প্রতিবছরের মতো এবারও রমজান শুরু হওয়ার আগেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করে। কিন্তু রোজার ১২ দিন পার হলেও বাজারে সেই বাড়তি দামের চাপ কমেনি। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ সবজি ও রমজান-সংক্রান্ত পণ্যের দাম এখনো চড়া।
সোমবার (২ মার্চ) কাঁচা মরিচের কেজি বিক্রি হয়েছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায়। বেগুন ও শসার কেজিও ১০০ টাকার ওপরে। হাইব্রিড শসা ও ক্ষীরার কেজি ১০০ টাকা, দেশি শসা ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং বেগুন ১০০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। টমেটোর কেজি ছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকা।
রমজানের শুরুতে দ্বিগুণ হয়ে যাওয়া লেবুর হালি এখনো ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কলার ডজন বিক্রি হয়েছে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায়। বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও দাম কমেনি বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
যদিও সবজির বাজারে চাপ রয়েছে, ফলের বাজারে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। রমজানের শুরুতে আপেলের কেজি ছিল ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা, মালটা ৩৪০, কমলা ৩৪০ থেকে ৩৫০, সবুজ আঙুর ৪২০ এবং কালো আঙুর ৬০০ টাকা। তবে সোমবার আপেল ৩৫০ থেকে ৩৮০, মালটা ৩০০, কমলা ৩৩০, সবুজ আঙুর ৪০০ এবং কালো আঙুর ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, কেজিতে ৩০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে।
খেজুরের বাজারে কোনো পরিবর্তন নেই। জাহিদি খেজুরের কেজি ২৬০ টাকা, বরই খেজুর ৫০০ থেকে ৫৫০, দাবাস ৬০০, সুক্কারি ৭০০ থেকে ৮০০, মরিয়ম ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ১৫০, আজোয়া ১ হাজার ২০০ এবং মেডজুল ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
টাউন হল বাজারের ফল বিক্রেতা মো. জসিম বলেন, রমজানে চাহিদা বাড়ায় খেজুরের দাম বেড়েছে। পাইকারি বাজারে দাম না কমায় খুচরা পর্যায়েও কমানো সম্ভব হচ্ছে না।
রমজানের শুরুতে ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৯০ থেকে ২০০ এবং সোনালি মুরগির কেজি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হয়। মাঝখানে কিছুটা কমলেও আবার দাম বেড়েছে। বর্তমানে ব্রয়লার ১৮০ থেকে ২০০ এবং সোনালি ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
হাতিরপুল বাজারের বিক্রেতারা জানিয়েছেন, চাহিদা ওঠানামার সঙ্গে দামও পরিবর্তিত হচ্ছে। তবে গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে। ডিমের ডজন ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রমজানকে কেন্দ্র করে মাছের দামও বেড়েছে। রুই ও কাতল মাছের কেজি ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা। কাজলি, ট্যাংরাসহ নদীর অন্যান্য মাছের কেজি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। তেলাপিয়া ২৩০ থেকে ২৫০ এবং পাঙাশ ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সব পণ্যের দাম বাড়েনি। আলু এখনো ২০ টাকা কেজি, ছোলা ৯০ থেকে ৯৫, চিনি ১০০ থেকে ১০৫, পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০, দেশি রসুন ১২০ এবং আমদানি করা রসুন ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আদা ১২০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি।
রমজানে চালের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় চালের দামও স্থিতিশীল রয়েছে। মিনিকেট ৭০ থেকে ৮৫, আটাশ ৬০ থেকে ৬৫ এবং মোটা চাল ৫২ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রমজানের মাঝামাঝি এসেও বাজারে তেমন স্বস্তি নেই। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও চাহিদা ও বাজার ব্যবস্থাপনার কারণে দাম উচ্চ অবস্থানে রয়ে গেছে। ক্রেতারা আশা করছেন, রোজার বাকি দিনগুলোতে অন্তত সবজি ও খেজুরের দামে কিছুটা স্বস্তি আসবে।

