গত তিন মাস ধরে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর ও চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের পর সদ্য শেষ হওয়া ফেব্রুয়ারিতেও দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। ফেব্রুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩০২ কোটি ডলার বা ৩ দশমিক শূন্য দুই বিলিয়ন। এক মাসে ৩ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করা ঘটনা দেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত চারবার ঘটেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে রেমিট্যান্সের প্রবাহ ক্রমশ বাড়তে থাকে। ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে গত বছরের মার্চে। সেই সময় ঈদুল ফিতরের আগে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৩২৯ কোটি ডলার। এরপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রবাসী আয় ছিল ৩২২ কোটি ডলার। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দেশে এসেছে ৩১৭ কোটি ডলার। ফেব্রুয়ারিতেও ৩০২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ২৫৩ কোটি ডলার। এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয়ের বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ১৯.৫ শতাংশ।
ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণত রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বেড়ে যায়। চলতি বছর রমজান শুরু হয়েছিল ফেব্রুয়ারির ১৮ তারিখে। এছাড়া ওই মাসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এসব কারণ ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। আগামী মার্চে ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হওয়ায় এ মাসেও প্রবাসী আয়ের উচ্চ প্রবাহ আশা করা যাচ্ছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে দেশে বৈধ পথে রেমিট্যান্স এসেছে ২,২৪৫ কোটি ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ১,৮৪৯ কোটি ডলার। অর্থাৎ, প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২১.৪ শতাংশ।
একক অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এসেছে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে। সেই সময়ে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৩,০৩২ কোটি ডলার। এর আগে সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল ২০২০-২১ অর্থবছরে, কভিড মহামারীর সময়ে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ২,৪৭৮ কোটি ডলার। ২০১৯-২০ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল ১,৮২০ কোটি ডলার। এরপর ২০২১-২২ অর্থবছরে ২,১০৩ কোটি, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২,১৬১ কোটি এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২,৩৯১ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক বৃদ্ধির কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও ইতিবাচক প্রভাব দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ ৩,৫০৩ কোটি ডলার। বিপিএম৬ হিসাব অনুযায়ী এটি ৩,০২৭ কোটি ডলার।
দেশের অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতিতেও বৈদেশিক মুদ্রার এ প্রবাহ অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অভ্যন্তরীণ মুদ্রানীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি ডলারের বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হচ্ছে এই রেমিট্যান্স প্রবাহ।

