চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার ১১৩ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ছয় মাস শেষে ডিসেম্বর পর্যন্ত ঘাটতি ছিল প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, এই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। তবে রাজস্ব আদায়ের ঘাটতি ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে।
এনবিআরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই-জানুয়ার মধ্যে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৮৩ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা। কিন্তু বাস্তবে রাজস্ব আয় হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা। এটি গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১২.৯০ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরে একই সময়ে আদায় হয়েছিল ১ লাখ ৯৮ হাজার ৯১ কোটি টাকা।
পরিসংখ্যান বিভাগ জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে সবচেয়ে বড় ঘাটতি হয়েছে আয়কর খাতে। এই খাতে ঘাটতি হয়েছে ২৮ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। আমদানি শুল্কে ঘাটতি ১৫ হাজার ৬৮৩ কোটি এবং ভ্যাট খাতে ১৫ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা।
আয়কর খাতের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৩ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা, তবে আদায় হয়েছে মাত্র ৭৫ হাজার ৫৫ কোটি টাকা। আমদানি-রপ্তানি শুল্কে ৭৮ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৬২ হাজার ৮১৪ কোটি টাকা।
ভ্যাটের আদায় তুলনায় ভালো, এতে ৮৫ হাজার ৭৬৯ কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা।
একক মাস হিসেবে জানুয়ারি মাসেও রাজস্ব আদায়ে মন্দা দেখা দিয়েছে। এ মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫২ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে মাত্র ৩৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকা। ঘাটতি প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা।
জানুয়ারি মাসে আয়করের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা, আদায় হয়েছে ১৩ হাজার ১৭৫ কোটি। ভ্যাটে লক্ষ্য ২০ হাজার ৪৭৬ কোটি, আদায় ১৫ হাজার ২৭৭ কোটি। শুল্কে লক্ষ্য ১৩ হাজার ৪৯৫ কোটি, আদায় ৮ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরের শুরুতে এনবিআরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। পরে ১০ নভেম্বর বাজেট মনিটরিং ও সম্পদ কমিটি এটি বাড়িয়ে ৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা করেছে।

