রমজানের ইফতারের অন্যতম আভিজাত্য হলো তাজা ফল। তবে গত কয়েক দিনে বিদেশি ফলের সঙ্গে দেশি ফলের দামও হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ক্রেতাদের জন্য বাজার ক্রয়যাত্রা কঠিন হয়ে উঠেছে। রাজধানীর কয়েকটি বাজার শুক্রবার দেখা গেছে, ক্রেতারা মানভেদে প্রতি কেজিতে ২০ থেকে ৭০ টাকা বেশি খরচ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
বিদেশি ফলের দামও বাড়ছে:
রোজার শুরুতে বিদেশি ফলের বাজার দাম বেশ উঁচু ছিল। কিছুটা কমে যাওয়ার পর এখন আবার ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে আপেল এখন সাধারণ ক্রেতার জন্য বিলাসিতার পর্যায়ে। বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি আপেল বিক্রি হচ্ছে ৩৫০–৪০০ টাকায়; যা দু-তিন দিন আগে ৩০০–৩২০ টাকার মধ্যে ছিল।
কালো আঙুরের দামও কেজিতে ৫০ টাকা বেড়েছে। আগে ৫০০–৫৫০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন ক্রেতাকে খরচ করতে হচ্ছে ৬০০–৬২০ টাকা। অন্যদিকে সবুজ ও সাদা আঙুরের দাম আগের মতো ৪০০–৪২০ টাকায় স্থিতিশীল। কমলা ও মাল্টার বাজারও প্রায় অপরিবর্তিত; প্রতি কেজি কমলা বিক্রি হচ্ছে ২৮০–৩২০ টাকায়, মাল্টা ৩১০–৩২০ টাকায়।
দেশি ফলও আর সস্তা নয়:
দেশি ফলের মধ্যে কলার দাম আগের চেয়ে অনেক বেশি। রোজার শুরুতে বাংলা কলার প্রতি ডজন ১৪০–১৬০ টাকায় বিক্রি হতো। কিছুদিনের জন্য দাম কমে ডজনে ১১০–১২০ টাকায় নেমেছিল। এখন আবার দাম বেড়ে ১৫০–১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সাবরি কলার দামও পুনরায় ১৫০–১৬০ টাকায় পৌঁছেছে। চম্পা কলার প্রতি ডজন ৯০–১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা দুদিন আগে ৭০–৮০ টাকায় ছিল। পেঁপের দামও ঊর্ধ্বমুখী, মাঝারি মানের পেঁপে এখন প্রতি কেজি ১৪০–১৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বরইর দাম আগের মতোই, প্রতি কেজি ১১০–১৩০ টাকা; রোজার আগে এটি ৮০–৯০ টাকায় বিক্রি হতো।
তরমুজের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি:
তরমুজের মৌসুম এখনও শুরু হয়নি। বাজারে আসা তরমুজগুলো পরিপক্ব নয়। কৃষক পিসে বিক্রি করলেও খুচরা ব্যবসায়ীরা কেজি অনুযায়ী দামের হিসাব করছেন। রোজার শুরুতে কেজি দরে তরমুজ বিক্রি হত প্রায় ৮০ টাকায়। হঠাৎ গতকাল দাম ৭০–১০০ টাকায় পৌঁছেছে।
কারওয়ান বাজারের ফল ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম বলেন, “মোকামে আমদানি কিছুটা কমেছে। পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই খুচরা দামের ঊর্ধ্বগতি ঘটেছে।”

