতুন সরকারের জন্য কঠিন বাজেট ও নীতি-নির্ধারণের পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।

