সরকার ব্যক্তিগত করদাতাদের জন্য নতুন সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যার মাধ্যমে তারা বছরের যেকোনো সময়ে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবে। বর্তমান সিস্টেমে নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকলেও তা বারবার বৃদ্ধি করা হয়। নতুন প্রস্তাবটি এই নিয়মকে আরও নমনীয় করে তুলবে এবং অনুপ্রেরণামূলক সুবিধার মাধ্যমে সময়মতো কর দেওয়ার প্রবণতা বাড়াবে।
জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বিধান অনুযায়ী, কর রিটার্ন জমার প্রক্রিয়াটি আরও করদাতা বান্ধব করা হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, “সমস্ত করদাতার জন্য কঠোর সময়সীমার শর্তগুলো সরিয়ে দিয়ে প্রক্রিয়াটি সহজ করা হবে। তবে যারা আগেভাগে রিটার্ন জমাবেন তাদের জন্য প্রণোদনা থাকবে।” প্রস্তাবিত নতুন সিস্টেমে ব্যক্তিগত করদাতাদের জন্য চারটি স্তরের সুবিধা থাকবে।
-
প্রথম স্তর: অর্থবছরের প্রথম চতুর্থাংশে রিটার্ন জমানো করদাতাদের “আগেভাগে জমাদাতা” হিসেবে প্রণোদনা দেওয়া হবে।
-
দ্বিতীয় স্তর: দ্বিতীয় চতুর্থাংশে জমানো রিটার্নকে সাধারণ রিটার্ন হিসেবে গণ্য করা হবে; এতে কোন প্রণোদনা বা জরিমানা থাকবে না।
-
তৃতীয় স্তর: তৃতীয় চতুর্থাংশে জমা রিটার্নের ক্ষেত্রে সামান্য জরিমানা থাকবে।
-
চতুর্থ স্তর: চূড়ান্ত চতুর্থাংশে জমা রিটার্নের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি জরিমানা প্রযোজ্য হবে।
তবে এই চার স্তরের নিয়ম সেই করদাতাদের জন্য প্রযোজ্য হবে না যারা নির্দিষ্ট কর বছর শেষ হওয়ার আগে রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ হবেন। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “যদি সংসদ এই পরিকল্পনাটি অনুমোদন দেয়, তাহলে রিটার্ন জমার সময়সীমা বারবার বাড়ানোর ঝামেলা শেষ হবে।”
কিন্তু কর পরামর্শক জাহাঙ্গীর আলম মনে করেন, বর্তমান সিস্টেম যথেষ্ট কার্যকর। তিনি সতর্ক করেছেন, নতুন চার-স্তরের প্রস্তাব রিটার্ন জমার প্রক্রিয়াকে ধীর করতে পারে। তিনি বলেন, “যদি নিয়ম পরিবর্তন হয়, বড় করদাতারা তাদের কর টাকা ব্যাংকে রেখে সুদ উপার্জনের জন্য জমা দিতে দেরি করতে পারেন।”
এনবিআর-এর বিশেষ আদেশ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আয়কর আইন ধারা ৩২৮(৪) অনুযায়ী অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। নির্দিষ্ট কয়েকটি শ্রেণি ব্যতীত সকল ব্যক্তি করদাতার জন্য এটি প্রযোজ্য। যাদের অনলাইনে জমা দেওয়া সম্ভব নয়, তারা মার্চ ১৫, ২০২৬ এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট এক্সাইজ কমিশনারের কাছে আবেদন করতে পারবেন। অনুমোদিত হলে কাগজভিত্তিক রিটার্ন জমা দেওয়ার অনুমতি পাওয়া যাবে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, সময়সীমা অতিক্রম করলে বকেয়া করের ওপর মাসিক ২% সুদ প্রযোজ্য হয়। চলতি বছরও আইনজীবী ও বিভিন্ন গ্রুপের অনুরোধে এনবিআর চারবার রিটার্ন জমার সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে। ব্যক্তিগত করদাতাদের সর্বশেষ সময়সীমা হলো ৩১ মার্চ, ২০২৬।
এনবিআর-এর তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৩.৯ মিলিয়ন করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমিয়েছেন, আর প্রায় ০.৩ মিলিয়ন অফলাইনে। মোট ১২.৫ মিলিয়ন টিআইএন হোল্ডারের মধ্যে মাত্র ৩৩.৬% রিটার্ন জমিয়েছে।
চেয়ারম্যান জানান, অফলাইনে জমা হওয়া রিটার্নও দ্রুত ডিজিটাইজ করা হচ্ছে যাতে সব তথ্য একটি অভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংরক্ষণ করা যায়। আয়কর আইন অনুযায়ী, ব্যক্তি করদাতাদের প্রতি বছর নভেম্বর ৩০-এর মধ্যে রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কম জমার কারণে সময়সীমা মেনে চলা সম্ভব হয়নি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এবার থেকে বেশিরভাগ করদাতাকে আর ট্যাক্স অফিসে যেতে হবে না, কারণ অনলাইনে জমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

