গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার আরও কমেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী, জিডিপির বৃদ্ধির হার নেমে এসেছে ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশে। এর আগে সাময়িক হিসাব অনুযায়ী এই হার ছিল ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
গত অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের চূড়ান্ত বৃদ্ধির চেয়ে কম। ওই অর্থবছরের জিডিপি ৪ দশমিক ২২ শতাংশে দাঁড়িয়েছিল। বিবিএস বৃহস্পতিবার প্রকাশিত চূড়ান্ত হিসাবের সঙ্গে জিডিপি ও মাথাপিছু আয়ের পাশাপাশি সামষ্টিক অর্থনীতির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সূচকও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অর্থবছরের প্রথম দিকে ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ সরকার। তবে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করলে অর্থবছরের বেশিরভাগ সময়ই তারা দায়িত্বে ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকার ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শুরুতে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৮ শতাংশ নির্ধারণ করেছিল। পরে অন্তর্বর্তী সরকার নতুনভাবে লক্ষ্য ঠিক করে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ। কিন্তু চূড়ান্ত হিসাবে এই লক্ষ্যও অর্জন করা যায়নি।
গত ৫ অর্থবছরের মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে কম। উদাহরণস্বরূপ, ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৭ দশমিক ১০ শতাংশ, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে করোনা অতিমারির কারণে প্রবৃদ্ধি নেমে গিয়েছিল ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশে।
বিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মূল্যে গত অর্থবছরের জিডিপির আকার ৪৫৬ বিলিয়ন ডলার বা দেশীয় মুদ্রায় ৫৫ লাখ ১৫ হাজার ২৬ কোটি টাকা। সাময়িক হিসাবের তুলনায় এটি ছয় বিলিয়ন ডলার কম হলেও, আগের অর্থবছরের তুলনায় সমান পরিমাণে বৃদ্ধি।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, কৃষিতে প্রবৃদ্ধি সাময়িক হিসাবের তুলনায় বেড়েছে, কিন্তু আগের অর্থবছরের চেয়ে কম—২ দশমিক ৪২ শতাংশ। শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি সাময়িক হিসাবের তুলনায় কমলেও আগের অর্থবছরের চেয়ে বেশি—৩ দশমিক ৭১ শতাংশ। তবে সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি সাময়িক হিসাব ও আগের অর্থবছরের তুলনায় কমে ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশে নেমেছে।
চূড়ান্ত হিসাবে জিডিপিতে বিনিয়োগের অনুপাতও কমেছে। গত অর্থবছরে বিনিয়োগের হার দাঁড়িয়েছে ২৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ৩০ দশমিক ৭০ শতাংশ। দেশের সঞ্চয় ও জাতীয় সঞ্চয়ের হারও সামান্য কমেছে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে সামান্য। বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছরে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে ৩৩ ডলার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ২,৭৬৯ ডলার।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ড. এনামুল হক বলেন, “গত অর্থবছরে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও আন্দোলনের কারণে কিছু শিল্পকারখানা বন্ধ থাকায় জিডিপি প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে থাকতে পারে। তবে সাময়িক হিসাব থেকে চূড়ান্ত হিসাবের এত ব্যবধানের যুক্তিসংগত কারণ স্পষ্ট নয়।”

