চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এনএসইজেড) নতুন বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং এমইপি হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক লিমিটেডের মধ্যে আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভূমি লিজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় বেজার কার্যালয়ে।
চুক্তি অনুযায়ী, এমইপি গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্রায় ১০ একর জমিতে অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন ক্লাস্টার স্থাপন করবে। প্রকল্পটির দেশীয় বিনিয়োগ ধরা হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা। চুক্তিতে বেজার পক্ষে স্বাক্ষর করেছেন অতিরিক্ত সচিব ও নির্বাহী সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) সালেহ আহমদ। এমইপি গ্রুপের পক্ষে স্বাক্ষর করেছেন চেয়ারম্যান শকিল আলম চাকলাদার।
প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ শুরু হবে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে এবং ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে ২০২৯ সালের জানুয়ারি থেকে। সম্পূর্ণরূপে চালু হলে এটি সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় দুই হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
বর্তমানে মিরসরাইয়ের জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ১৫টি শিল্প প্রতিষ্ঠান উৎপাদন চালাচ্ছে, আর আরও প্রায় ২০টি প্রতিষ্ঠান নির্মাণাধীন। উপকূলের প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে গড়ে ওঠা এই শিল্পাঞ্চলে শুধু শিল্প স্থাপনাই নয়, নগর সুবিধা নির্মাণেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রস্তাবিত শিল্প কারখানায় বৈদ্যুতিক তার, সুইচ-সকেট, ফ্যান, এলইডি লাইট, সার্কিট ব্রেকারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদিত হবে। এর মাধ্যমে দেশীয় বাজারে আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্য রয়েছে।
বেজার নির্বাহী সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) সালেহ আহমদ বলেন, “এমইপির মতো দেশীয় শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগ এনএসইজেডে দেশের আমদানি নির্ভরতা কমানো, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিনিয়োগকারীদের জন্য বেজার পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে।”
এমইপি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম চাকলাদার জানান, “বেজার সহযোগিতায় পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প স্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই প্রকল্প দেশের বৈদ্যুতিক পণ্যের আমদানি বিকল্প তৈরি করবে এবং ভবিষ্যতে রপ্তানি বাজারে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।”

