দেশে ব্যবসা পরিচালনার খরচ কেন বাড়ছে, ব্যবসায়ীরা কী ধরনের প্রশাসনিক জটিলতায় পড়ছেন এবং ব্যবসা সহজ করতে কী পদক্ষেপ প্রয়োজন—এসব বিষয়ে ব্যবসায়ী নেতাদের কাছে পরামর্শ চেয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-এর প্রেসিডেন্ট মাহমুদ হাসান খান বাবুর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানে তারা খাতভিত্তিক নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এ সময় অর্থমন্ত্রী এসব সমস্যা সমাধানে ব্যবসায়ী নেতাদের কাছ থেকে সুপারিশ চান।
বৈঠকে উপস্থিত পোশাক খাতের তিনজন নেতা এ তথ্য জানিয়েছেন।
বিজিএমইএর পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলেন, তারা অর্থমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, প্রণোদনার চেয়ে ব্যবসা সহজ করা এবং পরিচালন ব্যয় কমানোর জন্য নীতিগত সহায়তা বেশি জরুরি। জবাবে অর্থমন্ত্রী জানতে চান, কী কী সমস্যা রয়েছে এবং সেগুলোর সমাধান কীভাবে সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যবসা সহজ করা এবং ব্যবসার খরচ কমানোর উপায় নিয়ে একটি নীতিপত্র অর্থমন্ত্রীর কাছে দেওয়া হবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিজিএমইএর আরেক পরিচালক জানান, কাস্টমস সংক্রান্ত খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। বিষয়টি তারা অর্থমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, সরকার বন্দরের খরচ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে কাস্টমসে অবৈধ ব্যয়ও বেড়েছে।
প্রসঙ্গত, আমদানি ও রপ্তানির ক্ষেত্রে কাস্টমস ও বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে কাস্টমসে হয়রানি এবং অবৈধ অর্থ দিতে বাধ্য করার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছেন ব্যবসায়ীরা।
বিশেষ করে বন্ড লাইসেন্স গ্রহণ, কাঁচামালের অনুমোদন নেওয়া, ব্যবহার অনুমতি সংগ্রহ এবং নিরীক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়মিত ঘুষ দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত বিজিএমইএর আরেক নেতা বলেন, ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী মন্তব্য করেছেন, গার্মেন্টস খাতকে আর কত সহায়তা দেওয়া সম্ভব। অন্য খাতগুলো থেকে বলা হচ্ছে, সরকার শুধু গার্মেন্টস খাতকেই সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে।
সভায় বিজিএমইএর নেতারা জানান, প্রায় এক বছরের প্রণোদনার অর্থ আটকে আছে। এর পরিমাণ প্রায় আট হাজার কোটি টাকা। তারা দ্রুত এই অর্থ ছাড় করার দাবি জানান।
অন্যদিকে নির্বাচন ও রমজানের ঈদ মিলিয়ে দুই মাসে বড় দুটি ছুটি থাকায় মোট ৩৫ দিন পোশাক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চলবে। এতে কারখানাগুলোর জন্য চলতি মূলধন সামাল দেওয়া কঠিন হবে বলে তারা জানান। এ কারণে এক মাসের সমপরিমাণ বেতনের জন্য প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার ঋণ সুবিধা চাওয়া হয়েছে, যা ১৫ মাসে পরিশোধ করা হবে।
এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

