চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে উন্নয়ন সহযোগীরা যে পরিমাণ ঋণ ও অনুদান ছাড় করেছে, সরকারের তার চেয়ে বেশি অর্থ ঋণের সুদ ও আসল বাবদ পরিশোধ করতে হয়েছে। জুলাই-জানুয়ারি সময়ে উন্নয়ন সহযোগীরা ঋণ ও অনুদান বাবদ মোট ২৬৪ কোটি ডলার ছাড় করলেও সরকারের পরিশোধ হয়েছে প্রায় ২৬৮ কোটি ডলার।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। ইআরডি গত বৃহস্পতিবার এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ঋণ ও অনুদান ছাড়ের পরিমাণ গত অর্থবছরের একই সময়ে তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ কম। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে উন্নয়ন সহযোগীরা মোট ৩৯৪ কোটি ডলার ঋণ ও অনুদান ছাড় করেছিল।
বৃহত্তর বিশ্লেষণে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে জুলাই-জানুয়ারি সময়ে ঋণ বাবদ ছাড় হয়েছে প্রায় ২৪০ কোটি ডলার এবং অনুদান বাবদ প্রায় ২৪.৫ কোটি ডলার। এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে ঋণ ও অনুদান ছাড়ের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৩৬৭ কোটি ডলার ও ২৭ কোটি ডলার।
অন্যদিকে, সরকারের বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল বাবদ পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ঋণ ও সুদ বাবদ পরিশোধ হয়েছে প্রায় ২৬৮ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৪২ কোটি ডলার। এর মধ্যে আসল অর্থ পরিশোধ হয়েছে ১৭৯ কোটি ডলার এবং সুদ বাবদ ৮৯ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এটি যথাক্রমে ১৫৫ কোটি ডলার ও ৮৭ কোটি ডলার।
ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতির দিকেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থাগুলো ২২৭ কোটি ডলারের ঋণ-অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে ঋণ ২১৪ কোটি ডলার এবং অনুদান ১৩ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এটি ছিল ২৩৫ কোটি ডলার, যেখানে ঋণ ছিল ২০৪ কোটি ডলার এবং অনুদান ৩১ কোটি ডলার। মোটমাট, চলতি অর্থবছরে প্রতিশ্রুতি কমেছে প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ।
এই সময়ে এশীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাংক (এআইআইবি), চীন, জাপান, ভারত ও রাশিয়া নতুন কোনো ঋণ-অনুদানের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। সবচেয়ে বেশি প্রতিশ্রুতি এসেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে, যা প্রায় ১২৭ কোটি ডলার। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সফট লোন উইনডোখ্যাত আইডিএ সংস্থা প্রায় ২৬.৫ কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অন্য উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে এসেছে ২২৭ কোটি ডলারের সামান্য বেশি ঋণ-অনুদানের প্রতিশ্রুতি।

