২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন জমার সময় আরও বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন পেশা ও সংগঠনের পক্ষ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) আবেদন জমা পড়েছে। তবে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এখনও কোনো চূড়ান্ত সংকেত পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ ট্যাক্স ল’ ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএলএ) এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের কাছে ১৩টি কারণ তুলে ধরে রিটার্ন জমার সময় দুই মাস বাড়ানোর আবেদন করেছে। একই ধরনের অনুরোধ করেছে চট্টগ্রাম কর আইনজীবী সমিতি, তারা এক মাস সময় বৃদ্ধি চায়।
জাতীয় নির্বাচন ও অর্থনৈতিক সংকটসহ নানা কারণে এনবিআর ইতিমধ্যে তিন দফা রিটার্ন জমার সময় বৃদ্ধি করেছিল। আয়কর আইন অনুযায়ী, রিটার্ন জমার প্রাথমিক শেষ দিন ছিল ৩০ নভেম্বর। ই-রিটার্নে পর্যাপ্ত সাড়া না পাওয়ায় এনবিআর প্রথমে সময় বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর, পরে ৩১ জানুয়ারি এবং শেষ পর্যন্ত ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়। চলতি বছর এই সময় শেষ হবে মাত্র তিন দিনের মধ্যে।
সংগঠন দুটির আবেদন অনুযায়ী সময় বাড়ানোর কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে— সার্ভার ডাউন বা ধীরগতি, ওটিপি কোড পাওয়া ঝামেলা, কাগজপত্র ও চালানের নম্বর ইনপুটে সমস্যা, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, নির্বাচন উপলক্ষে পাঁচ দিনের ছুটি, আয়কর আইনের ব্যাপক সংশোধন, দেরিতে কর পরিপত্র পাওয়া, দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক সমস্যা, করদাতা ও আইনজীবীদের ই-রিটার্নে দক্ষতার অভাব, দেশের অর্থনৈতিক সংকট, রমজান ও ঈদ উদযাপন এবং ই-রিটার্ন সার্ভারে নানা সমস্যা।
এনবিআর জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ৩৯ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দিয়েছেন। এছাড়া প্রায় তিন লাখ করদাতা অফলাইনে রিটার্ন জমা দিয়েছেন। গত বছর দেশে ৪৫ লাখ করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছিলেন। চলতি বছরে এনবিআরের ধারণা, রিটার্ন জমা দেওয়া ৫০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এনবিআরের কর্মকর্তারা জানান, এখন পর্যন্ত সময় বাড়ানোর বিষয়ে তারা ইতিবাচক নয়, কারণ ইতিমধ্যেই তিন দফা সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে নির্দেশনা এলে সময় আরও বাড়ানো সম্ভব। অন্য একটি সূত্র জানায়, এনবিআর চেয়ারম্যান শিগগিরই অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। সেখানে ই-রিটার্ন জমার সময় বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
আয়কর আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের পর রিটার্ন জমা দিলে জরিমানা দিতে হয়। সময়মতো রিটার্ন না দিলে বিনিয়োগের রেয়াত সুবিধা, করমুক্ত আয়, কম হারে কর দেওয়ার সুযোগ—all—হারাতে হয়। আইন অনুযায়ী, এনবিআর এক মাস পর্যন্ত সময় বাড়াতে পারবে। তবে মহামারি, দৈবদুর্বিপাক বা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সরকার অনুমোদন দিলে সময় আরও বাড়ানো সম্ভব।
রিটার্ন জমা দিতে হবে দুই ধরনের করদাতাকে—প্রথম, যাদের করযোগ্য আয় বছরে সাড়ে তিন লাখ টাকা ছাড়িয়েছে; দ্বিতীয়, যাদের জন্য রিটার্ন বাধ্যতামূলক, যেমন ৩৯ ধরনের সরকারি সেবা নিতে রিটার্নের প্রমাণ দেখাতে হয়। যারা ই-রিটার্নে নিবন্ধন সমস্যার কারণে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে পারছেন না, তারা আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপ-কর কমিশনারের কাছে আবেদন করতে পারবেন এবং অনুমোদন পেলে কাগজে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।
অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে করদাতা ব্যাংক ট্রান্সফার, ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদ বা অন্যান্য মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবেন। সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে রসিদ ও আয়কর সনদ প্রিন্টের সুবিধা দেয়।
রিটার্ন সময়মতো না দিলে উপ-কর কমিশনার সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ১০ শতাংশ জরিমানা আরোপ করতে পারেন। ন্যূনতম জরিমানা ১ হাজার টাকা। নির্ধারিত সময়ে কর পরিশোধ না করলে প্রতিদিন ৫০ টাকা করে অতিরিক্ত জরিমানা হতে পারে। এছাড়া, রিটার্ন দাখিল করেও বেআইনি কার্যকলাপের ক্ষেত্রে আলাদা জরিমানা আছে।
সময়মতো রিটার্ন না দিলে অন্তত ছয় ধরনের সুবিধা হারাতে হয়— কর অব্যাহতি, করমুক্ত আয়, হ্রাসকৃত কর হার, বিনিয়োগজনিত রেয়াত সুবিধা, অতিরিক্ত কর পরিশোধ এবং নির্ধারিত জরিমানা। নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা না দিলে করদাতাদের ব্যাংকিং ও ট্রেড লাইসেন্স সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

